Abhishek Banerjee: ট্রেনে করে পালানোর আগেই গ্রেফতার অভিষেকের ছায়াসঙ্গী, তৃণমূল জমানায় কি অভিযোগে নাম জড়িয়েছিল মইদুলের
Abhishek Banerjee: গ্রেফতার হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী মইদুল ইসলাম। তিনি তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতা।

কলকাতা : গ্রেফতার করা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী এবং তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতা মইদুল ইসলামকে। এর আগে তৃণমূল জমানায় আত্মহত্য়ার চেষ্টার ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছিল মইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তাঁর বাড়িতে পুলিশও পৌঁছেছিল। এবার অন্য় এক ব্য়ক্তির অস্বাভাবিক মৃত্য়ুতে প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল তাঁকে।
অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কার্যত ছায়াসঙ্গী। অতীতে বারবার তাঁকে দেখা গেছে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে আঠার মতো সেঁটে থাকতে। অস্বাভাবিক মৃত্যুতে প্ররোচনার অভিযোগে সেই তৃণমূল নেতা মইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করল পুলিশ। অদ্ভূতকাণ্ড হল তৃণমূল জমানাতেও আত্মহত্য়ার চেষ্টার মামলাতেই নাম জড়িয়েছিল মইদুল ইসলামের, যার জন্য় তাঁর বাড়িতে অবধি পৌঁছে গেছিল পুলিশ। কার্যত বাড়ি ঘিরে ফেলেছিল বাহিনী!কার্যত বাড়ি ঘিরে ফেলেছিল বাহিনী। তারপরই তিনি তৃণমূলে যোগ দেন।
২০২১ সালের ১৮ অগাস্ট কলকাতাও দুই ২৪ পরগনার শিশুশিক্ষা কেন্দ্র থেকে তাঁদের উত্তরবঙ্গে বদলির প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ। রাজ্য়ে তখন তৃণমূলের সরকার। মইদুলের নেতৃত্বে বিকাশ ভবনের সামনে অনশন শুরু করেন শিক্ষকরা। পাঁচ শিক্ষিকা বিকাশ ভবনের সামনে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনায় শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে, প্ররোচনা-সহ একাধিক ধারায় FIR দায়ের হয়।
এরপরই মইদুলকে গ্রেফতার করতে বেলেঘাটার চাউলপট্টিতে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছয় বিধাননগর উত্তর ও বেলেঘাটা থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় বিতণ্ডা চলে মইদুলের। এরপরই আচমকা মইদুল ইসলামের মন বদলে যায়। যে তৃণমূল সরকারের শিক্ষা দফতরের বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলনে নেমেছিলেন, সেই দফতরের তৎকালীন মন্ত্রী ব্রাত্য় বসুর হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন মইদুল। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কার্যত ছায়াসঙ্গী হয়ে উঠেছিলেন। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় যখন একের পর এক মামলার জালে জড়াচ্ছেন, CID থেকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে হাজিরা দিচ্ছেন, তখন তাঁর ঘনিষ্ঠ সেই মইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
গ্রেফতার হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী মইদুল ইসলাম। তিনি তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতা। ২০২২ সালে, তৃণমূলের পঞ্চায়েত উপপ্রধানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে, যাঁকে ৩০ মে, সোনারপুরে এবং সোমবারও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গেছে তাঁকে। ধৃতকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালত। তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতা মইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
২০২২ সালের একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার হটুগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করল ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে দাবি, ডায়মন্ড হারবারের নেতড়া স্টেশনে ট্রেনে করে পালানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। তার আগেই তাঁকে ধরে ফেলা হয়। ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বোলসিদ্ধি-কালীনগর পঞ্চায়েতের তৎকালীন তৃণমূল উপপ্রধান দেবব্রত ভট্টাচার্যের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। নিজের বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে, রাস্তার ধার থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁকে। পুলিশ সূত্রে দাবি, ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়, যেখানে, মৃত্যুর জন্য ওই পঞ্চায়েতেরই প্রধান-সহ মইদুল ইসলাম মোল্লার নামও উল্লেখ করা ছিল। এরপরই, আত্মহত্যায় প্ররোচনা যোগানোর অভিযোগ তোলে মৃতের পরিবার। কিন্তু অভিযোগ, তৃণমূল আমলে মইদুলের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপই করেনি পুলিশ। পালাবদলের রাজ্যে নতুন করে খোলা হয় প্রায় ৪ বছর আগেকার এই ফাইল। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই মামলায়, তৃণমূল উপপ্রধানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলায় নতুন করে মইদুল ইসলামকে হন্যে হয়ে খুঁজতে শুরু করে ডায়মন্ড হারবার থানা। শেষমেশ গ্রেফতার করা হল তাঁকে।
Before You Go
Baruipur News | বারুইপুরে নির্যাতনের নেপথ্যে কারা? নাবালিকার দেহ রেখে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ






















