Gold in Indian Households : টেক্কা দিতে পারবে USA-Russia-কেও, সোনা মজুতে রেকর্ড দেশের গৃহস্থগুলির
Gold Price Surge: ভারতের মতো দেশে সোনাকে যে শুধুই বিনিয়োগ মাধ্যম হিসাবে দেখা হয়, এমনটা নয়। বিনিয়োগের ঊর্ধ্বে গিয়ে লাইফস্টাইলেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নয়াদিল্লি : অর্থনৈতিক দিক থেকে কোন দেশের ভাঁড়ারে কত সোনা সেই নিয়ে যখন প্রবল মাথাব্যথা। ভাঁড়ারের ক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন দেশের মধ্যে চলে রেষারেষি। তবে ভারত যেন উল্টো স্রোত। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে সোনার পরিমাণ যেমন দিনে দিনে বাড়ছে। তেমন এই সোনা মজুতের দিক দিয়ে গোটা বিশ্বকে টেক্কা দিচ্ছে ভারতের গৃহস্থগুলি। এক একটি বাড়িতে যা সোনা রয়েছে, তার সম্মিলিত পরিমাণ টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি এবং রাশিয়ার মতো এগিয়ে থাকা দেশগুলির জাতীয় ভাঁড়ারকেও।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ মার্চ শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের স্বর্ণভান্ডারে সোনা মজুতের পরিমাণ ৬৬৪ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে ১৩০.৬৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যে। ভারতীয় মুদ্রায় বলতে গেলে, বর্তমানে দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের সোনা মজুত রয়েছে। এত গেল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কথা। বেশ কয়েকটি রিপোর্ট বলছে, RBI-এর মতো সোনার দিক থেকে নজর কাড়ছে দেশের গৃহস্থগুলিও।
সাধারণ ভাবে ভারতের মতো দেশে সোনাকে যে শুধুই বিনিয়োগ মাধ্যম হিসাবে দেখা হয়, এমনটা নয়। বিনিয়োগের ঊর্ধ্বে গিয়ে লাইফস্টাইলেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দেশের প্রায় প্রতিটি ঘরে-ঘরে এক কুচো হলেও সোনার দেখা মিলে যাবে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত খনি থেকে উত্তোলিত সোনার ১১ থেকে ১৬ শতাংশ মিলে যায় ভারতের গৃহস্থগুলিতেই। যার সম্মিলিত অঙ্ক টেক্কা দিতে পারবে বিশ্বের বড় বড় দেশের জাতীয় ভাঁড়ারকেও।
বিনিয়োগকারীদের মতে, সোনাকে কেন্দ্র করে দেশে চলা এই সংস্কৃতি আদতেই লাভদায়ক। যার জেরে অতীতেও দেখা গিয়েছে, কীভাবে প্রতিটি গৃহস্থে থাকা সোনার মূল্য দেশের মোট জিডিপিকেও ১০০ শতাংশের অধিক হারে টপকে গিয়েছে। শুধু তাই নয়,যদি ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান দেখা যায়, তা হলে লক্ষ্য করা যাবে ওই এক বছরে সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল মোট ৭৬ শতাংশ। এমনকি, যাঁরা রুপোর বাট কিনে রেখেছিলেন, তারা সবচেয়ে বেশি লাভের মুখ দেখেছিলেন। গত বছরে রুপোর দাম মোট বেড়েছে ১৭০ শতাংশ। এই রকম রিটার্ন শেয়ার বাজারও দিতে পারেনি। আবার যে সকল বিনিয়োগকারীরা সরসরি সোনার গহনা বা বাট না কিনে ETF কিনেছিলেন, তাঁরাও ভালই লাভের মুখ দেখেছেন। ২০২৫ সালে গোল্ড ETF গুলির দাম বেড়েছিল প্রায় ৫৮.৮১ শতাংশ।
সোনার দাম বেড়েছে বৃহস্পতিতেও। SSB-র পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল বিশুদ্ধ সোনার দাম পৌঁছে গিয়েছে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা প্রতি গ্রাম। ২২ ক্যারেট সোনা কেনার ক্ষেত্রে প্রতি গ্রামের দাম চলছে ১৩ হাজার ৯২৩ টাকা। আর বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি গ্রামের দাম চলছে ১৪ হাজার ৫৩৫ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনা প্রতি গ্রামের দাম চলছে ১১ হাজার ৯৩৫ টাকা।
সেরা শিরোনাম






















