অভিষেককে ঘিরে কি ভাগ হয়ে যাচ্ছে তৃণমূল ? কেন তৃণমূলের অন্দরে 'গৃহযুদ্ধ' ? জল্পনা তুঙ্গে
Abhishek Banerjee : মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ডাকা বৈঠক ও দলের ষোঘিত কর্মসূচিতেও উপস্থিত থাকছেন না দলেরই বহু নেতা ও বিধায়করা। তৃণমূলের অন্দরে কার্যত 'গৃহযুদ্ধে'র পরিস্থিতি। কেন এই হাল?

কলকাতা : বিধানসভা ভোটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে তৃণমূলের সরকার। বাংলার মসনদে এখন বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর নতুন সরকার গঠনের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে বিজেপি। বেআইনি নির্মাণ নিয়েও বুলডোজার অ্যাকশনে নেমে পড়েছে ময়দানে। তিলজলায় অবৈধ নির্মাণের পর এবার নজরে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সম্পত্তি। কলকাতা পুরসভার স্ক্য়ানারে রয়েছে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি এবং তাঁর আত্মীয়দের নামে থাকা ১৭টা সম্পত্তি। যেখানে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে পাঠানো হয়েছে নোটিস। এবার কি ভেঙে ফেলা হবে অভিষেকের সম্পত্তি?
প্রথমে ভোটে মহা-বিপর্যয়! এক লহমায় চুরমার ১৫ বছরের সাম্রাজ্য়। রথী-মহারথীদের কার্যত রাজনৈতিক সন্ন্য়াস নেওয়ার মতো করুণ পরিস্থিতি। তারপর অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর মা-বাবার সম্পত্তি নিয়ে কলকাতা পুরসভার লম্বা নোটিস! প্রথমে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের তরফে। তারপর পুরসভার অ্য়াসেসমেন্ট বিভাগের তরফে। যার দায় নিতে রাজি নন তৃণমূলের কেউই! এরইমধ্য়ে আবার ফলতা পুনর্নির্বাচনের ময়দান থেকে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ডান হাত বলে পরিচিত 'পুষ্পা' জাহাঙ্গির খান বিনা যুদ্ধে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়েছেন। ডায়মন্ড হারবার মডেল শেষ হতেই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সামনেই কার্যত ঘুরিয়ে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কতৃত্বকে চ্য়ালেঞ্জ করা হচ্ছে! খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ডাকা বৈঠক ও দলের ষোঘিত কর্মসূচিতেও উপস্থিত থাকছেন না দলেরই বহু নেতা ও বিধায়করা। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরে কার্যত 'গৃহযুদ্ধে'র পরিস্থিতি।
১৭টা বেআইনি সম্পত্তির নোটিশ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি থেকে গোটা বাংলা। তৃণমূলের অন্দরের গৃহযুদ্ধের ফলে সরাসরি কি প্রশ্নের মুখে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কর্তৃত্ব? দল অটুট রাখতে পারবেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়? অভিষেককে ঘিরে কি আড়াআড়িভাবে ভাগ হয়ে যাচ্ছে তৃণমূল? উঠছে এই ধরণের নানা প্রশ্ন। এই নিয়ে ভাঙড়ের ISF বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি জানান, ''১৫ দিন হয়নি একটা সরকারের পরিবর্তন হল, আর এই দলটা ভেঙে পড়ল।''
আরও পড়ুন - ১৩ দিনেই 'পরিবর্তনের' সাক্ষী কালীঘাট, মমতার সামনেই চ্যালেঞ্জের মুখে অভিষেক; 'প্রশ্ন জোর করে চাপা দেওয়া যায় না'
কলকাতা পুরসভার স্ক্য়ানারে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও আত্মীয়স্বজনের সম্পত্তি। পাঠানো হয়েছে ১৭ টা নোটিশ। প্রথমে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের তরফে পাঠানো হয় নোটিস! তারপর সম্পত্তির চরিত্র বদলের অভিযোগে অ্য়াসেসমেন্ট বিভাগের তরফে নোটিস দেওয়া হয়। বুধবার বিকেলে কালীঘাট রোডে এই সম্পত্তিতে দেওয়া হয় নোটিস! আর এই নোটিস নিয়েই তৃণমূলের অন্দরে এখন তোলপাড়।
অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর পরিবারের সদস্য়দের একাধিক ঠিকানায় যে ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা, তার মধ্য়ে ১৪টি গেছে ৯ নম্বর বরো থেকে। যার চেয়ারপার্সন পদে ছিলেন দেবলীনা বিশ্বাস। নোটিস-পর্বের পরই পদ ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে করেছেন চাঞ্চল্য়কর এক দাবি। আপনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বলা হয়? এবিপি আনন্দের এই প্রশ্নের উত্তরে দেবলীনা বিশ্বাস জানান, ''ধামাচাপা ঠিক নয়, এটা কেন হল, কীভাবে হল, কে করল, কী ব্য়াপার হল? তাকে সাসপেন্ড করা হোক, তুমি তো বরো কমিটির চেয়ারপার্সন। আমি বললাম আমি হতে পারি বরো কমিটির চেয়ারপার্সন, কিন্তু আমি কীভাবে করব? এই জিনিসগুলো আমার এক্তিয়ারে পড়ে না।'' সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরে ইতিমধ্য়েই তোলপাড় পড়ে গেছে। এরপর কি ভাঙন? জোর জল্পনা শুরু রাজনৈতিক মহলে।






















