‘আমার ছেলে জানে যে তাঁর মা অফিস যায়’, কীভাবে এক হাতেই মাতৃত্বের দায়িত্ব ও NGO সামলাচ্ছেন ? জানালেন শ্লোক মেহতা
আম্বানি পরিবারে মাতৃত্বের দায়িত্ব এবং এনজিও 'কানেক্ট ফর' একসঙ্গে কীভাবে সামলে চলেছেন ? তা আলোচনা করেছেন শ্লোক মেহতা। তাঁর সংস্থা কানেক্টফর দেশব্যাপী স্বেচ্ছাসেবকদের বিভিন্ন এনজিওর সঙ্গে সংযুক্ত করে।

অলাভজনক এবং স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম ‘কানেক্টফর’-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজসেবী শ্লোক মেহতা আম্বানি সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এক বিরল ঝলক তুলে ধরেছেন। মাতৃত্ব কীভাবে গভীরতর অর্থপূর্ণতার প্রতি তাঁকে আরও বেশি করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে তুলেছে তা জানিয়েছেন শ্লোক মেহতা। ‘দ্য মাসুম মিনাওয়ালা’ শো-তে একটি খোলামেলা আলাপচারিতায় শিশুকে লালন-পালন এবং একটি লক্ষ্য-তাড়িত সংস্থা পরিচালনার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
সহ প্রতিষ্ঠাতা মানিতি শাহের সঙ্গে গত এক দশক ধরে কানেক্টফর তৈরি করেছেন শ্লোক যা ভারত জুড়ে ১ হাজারটিরও বেশি এনজিওর সঙ্গে ১ লক্ষেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবককে সংযুক্ত করেছে। এর ফলে ২১ কোটি টাকার সামাজিক প্রভাব গড়ে উঠেছে। শ্লোকা মেহতা আম্বানি তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন, আম্বানি পরিবারের কাছ থেকে যে অটল সমর্থন পেয়েছিলেন বিশেষত মাতৃত্ব ও সামাজিক ক্ষেত্রে তাঁর কাজ উভয় ক্ষেত্রেই তিনি যে সমর্থন পেয়েছিলেন তার জন্য আন্তরিকভাবে তিনি কৃতজ্ঞ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কানেক্টফরের সহ প্রতিষ্ঠাতা থেকে শুরু করে পেশাদার এবং ব্যক্তিগত ভূমিকার ভারসাম্য রক্ষা পর্যন্ত তাঁর কোনও অর্জনই পরিবারের উৎসাহ এবং বিশ্বাস ছাড়া সম্ভব হত না। ‘আমার ছেলের বয়স মাত্র ২ বছর, কিন্তু আমার মনে হয় সে ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছে যে তাঁর মা অফিসে যায়’ শ্লোকা জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ যে তাঁর বাবা-মা দুজনকেই কাজে যেতে দেখা যাবে এবং আমরা সকলেই নিজেদের উন্নতির জন্য কিছু করছি’। শ্লোক উল্লেখ করেন যে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা, যার মধ্যে স্বামী আকাশ আম্বানি এবং তাদের বর্ধিত পরিবারও রয়েছে, তাঁর সমস্ত কাজেই গর্ববোধ করেন।
আলাপচারিতায় শ্লোক হাসতে হাসতেই বলেন, ‘আমাদের বাবা-মা খুবই গর্বিত। আমাদের স্বামীরা এখন খুব গর্ব করে বলে যে আমার স্ত্রী এই কাজ করে। তারা আমাদের আগের চেয়েও অনেক ভালভাবে প্রচার করে।’ তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই পারিবারিক সমর্থন তাঁকে ‘কানেক্টফর’ তৈরি করতে, একটি সন্তানকে লালন-পালন করতে এবং আত্মবিশ্বাস ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে তাঁর লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম করেছে।
শ্লোক মেহতা প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স থেকে আইন ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে তাঁর গবেষণাপত্র সামাজিক ক্ষেত্রের বিষয়গুলিতে মনোনিবেশ করেছে, যা জনহিতকর এবং তৃণমূল স্তরের বিষয়গুলিতে শ্লোকের দীর্ঘস্থায়ী আগ্রহকেই প্রতিফলিত করে। শ্লোকের মতে, ‘ঘর থেকেই শুরু হয় জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের প্রতি মমত্ববোধ’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আপনি একজন গৃহিণী হোন, বা উদ্যোক্তা হোন বা কর্পোরেটে চাকরিরতা, এটা সবই আদপে কাজ। এমন নয় যে কোনও কাজ ঘণ্টা হিসেবে পরিমাপ করা হয় না বলে সেটির গুরুত্ব তুলনায় কম’।
দুই মহিলাই বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই মা হন। কিন্তু ব্যক্তিগত সাফল্যের পথে এগিয়ে গেলেও তারা নিশ্চিত করেছিলেন যে এই প্ল্যাটফর্মটি যেন কখনও থেমে না যায়। শ্লোক বলেন, ‘গত দশ বছরে এমন একটি দিনও আসেনি যখন কানেক্টফর বন্ধ ছিল’। অনুপ্রেরণা সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্লোক বলেন, ‘আমি চাই আমার সন্তান জানুক যে আমি কোনও কিছুর প্রতি আগ্রহী ছিলাম, আর আমি তা অনুসরণ করেছিলাম। এবং আমি চাই সেও একই কাজ করুক’।
কানেক্টফরের লক্ষ্য কী
শ্লোক এবং মানিতী শাহ অলাভজনক খাতে কর্পোরেট ধাঁচের পেশাদারিত্ব আর কঠোরতা আনার জন্য কানেক্টফর ডিজাইন করেছেন, স্থায়ী সামাজিক প্রভাবের জন্য মানবিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়ে দক্ষতার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তাঁর দুজনেই জোর দিয়ে বলেন যে কেবলমাত্র অটোমেশন নয়, প্রকৃত সংযোগই দীর্ঘমেয়াদি বদল আনতে পারে।
এখনও পর্যন্ত কানেক্টফর ১ হাজারটিরও বেশি এনজিওর সঙ্গে সংযুক্ত করেছে ১ লক্ষেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবককে। এর ফলে এই খাতের প্রায় ২১ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। তাঁর প্রাথমিক যাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিল তা ব্যাখ্যা করেছেন শ্লোক, নিজেরা কীভাবে এনজিওগুলিতে গিয়ে গিয়ে, নিজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন তিনি। শ্লোক জানান, ‘আমরা নিজেরাই এনজিওগুলিকে ডেকেছিলাম, স্বেচ্ছাসেবকদের সংযুক্ত করার জন্য গুগল ফর্মও প্রস্তুত করেছিলাম’।
বিয়ে করে মা হওয়া সত্ত্বেও শ্লোক বা সহ প্রতিষ্ঠাতা মানিতী শাহ কেউই কানেক্টফরকে থামতে দেননি। বছরের পর বছর ধরে তারা কানেক্টফর সম্পর্কে খুব বেশি কিছু প্রকাশ্যে বলেননি। কিন্তু এর পরিধি বৃদ্ধি এবং স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে জনসাধারণকে আগ্রহ বৃদ্ধির সঙ্গে তারা অনুভব করেছেন যে এটিই আসল সময় প্রকাশ্যে আনার কানেক্টফরের যাত্রা ও অস্তিত্ব।






















