IMF: ভারতের প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও পাকিস্তানকে কেন সাহায্য করেছিল IMF ? আসল রহস্য ফাঁস হল এবার
International Monetary Fund: আইএমএফ জানিয়েছে যে পাকিস্তানকে দেওয়া অর্থনৈতিক সাহায্য পূর্ববর্তী চুক্তির অংশ ছিল এবং এতে স্বাভাবিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল।

International Monetary Fund: পাকিস্তানকে ঋণ দেওয়ার প্রশ্নে আইএমএফের বৈঠকে ভারত অসম্মত হয়েছিল, আর তারপরেও ভারতের প্রত্যাখ্যান উপেক্ষা করে ২০২৫ সালের মে মাসে ৭ বিলিয়ন ডলারের বর্ধিত তহবিল সুবিধের আওতায় পাকিস্তানকে (IMF) ১ বিলিয়ন ডলার ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি অনুমোদন করার সময় অপ্নেক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল মানিটরি ফান্ড। এর সঙ্গে ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্স লোন প্রোগ্রামের (International Monetary Fund) আওতায় পাকিস্তানকে ১.৪ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে।
এই সময় ভারত আইএমএফ বোর্ড মিটিংয়ে ভোট দেওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখে। এছাড়া আইএমএফের এই ফান্ড সম্পর্কে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে আইএমএফ কর্মসূচিতে পাকিস্তানের একটি খারাপ ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে এবং পাকিস্তান এই টাকা সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়ার জন্য কাজে লাগাতে পারে। অবশেষে এই বিষয়ে আইএমএফ নীরবতা ভাঙল। ভারতের বিরোধিতা সত্ত্বেও পাকিস্তানকে কেন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হল তা এবার ব্যাখ্যা করে জানাল আইএমএফ।
কী কারণে আইএমএফ পাকিস্তানকে সহায়তা করেছে
আইএমএফ জানিয়েছে যে পাকিস্তানকে দেওয়া অর্থনৈতিক সাহায্য পূর্ববর্তী চুক্তির অংশ ছিল এবং এতে স্বাভাবিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল। আর তাই ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ডের এক্সিকিউটিভ বোর্ড ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের ইএফএফ প্রোগ্রামের অনুমোদন করে এবং সেই সময়ে প্রথম পর্যালোচনা ২০২৫ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এমনটাই জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ডের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক জুলি কোজাক।
একই সময়রেখার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে আইএমএফ কর্মী এবং পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ইএফএফের প্রথম পর্যালোচনার বিষয়ে একটি কর্মী স্তরের চুক্তিতে পৌঁছেছেন। এরপরে এই চুক্তি এজেন্সির এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ৯ মে এজেন্সির এক্সিকিউটিভ বোর্ড সেই পর্যালোচনা সম্পন্ন করে আর তারপরেই পাকিস্তানকে তহবিল মঞ্জুর করা হয়।
আরও কী জানিয়েছে আইএমএফ
জুলি কোজাক বলেছেন, 'আমাদের এক্সিকিউটিভ বোর্ড দেখেছে যে পাকিস্তান সময়মত সমস্ত পরিকল্পিত সংস্কার সম্পন্ন করেছে। দেশটি অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকেও কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে। এই কারণে বোর্ড পরবর্তী কিস্তির অর্থ অনুমোদন করেছে।
আইএমএফ কোথা থেকে টাকা পায়
যে ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড অর্থনৈতিক সঙ্কটে থাকা দেশগুলিকে অর্থসাহায্য করে তারা কোথা থেকে টাকা পায় ? এই প্রশ্ন অনেকের মনেই রয়েছে। মূলত আইএমএফের অর্থের যোগান আসে তিনটি উপায়ে।
প্রথমত আইএমএফ যখন কোনও দেশকে ঋণ দেয়, তখন এর উপরে কিছু সুদও নেয়। এর বাইরে আইএমএফ কিছু ফি নেয় দেশগুলির থেকে। এই থেকেই আয় হয় ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ডের।
অনেক সময় যখন আইএমএফের অর্থের অভাব হয়, তখন তারা অন্যান্য ধনী দেশের থেকে ঋণ নেয় যাতে একটি অভাবী অর্থনীতিকে সহায়তা করতে পারে।
আইএমএফ ১৯০টি দেশের একটি সংগঠন, যখন কোনও দেশ এই সংগঠনে যোগ দেয়, তখন তাঁকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা করতে হয়। একে কোটা বলা হয়। প্রতিটি দেশ তাদের অর্থনীতি অনুসারে এই কোটা ব্যবস্থায় অর্থ বিনিয়োগ করে থাকে। আইএমএফের সবথেকে বড় অবদানকারী হল আমেরিকা যাদের কোটায় সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ ৮৩ বিলিয়ন ডলার।






















