Bad Road Condition: উত্তর থেকে দক্ষিণ, বর্ষার জল জমে বেহাল রাস্তা, ছড়িয়ে খোয়া পাথর! প্রাণ হাতে করেই চলছে যাতায়াত
Road Conditon due to Rain: দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ, দিকে দিকে পথ 'শ্রী' হারিয়ে 'হতশ্রী'! স্থানীয় বাসিন্দা থেকে নিত্যযাত্রী, সবার মুখে একই অভিযোগ।

কমলকৃষ্ণ দে, মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজা চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ, দিকে দিকে বিপজ্জনক রাস্তা! প্রতিদিন জীবন মুঠোয় নিয়ে করতে হচ্ছে যাতায়াত। কবে মিলবে হতশ্রী রাস্তার হাল? প্রশ্নের মুখে দেখা গেল দায় ঠেলাঠেলির খেলা পূর্ব বর্ধমান থেকে পশ্চিম বর্ধমান, কোচবিহার থেকে জলপাইগুড়ি, এবড়োখেবড়ো রাস্তা... এদিক ওদিক ছড়িয়ে বড় বড় খোয়া-পাথর! কোথাও আবার রাস্তার গর্তে বর্ষার জল জমে রীতিমতো মরণফাঁদ! যে কোনও মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ, দিকে দিকে পথ 'শ্রী' হারিয়ে 'হতশ্রী'! স্থানীয় বাসিন্দা থেকে নিত্যযাত্রী, সবার মুখে একই অভিযোগ। বর্ধমান শহরের বাসিন্দা সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, 'এটা উন্নয়নের নামে প্রহসন চলছে।' প্রতিদিনের ঝুঁকির যাতায়াত নিয়ে কেউ আবার উগরে দিচ্ছেন ক্ষোভ! জলপাইগুড়ির নিত্যযাত্রী ও বাসিন্দা মজিদুল হক বলছেন, 'রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। হামেশাই দুর্ঘটনা ঘটছে।'
ভাঙাচোরা এই যে রাস্তা দেখছেন, এটা বর্ধমান শহরের। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার ধারেই রয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে বর্ধমান ক্যানসার হাসপাতাল, হাইস্কুল থেকে প্রাইমারি স্কুল। অভিযোগ, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ মোড় থেকে জিটি রোড পর্যন্ত প্রায় ২ কিমি রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। বর্ধমান শহরের বাসিন্দা নসিবুর রহমান বলছেন, 'হামেশাই এখানে অ্যাক্সিডেন্ট হচ্ছে। টোটো উল্টে যাচ্ছে। মোটর সাইকেলের সঙ্গে বেহাল রাস্তার জন্যে ধাক্কা লেগে যাচ্ছে।' বর্ধমান শহরের বাসিন্দা সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, 'আমরা পুরসভায় রীতিমতো ট্যাক্স দিচ্ছি। তাহলে পুরসভার পরিষেবা কোথায়?'
একই পরিস্থিতি পাশের জেলা পশ্চিম বর্ধমানেও। দুর্গাপুর ITI রোডে যেভাবে গর্ত আর তাতে জল জমে রয়েছে... নিত্যযাত্রীরা পরিহাস করে এর নাম দিয়েছেন... ইউরি গ্যাগারিন পথ। দুর্গাপুর পুরসভার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুখময় কেশ বলছেন, 'এটা 'ইউরি গ্যাগারিন' পথ। পরশুদিনই এখানে একটা অটো উল্টে গিয়েছিল। জঘন্য অবস্থা।' অভিযোগ, দিনের পর দিন রাস্তা বেহাল হয়ে পড়ে থাকলেও, হেলদোল নেই প্রশাসনের। রবিবার এরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় সিপিএম কর্মী-সমর্থকরা।
এই প্রেক্ষিতে স্থানীয় তৃণমূল প্রশাসনে মুখে শোনা গেছে বর্ষার দোহাই। দুর্গাপুর পুরসভার প্রশাসনিক সদস্য তৃণমূল নেত্রী ও সদস্য রাখি তিওয়ারি বলছেন, 'পুজোর আগে আমরা বলছি রোদের মধ্যে প্যাচ ওয়ার্ক করে দিতে। মানুষ যাতে পুজোর মধ্যে ঠিকমতো চলাচল করতে পারে।' পশ্চিম বর্ধমানের বিজেপি সহ সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, 'কন্ট্রাক্টরের সাথে সমঝোতা করে কাটমানি খাওয়ার পরিকল্পনা। সার্বিকভাবে রাস্তাগুলোর আশু সংস্কার প্রয়োজন।'
দুর্গাপুরে যখন পুজোর মুখে জোড়াতাপ্পি দিয়ে রাস্তা সারানোর কথা বলছে প্রশাসন, কোচবিহারে আবার শুরু হয়ে গিয়েছে দায় ঠেলাঠেলির খেলা! কোচবিহার শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। নিউ কোচবিহার স্টেশন যেতে এটাই ভরসা, অথচ এই পথেই পদে পদে ওঁৎ পেতে আছে বিপদ! এই পরিস্থিতিতে এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর দাবি করেছেন রাস্তাটি সারানোর দায়িত্ব পুরসভা নয়, পূর্ত দফতরের। এদিকে পূর্ত দফতর সূত্রে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, এই রাস্তা তাঁদের আওতায় নেই। রাস্তা মেরামতির বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে।
কোচবিহার পুর এলাকার মতোই জলপাইগুড়ি পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডেও প্রায় হাফ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা শোচনীয়। পরিস্থিতি এমন যে, ভাঙা রাস্তায় ঢোকে না অ্যাম্বুল্যান্স, অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের। রাস্তার খারাপ পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরও। কবে হাল ফিরবে রাস্তার, সেদিকেই তাকিয়ে এখন সাধারণ মানুষ।






















