গণবিবাহ থেকে মন ছুঁয়ে যাওয়া ভজন: আম্বানি পরিবারের বিবাহ, জাঁকজমক আর আনন্দের মিশেল
আম্বানি পরিবারের সদস্যের বিয়ে মানে দুটি মানুষের মিলনের থেকেও বেশি কিছু। সেই অনুষ্ঠান ভারতীয় ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য মিশেল,যা নানা ধরনের সাংষ্কৃতিক গুরুত্ববহ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করা হয়।

আম্বানি পরিবারে বিবাহের উদযাপন শুরু হয় ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে। সমাজের পিছিয়ে পড়া ৫০ যুগলকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে আয়োজন করা হয়েছিল সামুহিক বিবাহ বা গণবিবাহের অনুষ্ঠান। নবি মুম্বইয়ের রিলায়েন্স কর্পোরেট পার্কে অনুষ্ঠিত এই গণবিবাহে আমন্ত্রিত ছিলেন ৮০০ জনেরও বেশি অতিথি । "মানব সেবা হি মাধব সেবা" অর্থাৎ মানুষের সেবার মাধ্যমে ঈশ্বর আরাধনার চেতনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান। সেদিন নবদম্পতিদের আশীর্বাদ করতে হাজির ছিল পুরো আম্বানি পরিবার। তুলে দেন উপহার, জানান শুভেচ্ছা।
আম্বানি পরিবারের উদারতা সেখানেই থেমে থাকেনি। তিন সপ্তাহ ধরে, বিবাহ অনুষ্ঠান চলাকালীন আয়োজন করা হয় বৃহৎ এক ভাণ্ডারার। কমিউনিটি রান্নাঘরে প্রতিদিন ১,০০০ জনেরও বেশি মানুষের জন্য খাবার রান্না হয়। এই উদ্যোগটি আম্বানিদের সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য নিদর্শন। তাঁদের ভাবনা ছিল, বিয়ের উদযাপনের সময় কেউ যেন গরম গরম খাবার থেকে বঞ্চিত না হয়।

পবিত্র আচার-অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
আম্বানি পরিবারের সদস্যের বিয়ে মানে দুটি মানুষের মিলনের থেকেও বেশি কিছু। সেই অনুষ্ঠান ভারতীয় ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য মিশেল,যা নানা ধরনের সাংস্কৃতিক গুরুত্ববহ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করা হয়। আয়োজন করা হয় গুজরাতি পরিবারে বিয়ের অনুষ্ঠানের অন্যতম রীতি ‘মোসালু’। সেখানে পাত্রের মামা, বর-কনেকে বিয়ের আগে ‘মামেরু’অর্থাৎ উপহারসামগ্রী তুলে দেন ও আশীর্বাদ করেন। এছাড়াও বিয়ে উপলক্ষ্যে নীতা আম্বানির নেতৃত্বে পরিবেশিত হয় ভক্তিমূলক নৃত্যনাট্য "ভ্যালি অফ গডস"। এর মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে ওঠে ভারতীয় আধ্যাত্মিকতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। জামনগর মন্দির কমপ্লেক্সে পরিবেশিত, এই নৃত্যানুষ্ঠান মায়ের ভালবাসা ও ঐশ্বরিক আবেগের প্রকাশ।
অন্যান্য প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল গ্রহ শান্তি । এই অনুষ্ঠানে ভগবান গণেশ এবং নয় গ্রহকে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি পুজো করা হয়। পিঠি বা হলুদ অনুষ্ঠান বিয়ের উদযাপনে আনন্দ,রং এবং গভীর সাংস্কৃতিক অনুরণন যোগ করে। হলুদ অনুষ্ঠান পরিবারের মানুষগুলোকে একত্রিত করে। হাসি, আনন্দের মাধ্যমে বন্ধন দৃঢ় করে। সেই সঙ্গে দম্পতির ভবিষ্যতের পথ সুগম করতে ভজন এবং শিবশক্তির আরাধনা করা হয়।

সঙ্গীত,আনন্দ ও চূড়ান্ত অনুষ্ঠান
জাঁকজমকপূর্ণ সঙ্গীত অনুষ্ঠানে মুকেশ এবং নীতা আম্বানির নেতৃত্বে নাচে-গানে-আনন্দে মেতে ওঠেন পরিবারের মানুষরা। উৎসবের আনন্দে তা বাড়তি মাত্রা যোগ করে। এরপর গুরুজন এবং আধ্যাত্মিক গুরুদের উপস্থিতিতে পবিত্র অগ্নিকে সাক্ষী রেখে, বৈদিক রীতিনীতি অনুসরণ করে,যুগলের বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এই বিয়ে যেন আনন্দ, উল্লাস, সঙ্গীত, নৃত্যে গাঁথা , সুন্দর মুহূর্তে ভরা উৎসবের মধুরেণ সমাপয়েৎ।
মূল অনুষ্ঠানের পরে, তিন দিন ধরে চলে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান। বন্ধুবান্ধব, বৃহত্তর পরিবার, সহযোগী এবং অংশীদারদের কথা মাথায় রেখে আলাদা আলাদা অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আম্বানিদের বিভিন্ন বাসভবন যেমন অ্যান্টিলিয়া, সি উইন্ড, করুণা সিন্ধু এবং অন্যান্য বাড়িতে যাঁরা কর্ম-সহায়ক হিসেবে নিযুক্ত, তাঁদের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানটি ছিল সবথেকে মর্মস্পর্শী। আমন্ত্রিতদের মধ্যে ছিলেন আম্বানিদের গৃহকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, সচিবালয়ের কর্মী, অপারেশন এবং রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত সদস্যরা। পরিবারের কাজ সুন্দর ভাবে সম্পাদিত করেন যাঁরা নেপথ্যে থেকে, তাঁদের সম্মান জানাতে এ এক দারুণ উদ্যোগ। তাঁদের পরিবারের মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি জানানোর একটি অনন্য ভাবনা।
আম্বানিদের তরফে গণবিবাহর আয়োজনই হোক বা ভক্তিমূলক নৃত্যানুষ্ঠান, হলুদ অনুষ্ঠান হোক বা অতিথি অভ্যর্থনা, সব ক্ষেত্রেই প্রতিফলিত তাঁদের পরিবারের ঐতিহ্য, মানবিক চিন্তা এবং আন্তরিকতা।






















