Investment Plan : প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বাম্পার সুযোগ ! এই সরকারি স্কিমে প্রতি ৩ মাসে ৬১,৫০০ টাকা
Senior Citizen Savings Scheme : বর্তমান ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকেও এই স্কিমে সুদের হারে কোনো বদল করা হয়নি, অর্থাৎ এখনও মিলছে রেকর্ড ৮.২ শতাংশ হারে সুদ।

Senior Citizen Savings Scheme : অবসর জীবনের দিনগুলি নিশ্চিন্তে এবং আর্থিক স্বাধীনতার সাথে কাটানোর জন্য নিরাপদ বিনিয়োগের সন্ধান করেন সব প্রবীণ নাগরিকই। আপনিও যদি আপনার জমানো পুঁজি এমন কোথাও রাখতে চান যেখানে ঝুঁকি থাকবে শূন্য আর লাভ হবে চমৎকার, তবে কেন্দ্রের 'সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম' (SCSS) আপনার জন্য সেরা বিকল্প হতে পারে। বর্তমান ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকেও এই স্কিমে সুদের হারে কোনো বদল করা হয়নি, অর্থাৎ এখনও মিলছে রেকর্ড ৮.২ শতাংশ হারে সুদ।
এই সরকারি প্রকল্পে আপনি যদি একবার মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেন, তবে প্রতি বছর ২.৪৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত আয়ের সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, এই টাকা বছর শেষে নয়, বরং প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর (Quarterly) সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগে কীভাবে মিলবে লাখ লাখ টাকা ?
ধরা যাক, কোনো প্রবীণ নাগরিক এই স্কিমে সর্বোচ্চ সীমা অর্থাৎ ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলেন। বর্তমান সুদের হার অনুযায়ী তাঁর আয়ের হিসেবটি হবে ঠিক এইরকম:
মোট বিনিয়োগ: ৩০ লক্ষ টাকা
বার্ষিক সুদের হার: ৮.২ শতাংশ
ত্রৈমাসিক সুদ (প্রতি ৩ মাসে): ৬১,৫০০ টাকা
বছরে মোট সুদ: ২,৪৬,০০০ টাকা (২ লাখ ৪৬ হাজার)
যেহেতু এই স্কিমের মেয়াদ ৫ বছর, তাই অ্যাকাউন্ট রিনিউ না করেই একজন বিনিয়োগকারী টানা ৫ বছর ধরে প্রতি বছর ২.৪৬ লক্ষ টাকা করে মোট ১২.৩ লক্ষ টাকা শুধুমাত্র সুদ বাবদ আয় করতে পারবেন।
বিনিয়োগের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন সীমা কত?
সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমে (SCSS) বিনিয়োগের নিয়মগুলি অত্যন্ত সহজ:
সর্বনিম্ন সীমা: মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়ে এই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।
সর্বোচ্চ সীমা: একজন ব্যক্তি সব অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রাখতে পারবেন।
স্বামী-স্ত্রীর জন্য বিশেষ সুবিধা: স্বামী ও স্ত্রী চাইলে আলাদা আলাদা বা যৌথ (Joint) অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। দুজনেই যদি যোগ্য হন, তবে তাঁরা নিজেদের অ্যাকাউন্টে আলাদাভাবে ৩০ লক্ষ টাকা করে মোট ৬০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবেন।
অতিরিক্ত টাকা জমা পড়লে: যদি কেউ ভুলবশত নির্ধারিত সীমার বেশি টাকা জমা করে ফেলেন, তবে অতিরিক্ত টাকাটি ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়। তবে সেই বাড়তি টাকার ওপর শুধু পোস্ট অফিস সেভিংস অ্যাকাউন্টের হারে সুদ মিলবে।
কর ছাড় ও ট্যাক্সের নিয়ম (Tax Benefits)
এই স্কিম থেকে উপার্জিত সুদের টাকা সম্পূর্ণ করযোগ্য (Taxable)। তবে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আয়কর আইনের 'সেকশন 80TTB' (Section 80TTB) এর অধীনে স্বস্তি দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রবীণ ব্যক্তিরা সুদের আয়ের ওপর ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ট্যাক্স ডিডাকশন বা ছাড়ের দাবি করতে পারেন।
মেয়াদপূর্তি ও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম
মেয়াদ: এই স্কিমের মূল মেয়াদ ৫ বছর। তবে ৫ বছর পর বিনিয়োগকারী চাইলে মেয়াদের শেষ দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে আবেদন করে এই অ্যাকাউন্টের মেয়াদ আরও ৩ বছরের জন্য বাড়িয়ে নিতে পারেন।
অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা: ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে পুরো টাকা তুলে নেওয়া যায়।
অ্যাকাউন্টহোল্ডারের মৃত্যু হলে: দুর্ভাগ্যবশত যদি অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের মৃত্যু হয়, তবে অ্যাকাউন্টটি পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওই জমানো টাকার ওপর পোস্ট অফিস সেভিংস অ্যাকাউন্টের হারে সুদ দেওয়া জারি থাকে।
নিরাপদ ভবিষ্যৎ এবং প্রতি মাসে বা ৩ মাস অন্তর সুনিশ্চিত আয়ের জন্য পোস্ট অফিস বা যেকোনো অনুমোদিত ব্যাংকে গিয়ে আজই এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন প্রবীণ নাগরিকরা।























