Budget 2026 : কাল বাজেটে কর কাঠামো নিয়ে নেওয়া হবে এত বড় সিদ্ধান্ত? বাতিল হতে পারে পুরনো কাঠামো?
Budget 2026-27 : পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ৯ কোটি ১৯ লক্ষ ব্যক্তি তাদের ইনকাম-ট্য়াক্স-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।

২০২৬ সালের বাজেটে আকর্ষণীয় পরিবর্তন এনেছিলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। নতুন কর কাঠামো নিয়ে খুশির জোয়ার এসেছিল মধ্যবিত্তদের মধ্যে। যদিও পুরনো কর কাঠামো অর্থাৎ ওল্ড রেজিমের ক্ষেত্রে আয়কর দিতে হয় এখনও আগের হারেই। পুরনো কাঠামো অনুযায়ী, বার্ষিক আড়াই লক্ষ টাকা অবধি করযোগ্য় আয়ে কোনও আয়কর দিতে হয় না। এরপর আড়াই থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা অবধি করযোগ্য় আয়ে ৫ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। বার্ষিক ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা অবধি করযোগ্য় আয়ে ২০ শতাংশ কর। বার্ষিক ১০ লক্ষ টাকার বেশি আয়ে ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। কিন্তু এখন একটা জল্পনা শোনা যাচ্ছে, এই বছর থেকে নাকি পুরনো কর কাঠামোটাই তুলে দেবে মোদি সরকার। ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হবে রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি। প্রতি বছরের মতো, বাজেট থেকে কর সম্পর্কে মানুষের কিছু প্রত্যাশা রয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সরকার কি এবার তবে পুরনো কর ব্যবস্থাটাই তুলে দেবে? ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে জল্পনা জোরদার। বেশিরভাগ করদাতা ইতিমধ্যেই নতুন কর ব্যবস্থায় চলে গিয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ৯ কোটি ১৯ লক্ষ ব্যক্তি তাদের ইনকাম-ট্য়াক্স-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। মনে করা হচ্ছে যে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই সংখ্যা প্রায় ১০ কোটিতে পৌঁছতে পারে। ৭৫% করদাতা ইতিমধ্যেই নতুন ব্যবস্থার আওতায় এসেছেন।
মনে করা হচ্ছে এবার বাজেট পেশের পর ৮০ শতাংশ করদাতাই নতুন কাঠামোয় কর দেবেন। তবে, সরকার পুরাতন কর ব্যবস্থা বাতিল করবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এটি অসম্ভব। এর বেশ কয়েকটি জোরালো কারণ রয়েছে।
দেশের সঞ্চয় কাঠামো এখনও পুরনো ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল
ধ্রুব অ্যাডভাইজারসের অংশীদার সন্দীপ ভাল্লা ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন যে, পুরনো কর ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যবিত্তের ভরসা। এই কাঠামোয় থাকা কর ছাড় মানুষকে পিপিএফ, ইপিএফ, জীবন বীমা, পেনশন পরিকল্পনা এবং বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করে। তিনি বলেন যে, হঠাৎ করে এই কর কাঠামো সরিয়ে ফেলা হলে মানুষ পিপিএফ, ইপিএফ, জীবন বীমায় উৎসাহ হারাতে পারে। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের হার দুর্বল হতে পারে । লক্ষ লক্ষ মানুষের অবসর পরিকল্পনা বিপন্ন হতে পারে।
নগদ প্রবাহ এখনও নগদ-সম্পর্কিত পণ্যের উপর ভিত্তি করে
সন্দীপ ভাল্লার মতে, ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর একটি বৃহৎ অংশ কর সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে তাদের আর্থিক পরিকল্পনা তৈরি করে। অনেকেই কর সুবিধার কথা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদী গৃহ ঋণ, বীমা পলিসি এবং পেনশনের মতো স্কিম বেছে নেন। হঠাৎ পরিবর্তন হলে এই পরিকল্পনাগুলি ব্যাহত হতে পারে এবং অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।
কাজ সহজে সম্পন্ন হচ্ছে
জোতওয়ানি অ্যাসোসিয়েটসের একজন আইনজীবী শরণ্যা ত্রিপাঠির মতে, আয়কর বিভাগ ইতিমধ্যেই উভয় ব্যবস্থার অধীনে সহজেই রিটার্ন পরিচালনা করে। পুরাতন কর ব্যবস্থা হঠাৎ বাতিল করার জন্য বেশ কয়েকটি বিভাগে পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে, যা উল্লেখযোগ্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
























