রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া কাগজের নোটের পরিবর্তে প্লাস্টিকের নোট চালু করার পরিকল্পনা করছে। এতে মুদ্রার পরিভাষায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
RBI Plastic Notes In India : জলে ভিজবে না, ছেঁড়া যাবে না ! কাগজের বদলে এবার 'প্লাস্টিক নোট ' চালু হবে বাজারে ?
RBI Plastic Note Plan : সব ঠিকঠাক থাকলে শীঘ্রই পাওয়া যাবে এই নিয়ে সুখবর।

- রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া শীঘ্রই চালু করতে পারে প্লাস্টিক নোট।
- কাগজের নোট ছাপানো ও বাতিল করার খরচ কমাতে এই পদক্ষেপ।
- প্রাথমিকভাবে ১০ ও ২০ টাকার ছোট মূল্যের নোট দিয়ে পরীক্ষা।
- প্লাস্টিক নোটের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা কাগজের নোটের চেয়ে বেশি।
RBI Plastic Note Plan : বদলে যেতে পারে ভারতীয় মুদ্রার সব পরিভাষা। কাগজের বদলে এবার প্লাস্টিক নোট (Plastic Notes In India) চালু করতে পারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (Reserve Bank Of India)। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। সব ঠিকঠাক থাকলে শীঘ্রই পাওয়া যাবে এই নিয়ে সুখবর।
কেন এই সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক
মূলত, কাগজের নোট ছাপানো এখন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে অত্য়ন্ত খরচ সাপেক্ষ কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনিতেই আকাশছোঁয়া খরচ ও প্রতি বছর কোটি কোটি ময়লা বা ছেঁড়া নোট বাতিল করতে হয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে। সেই ঝক্কি থেকে মুক্তি সামলাতে এবার 'পলিমার ব্যাঙ্কনোট' (Polymer Banknotes) বা প্লাস্টিকের নোট চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। অতীতে এক দশক আগেও এই পরিকল্পনা ছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের। সেই প্ল্যান ফের ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)।
কোন সূত্রে এই খবর
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, পাটনা ও মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত আরবিআই-এর গত দুটি বোর্ড বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য একটি পাইলট প্রজেক্ট (Pilot Project) বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। প্রাথমিকভাবে ১০ এবং ২০ টাকার মতো ছোট মূল্যের নোটের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মতে, দৈনন্দিন জীবনে এই নোটগুলি সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয় ও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই পরীক্ষামূলকভাবে এই নোটগুলি দিয়েই কাজ শুরু হবে।
পলিমার বা প্লাস্টিকের ব্যাঙ্কনোট আসলে কী ? কাগজের নোটের থেকে কোথায় আলাদা ?
আপনারা এই নিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না। অনেকে 'প্লাস্টিক নোট' শুনে এটিকে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো শক্ত মনে করতে পারেন, কিন্তু আসলে তা নয়। এই নোটগুলি সাধারণ কাগজের বদলে একটি অত্যন্ত পাতলা নোট হবে। যা নমনীয় প্লাস্টিক সাবস্ট্রেট (Polymer Substrate)-এর ওপর ছাপানো হবে। এগুলি ওজনে অত্যন্ত হালকা, সহজে ভাঁজ করা যায় ও সাধারণ কাগজের নোটের মতোই ব্যবহার করা সম্ভব।
স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা: পলিমার নোটের প্রধান সুবিধা হল এর দীর্ঘদিন স্থায়িত্ব। এগুলিতে সহজে ধুলো-ময়লা লাগে না, জলে ভেজে না এবং সহজে ছেঁড়াও যায় না। ফলে কাগজের নোটের তুলনায় এগুলি অনেক বেশিদিন সচল থাকে। এছাড়া, এই নোটে স্বচ্ছ উইন্ডো, মাইক্রো-অপটিক হোলোগ্রাম ও বিশেষ কালির মতো উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা যায়, যা জাল বা জালিয়াতি করা প্রায় অসম্ভব করে তোলে।
কেন এখন প্লাস্টিক নোটের কথা ভাবছে RBI ?
ডিজিটাল পেমেন্ট বা ইউপিআই (UPI) লেনদেন রেকর্ড হারে বাড়লেও, দেশে কাগজের নোটের চাহিদাও কিন্তু কমেনি। গত ১৫ মে পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, বাজারে প্রচলিত নগদ অর্থের পরিমাণ রেকর্ড ৪২.৮৬ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। এই বিপুল পরিমাণ নগদ বজায় রাখতে গিয়ে আরবিআই-এর খরচ ও সমস্যা দুই-ই বাড়ছে:
নোট ছাপানোর বিপুল খরচ: ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কারেন্সি নোট ছাপানোর খরচ এক ধাক্কায় বেড়ে হয়েছে ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকা, যা তার আগের বছরে ছিল ৫,১০১.৪ কোটি টাকা।
নষ্ট হওয়া নোটের পাহাড়: ২০২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ২৩.৮ বিলিয়ন পিস ময়লা ও ছেঁড়া নোট বাজার থেকে তুলে নিতে হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২.৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ৫০০ টাকার নোটের সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি, তারপরেই ছিল ১০০ টাকার নোট। দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়ার কারণে প্লাস্টিক নোট ব্যবহারে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ পুনঃমুদ্রণ ও ব্যবস্থাপনার খরচ অনেকটাই বেঁচে যাবে।
ভারত কি এই চেষ্টা প্রথমবার করছে ?
তবে ভারতে এই প্রথম প্লাস্টিক নোটের পরিকল্পনা পথে হাঁটছে না। এর আগে ২০১২ সালে তৎকালীন সরকার দেশের পাঁচটি ভিন্ন ভৌগোলিক ও জলবায়ু অঞ্চলের শহর-কোচি, মহীশূর, জয়পুর, ভুবনেশ্বর এবং শিমলা-তে পরীক্ষামূলকভাবে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ১০ টাকার পলিমার নোট চালু করেছিল।
কিন্তু সেই সময় এটি সফল হয়নি। মূল সমস্যা ছিল প্রযুক্তিগত ও কর্মক্ষমতার অভাব। বিশেষ করে এটিএম (ATM) মেশিনগুলো এই প্লাস্টিক নোট সঠিকভাবে চিনতে এবং বিতরণ করতে পারছিল না। তবে বর্তমান আলোচনা অনুযায়ী, সেই সব কারিগরি খামতি এখন দূর হয়েছে এবং আধুনিক এটিএমগুলি কোনও সমস্যা ছাড়াই পলিমার নোট প্রসেস করতে সক্ষম।
আরও পড়ুন : অষ্টম বেতন কমিশনে কার কত স্যালারি বাড়বে ? রেলওয়ে দিল ৪০০ শতাংশের ফর্মুলা
Frequently Asked Questions
ভারতীয় মুদ্রার জগতে কি পরিবর্তন আসতে চলেছে?
কেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কাগজের নোটের পরিবর্তে প্লাস্টিকের নোট চালু করার কথা ভাবছে?
কাগজের নোট ছাপানো বর্তমানে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রতি বছর প্রচুর সংখ্যক বাতিল নোট বাতিল করতে হয়। প্লাস্টিকের নোট এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
প্লাস্টিক নোট কাগজের নোটের থেকে কীভাবে আলাদা?
প্লাস্টিক নোটগুলি পলিমার সাবস্ট্রেটের উপর ছাপা হয়, যা কাগজের নোটের চেয়ে পাতলা, হালকা এবং নমনীয়। এগুলি সহজে ভাঁজ করা যায় এবং কাগজের নোটের মতোই ব্যবহার করা যায়।
প্লাস্টিক নোটের স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা কেমন?
প্লাস্টিক নোটগুলি অনেক বেশি টেকসই, সহজে ময়লা হয় না, জলে ভেজে না এবং সহজে ছেঁড়ে না। এতে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা জালিয়াতি রোধ করে।
ভারত কি পূর্বে প্লাস্টিক নোট চালু করার চেষ্টা করেছে?
হ্যাঁ, ২০১২ সালে সরকার ১০ টাকার প্লাস্টিক নোট পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছিল, কিন্তু প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তা সফল হয়নি। তবে বর্তমানে সেই সমস্যাগুলি দূর হয়েছে।






















