Vodafone Idea Dues: ৮৭ হাজার ৬৯৫ কোটির বকেয়া মেটাতে আরও সময় পেল Vodafone Idea, নতুন করে সুদ-জরিমানাও চাপবে না, সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
Vodafone Idea AGR Dues: Vodafone Idea-র বকেয়া মকুব করা যায় কি না, এর আগে তা বিবেচনা করে দেখতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

নয়াদিল্লি: টেলিকম সংস্থা Vodafone Idea-র জন্য সুখবর। বকেয়া টাকা মোটানোর জন্য তাদের বাড়তি সময় দিল কেন্দ্রীয় সরকার। এবং ওই বর্ধিত সময়ে কোনও সুদ ও পেনাল্টিও দিতে হবে না তাদের। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হল। অর্থাৎ ঋণ মকুব না হলেও, টাকা মেটানোর জন্য আরও বাড়তি সময় পেল Vodafone Idea. ২০৩২ অর্থবর্ষ থেকে ২০৪১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত, ১০ বছর সময়সীমার মধ্যে বকেয়া ৮৭ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা মেটাতে হবে তাদের। (Vodafone Idea AGR Dues)
Vodafone Idea-র বকেয়া মকুব করা যায় কি না, এর আগে তা বিবেচনা করে দেখতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র, সেই থেকেই চলছিল জল্পনা। অবশেষে বুধবার Vodafone Idea-কে বর্ধিত সময় দিতে রাজি হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। পাঁচ বছরের 'মোরেটোরিয়ম' মঞ্জুর করেছে কেন্দ্র, অর্থাৎ এখনই বকেয়া ৮৭ হাজার ৬৯৫ কোটি মেটাতে হবে না Vodafone Idea-কে। তবে ২০১৮এবং ২০১৯ অর্থবর্ষের বকেয়া টাকা ২০২৬ থেকে ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যেই মিটিয়ে দিতে হবে তাদের। সেক্ষেত্রে শর্তাবলীতে কোনও হেরফের হচ্ছে না। (Vodafone Idea Dues)
এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, Adjusted Gross Reveneue বাবদ বকেয়া 'ফ্রিজ' হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছর বকেয়া টাকার উপর কোনও বাড়তি সুদ, পেনাল্টি চাপবে না। ২০৩১ সাল থেকে বকেয়া টাকা মেটানোর কাজে হাত দিতে হবে Vodafone Idea-কে। ফলে নেটওয়র্ক থেকে পরিষেবার গুণমানের উপর জোর দিতে পারবে তারা। নতুন করে ব্যবসাকে মজবুত করার চেষ্টা করতে পারবে।
তবে কেন্দ্রের তরফে স্বস্তির খবর এলেও, শেয়ার বাজারে Vodafone Idea-র পতন অব্যাহত। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের তরফে স্বস্তি দেওয়া হলেও, ব্যবসায় পরিবর্তন ঘটা না পর্যন্ত শেয়ার বাজারে ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে সংস্থার। এর পর Vodafone Idea কী পদক্ষেপ করে, তাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
Vodafone Idea-র উপর বকেয়া মেটানোর চাপ রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরেই। AGR বাবদ মোট ৮৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বকেয়া আছে তাদের। ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে প্রতি বছর ১৮ হাজার কোটি টাকা করে মেটানোর কথা ছিল তাদের। কিন্তু আর্থিক সহায়তা ছাড়া তাদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই মুশকিল বলে জানিয়েছিল Vodafone Idea. ব্যাঙ্কের তরফে তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনীহা চোখে পড়ছিল। সেই অবস্থায় সংস্থাটি রীতিমতো ধুঁকছিল।
এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি কিছুটা স্বস্তি পায় Vodafone Idea. কয়েক সপ্তাহ আগেই সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সুদ-পেনাল্টি নিয়ে সংস্থার মোট বকেয়া সমীক্ষা করে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্র। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে টেলিকমিউনিকেশন্স বিভাগের কাছে পেনাল্টি ও সুদবাবদ ৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা মাফ করার আর্জি জানায় Vodafone Idea. তাদের দাবি ছিল, ওই টাকার বড় অংশ ২০১৭ সালের আগের, ২০২০ সালেই যার নিষ্পত্তি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা পোস্ট-মার্জার ঋণ এবং ৫ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা প্রি-মার্জার ঋণ।
এর আগে, চলতি বছরের মার্চ মাসে Vodafone Idea-র বকেয়া ৩৬ হাজার ৯৫০ কোটিকে ইক্যুইটিতে রূপান্তরিত করে কেন্দ্র, ফলে সংস্থায় তাদের অংশীদারিত্ব বেড়ে হয় প্রায় ৪৯ শতাংশ। এই মুহূর্তে Vodafone Idea-র সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ১.৯৮ কোটি। সরাসরি সংস্থায় চাকরি করেন ১৮ হাজারের বেশি কর্মী। তাঁরাও কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি পেলেন। দিল্লি সূত্রে খবর, সরকার নিজের ৪৯ শতাংশ অংশীদারিত্ব সুরক্ষিত রাখতে চায় যেমন, তেমনই টেলিকম সেক্টরে সুস্থ প্রতিযোগিতাও বজায় রাখার পক্ষপাতী। তাই সবদিক বিবেচনা করেই Vodafone Idea-কে বকেয়া মেটাতে বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে।






















