Child Abuse Case: টাকা চুরির অপবাদ দিয়েছিল প্রতিবেশী, দুই মেয়েকে উল্টো করে ঝুলিয়ে শাস্তি, বেঘোরে মৃত্যু একজনের, গ্রেফতার বাবা
Maharashtra News: মহারাষ্ট্রের সাংলী জেলা থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে।

মুম্বই: টাকা চুরির অপবাদ দিয়েছিল প্রতিবেশী। সেই নিয়ে দুই মেয়েকে শাস্তি দিতে গিয়ে, একজনকে প্রাণেই মেরে ফেলল বাবা। রাতভর উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে আর এক জন। অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। (Maharashtra News)
মহারাষ্ট্রের সাংলী জেলা থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। দাদু ওরফে নানা ইয়ামগর নামের ৩৫ বছর বয়সি এক কৃষকের বিরুদ্ধে দুই মেয়েকে মেরে ফেলার অভিযোগ। তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরিবারের তরফে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ। বিষয়টি সামনে আসতেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। (Child Abuse Case)
জানা গিয়েছে, নানার দুই মেয়ে, ন’বছর বয়সি সানিকা এবং ১১ বছর বয়সি অনুজা। বাড়িতে ঢুকে তারা টাকা চুরি করেছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ জানান এক প্রতিবেশী। সেই নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়াও হয়। এর পরই সমস্ত রাগ দুই মেয়ের উপর গিয়ে পড়ে। বুধবার বিকেলের দিকে দুই মেয়ের হাত-পা বেঁধে দেয় সে। টিনের চালের বাড়িতেই, লোহার আংটায় উল্টো করে ঝুলিয়ে দেয়।
ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলেন নানার বাবা এবং স্ত্রী। বাধা দিতে গেলে তাঁদেরও হুমকি দেয় নানা। রাতভর ওই অবস্থায় ঝুলেছিল মেয়ে দু’টি। কান্নাকাটি করলেও, জল চাইলেও কেউ এগিয়ে যায়নি। সেই অবস্থায় ১২ ঘণ্টা কেটে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা নাগাদ কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে নানার বাবা মেয়ে দু’টিকে মেঝেয় নামিয়ে আনেন।
কিন্তু তাতেও মেয়ে দু’টির জ্ঞান ফেরেনি। তড়িঘড়ি নিকটবর্তী বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। সেখানে সানিকাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। অনুজার শরীরে প্রাণ থাকলেও, অবস্থা ছিল গুরুতর। পরবর্তীতে সে-ই চিকিৎসকদের গোটা ঘটনা জানায়। তাতেই খবর যায় থানায়। জানা যায়, চুপিসাড়ে সানিকার সৎকার করে দিতে চেয়েছিল নানা। ধারাল অস্ত্র হাতে নিয়ে নিজের বাবাকেও সে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ।
তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ পৌঁছে যায়। সানিকার দেহ উদ্ধার করে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। গ্রেফতার করা হয় নানাকে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩ (খুন) এবং ১০৯ (খুনের চেষ্টা) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ আধিকারিক বিপুল পাটিল বলেন, “অভিযুক্ত পেশায় কৃষক। ওকে হেফাজতে চাইছি আমরা। মেয়ে দু’টিকে উল্টো করে ঝুলিয়ে দিয়েছিল। একজন মারা গিয়েছে। অন্যজন আপাতত স্থিতিশীল।” নানার মোট পাঁচ সন্তান, চার মেয়ে, এক ছেলে।

























