Terrorist Module: সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্বের পর টাকার টোপ, কোন কোন অ্যাপের ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছিল জঙ্গি মডিউল ?
Bardhaman Terrorist Arrest: হামিম-অর্পিতাদের সঙ্গে হ্যান্ডলাররা যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করেছে ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ সোশাল মিডিয়ার একাধিক প্ল্যাটফর্ম।

কলকাতা : সমাজমাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ। প্রথমে পরিচয়, তারপর বন্ধুত্ব করে মগজধোলাই। শেষে স্লিপার সেল হিসেবে বা নাশকতামূলক কাজে লাগানো। এভাবেই ভারতে জঙ্গি মডিউল তৈরি করেছিল পাকিস্তানের শাহজাদ ভাট্টি গ্রুপ। দেখানো হত টাকার লোভ। সীমান্ত দিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশ করিয়ে নাশকতা নয়, বরং সীমান্তের ওপারে অর্থাৎ পাকিস্তানে বসেই, সোশাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রথমে এ দেশের তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ। পরিচয়, বন্ধুত্বের পর কখনও টাকার টোপ কখনও বা জেহাদি মানসিকতার জিগির তুলে মগজ ধোলাই। এরপর রীতিমতো ভার্চুয়াল ট্রেনিং দিয়ে তাদের নাশকতামূলক কাজে লাগানো।
গত কয়েক বছর ধরে ভারতে সন্ত্রাসসৃষ্টি ও নাশকতার ছক বদলে ফেলেছে পাকিস্তানের ISI এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। আর এই আবহে সামনে এসেছে শাহজাদ ভাট্টি গ্রুপের নাম। এই গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবেই বৃহস্পতিবার বর্ধমানের রেনেসাঁ টাউনশিপ থেকে বছর চব্বিশের হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে STF। ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকেও।
কিন্তু কে এই শাহজাদ ভাট্টি?
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা শাহজাদ একজন সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং কুখ্যাত অপরাধী। সূত্রের খবর, পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ISI এবং পাক জঙ্গি সংগঠনগুলি এই শাহজাদ ভাট্টি গ্রুপের মাধ্যমেই ভারতীয় তরুণ-তরুণীদের রিক্র্যুট করত। তেমনই পশ্চিমবঙ্গে শাহজাদ ভাট্টি গ্রুপের রিক্র্যুট ছিল ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডল।হামিম-অর্পিতাদের সঙ্গে হ্যান্ডলাররা যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করেছে ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ সোশাল মিডিয়ার একাধিক প্ল্যাটফর্ম। ব্যবহার করা হত টেলিগ্রাম, এলিমেন্ট X এর মতো একাধিক এনক্রিপটেড চ্যাটিং অ্যাপও।
সূত্রের খবর, টেরর ফান্ডিং থেকে প্ল্যানিং, রেকি করা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ বা স্লিপার সেল হিসেবে কাজ করা, প্রয়োজনমতো ভারতীয় তরুণ-তরুণীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিত এই শাহজাদ ভাট্টি গ্রুপ। বদলে দেখানো হত মোটা টাকার লোভ। কট্টরপন্থী ধর্মীয় জিগির তুলতে করা হত মগজধোলাই। এমনকী, ধৃত হামিম মণ্ডল বেশকিছু তরুণকে রিক্র্যুট করেছে বলে আশঙ্কা করছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, অসম, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে এই শাহজাদ ভাট্টি গ্রুপের হদিশ মিলেছে। বিভিন্ন রাজ্যের STF-এর পাশাপাশি তদন্ত চালাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা NIA-ও।
দেশের একাধিক রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও সন্ধান মিলেছে পাকিস্তানের শাহজাদ ভাট্টি গ্রুপের জঙ্গি মডিউলের হদিশ। গ্রেফতার হয়েছে জঙ্গি হামিম মণ্ডল। সেও আবার একাধিক তরুণ-তরুণীকে এই মডিউলে রিক্রুট করার চেষ্টা করেছিল বলে জানতে পেরেছে STF। এখন যত দ্রুত সম্ভব মডিউলের বাকি সদস্যদেরও ট্র্যাক করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।























