Gold-Silver Price : আবার বাড়বে সোনা-রুপোর দাম? কোনটায় বিনিয়োগ করা শ্রেয়?
Gold-Silver Price Today: বিশ্বজুড়ে একটা অনিশ্চয়তা পরিস্থিতি। এক মাসে পা দিয়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ, তবু থামার নাম নেই। এদিকে আবার চড়চড়িয়ে বাড়ছিল তেলের দাম।

নয়াদিল্লি: ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে সোনা-রুপোর দাম। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার জেরে এই মূল্যবান ধাতুগুলির যে পরিণতি হয়েছিল, তা এখন কিছুটা সামাল দেওয়া গিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের ক্ষত কিছুটা নিরাময় হয়েছে বললে ভুল হবে না। তবে এই পরিস্থিতিতে আবার যখন একটু একটু মাথা চাড়া দিচ্ছে সোনা-রুপো, তখন আপনার কি করণীয়? কোন ধাতুতে বিনিয়োগ হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ?
প্রথমেই সপ্তাহ শেষে সোনা-রুপোর দামটা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। আজ, শনিবার ১ গ্রাম বিশুদ্ধ সোনার দাম চলছে ১৪ হাজার ৫৭৮ টাকা। ২২ ক্যারেট সোনা কিনতে গেলে ১ গ্রামের দাম পড়বে ১৩ হাজার ৮৫০ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনা ১ গ্রাম কিনতে গেলে দাম পড়বে ১১ হাজার ৩৭০ টাকা। আর রুপো, ১ কেজির দাম চলছে ২ লক্ষ ৩১ হাজার ৯০২ টাকা।
গতকাল অর্থাৎ শুক্রবারের তুলনায় বেশ খানিকটাই দাম বেড়েছে সোনা-রুপো উভয় ধাতুর। এই যেমন শুক্রবার ১ গ্রাম বিশুদ্ধ সোনার দাম ছিল ১৪ হাজার ২১২ টাকা। ২২ ক্যারেট ১ গ্রামের দাম ছিল ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। ১৮ ক্যারেট ১ গ্রামের দাম ছিল ১১ হাজার ০৮৫ হাজার টাকা। আর রুপো ১ কেজির দাম ছিল ২ লক্ষ ২৮ হাজার ৬৪০ টাকা। তবে সোনার এই বৃদ্ধি যে শুধু একদিনই হয়েছে এমনটা নয়, MCX বলছে, গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫.৩৬ শতাংশ দাম বেড়েছে সোনার। টাকার হিসাবে প্রায় ৭ হাজার টাকার ফারাক রয়েছে।
সোনা-রুপোর পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক, তা হলে প্রশ্ন আচমকা দাম কমছিল কেন? এর নেপথ্যে থাকতে পারে মোট তিনটি কারণ।
উচ্চ সুদের হার
বিশ্বজুড়ে একটা অনিশ্চয়তা পরিস্থিতি। এক মাসে পা দিয়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ, তবু থামার নাম নেই। এদিকে আবার চড়চড়িয়ে বাড়ছিল তেলের দাম। এই আবহে বিশ্বের বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তাঁদের সুদের হার কমানোর পরিবর্তে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলত বিশ্ববাজারে তৈরি হয় চাপ। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভও তাদের সুদের হার অপরিবর্তীত রাখে, ফলে বিশ্ববাজারে দাপট বাড়ে ডলারের। সোনা কেনার জন্য এই ডলারকেই ব্যবহার করে বিশ্বের অন্য দেশগুলি। আর আচমকা এমন ডলারের দাপট বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সোনা-রুপোর বাড়ে দূরত্ব। কেনার পরিবর্তে বিনিয়োগ করে রাখা সোনা-রুপো বিক্রি করে দিতে শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা। ফলত পড়তে থাকে দাম।
চাহিদা কমে রুপো
বিশ্ববাজার রুপোর মূল চাহিদা শিল্পক্ষেত্রগুলিতে। সোলার প্যানেল, বৈদ্যুতিন সামগ্রী-সহ নানা শিল্প কাজে রুপোর প্রয়োজন হয়। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, গোটা বিশ্বজুড়ে রুপোর ৬০ শতাংশ চাহিদা নির্ভর করে শিল্পক্ষেত্রের উপরেই। আর যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে অনেকটাই ব্যকফুটে পড়ে শিল্প-বাণিজ্য। ফলে চাহিদা কমে রুপোর।
স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের আচমকা এক্সিট
সোনা-রুপোর দাম বাড়তেই শর্ট-টার্ম বিনিয়োগকারীরা তাতে হুড়মুড়িয়ে বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই ঊর্ধ্বমুখী গতি একটু থামতেই আচমকাই বিনিয়োগ তুলে নেন তাঁরা। বিক্রি করে দেন বিনিয়োগ করা সোনা-রুপো। যার জেরে বিশ্ববাজারে এই দুই মূল্যবান ধাতুর দামে।
এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক, যুদ্ধ থামেনি, বিশ্ববাজারে হওয়া ক্ষত পুরোপুরি নিরাময় হয়েছে, এমনটাও নয়। তবে সোনা-রুপোর গ্রাফ অনেকটাই উপরের দিকে। তা হলে আপনার জন্য বিনিয়োগের কি এটা ভালো সময়? আর যদি বিনিয়োগ করতেই হয়, কোন ধাতুতে করা শ্রেয়? এই মর্মে INDMoney — যারা মার্কেট রিসার্চের কাজ করে, একটি অনুপাতের কথা তুলে ধরেছে। এই অনুপাত বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সহযোগিতা করতে পারে।
আরও পড়ুন : সপ্তাহ শেষে কোথায় পৌঁছল সোনার দাম? শনিবার চমকপ্রদ দামে কিনুন গয়নাগাটি
কী বলছে তাঁরা? INDMoney তাদের একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দামকে তার সমতুল্য প্রতি ১০ গ্রাম রুপোর দাম দিয়ে ভাগ করলে একটি অনুপাত পাওয়া যাবে। যা স্পষ্ট করে বর্তমানে দামে সমপরিমাণ সোনা কিনতে কত একক রুপোর প্রয়োজন। একেবারে সহজ করে বললে, যদি প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৬০ টাকা হয় এবং প্রতি কেজি রুপোর দাম ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হয়, তা হলে এই দুই সংখ্যার অনুপাত হবে প্রায় ৬২.২। অর্থাৎ এক ইউনিট সোনার দাম প্রায় ৬২টি ইউনিট সমতূল্য রুপোর দাম।
দেখা গিয়েছে, এই অনুপাত যখন ৮০-এর উপরে থাকে, তখন সোনার তুলনায় রুপোর দাম কম হয়। করোনার সময় এই অনুপাত ছিল ১২৫। সোনার দাম চড়ছিল চড়চড়িয়ে, রুপো ছিল নীচে। একই ভাবে যখন অনুপাতটি ৫০-এর নীচে থাকে, তখন সোনার দাম কমে, রুপোর দাম চড়ে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে এই অনুপাত ১০০-এর উপরে ছিল। যার জেরে সোনার তুলনায় রুপোর দাম ছিল অনেক কম। ২০২৬ সালের জানুয়ারি নাগাদ, রুপো সোনার তুলনায় ১৩৫ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত চড়ে যায়। সেই সময় এই অনুপাত ছিল একেবারে ৪৫-এর নীচে। এখন আবার এই অনুপাত এসে ঠেকেছে ৬০-এর ঘরে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এই অনুপাত ৭০ থেকে ৭৫ পর্যন্ত চলে যেতে পারে। ফলত সোনার দাম স্থিতিশীল হবে। এবার বিনিয়োগ করা প্রয়োজন সেই বুঝেই।
বিঃদ্র: মূল্যবান ধাতুর বাজার সহজাতভাবেই অত্যন্ত অস্থিতিশীল। এই তথ্যগুলির উপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ এবং কোনও ধরনের আর্থিক ক্ষতি বা বাজারের আকস্মিক পরিবর্তনের জন্য তথ্য সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
























