Beldanga : আবার অশান্ত বেলডাঙা, তুলকালাম পরিস্থিতি, ভিড়ের মাঝে হুমায়ুন কবীর
Beldanga News : শনিবারও সকালে সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল না বলেই অভিযোগ। কিন্তু পরে অশান্তির পারদ চড়তে শুরু করলে সেখানে বিরাট সংখ্যক পুলিশ।

প্রতিবাদের নামে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অরাজক পরিস্থিতি চলছে। কালকের পর ফের একবার, আজও উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা । আবার শুরু হয়েছে পথ আটকে বিক্ষোভ, চিৎকার, হঙ্কার-হুমকি ! শনিবারও সকাল থেকে দফায় দফায় তাণ্ডব, বিক্ষোভ, অবরোধ। ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদ ঘিরে ফের একবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বেলডাঙা। আজও দিনভর কার্যত তাণ্ডব চালাল দুষ্কৃতীরা। আজ পুরো গণ্ডগোলের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মুর্শিদাবাদের বরুয়া মোড়। গতকাল থেকে আজ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবারও সকালে সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল না বলেই অভিযোগ। কিন্তু পরে অশান্তির পারদ চড়তে শুরু করলে সেখানে বিরাট সংখ্যক পুলিশ।
এরই মধ্যে সেখানে হাজির হন সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর । তিনি অবরোধ তুলতে বললেন বিক্ষোভকারীদের। কাল যা করার করেছেন, আজ আবার কীসের অবরোধ? অবরোধকারীদেরকে প্রশ্ন করেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু পরামর্শ মানতে নারাজ উত্তেজিত জনতা তাণ্ডব চালাতেই থাকে। হুমায়ুন বলেন, 'কে উস্কানি দিচ্ছে এখানে? এই কথা শোনো এরপরে অবরোধ তুলতে হবে। কাল একটা সারাদিন হয়েছে। আবার আজকে তোমরা উচ্ছৃঙ্খলতা করছ তার মানে? ' বরুয়া মোড় থেকে রেল লাইন - সব জায়গা নিজেদের দখলে নেয় বিক্ষোভকারীরা। সংবাদমাধ্যমকে কার্যত ঠেলে বের করে দেওয়া হয়। কেড়ে নেওয়া হয় তাঁদের মোবাইল। ইট-পাটকেল নিয়ে তেড়ে যায় উত্তেজিত জনতা।
শুক্রবারই এই বেলডাঙায় খবর করতে গিয়ে গিয়ে ভয়াবহ আক্রমণের মুখে পড়েন জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতি ও তাঁর চিত্র সাংবাদিক রঞ্জিত মাহাতো। রাস্তায় ফেলে লাথি, কিল, চড়, ঘুষি মারা হয় তাঁদের। শনিবার সেই বেলডাঙাতেই মারমুখী জনতার সামনে পড়েন এবিপি আনন্দর সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিককে । কার্যত প্রাণ হাতে করে পালাতে হয় তাঁদের। কিন্তু এই বিরাট অশান্তির সূত্রপাত কোথা থেকে?
পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডে মৃত্যু হয় এরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকের। ঝাড়খণ্ডের বিসরামপুরে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃত ব্যক্তির নাম আলাউদ্দিন শেখ। তাঁর বাড়িই ছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। তাঁর মৃতদেহ আনা হল দেশের বাড়িতে । সেই দেহ দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে জনতা। তারপরই প্রতিবাদে শুক্রবার মৃতদেহ নিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে আত্মীয় পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখান থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। অবরোধ থেকে ধীরে ধীরে বিষয়টা অরাজকতার দিকে চলে যায়। স্থানীয় সূত্রে দাবি, গত ৫ বছর ধরে ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন আলাউদ্দিন শেখ। পরিবারের দাবি, প্রায়শয়ই ভয়ে ভয়ে থাকতেন তিনি। সেকথা বাড়িতেও জানিয়েছিলেন। এরপর বৃহস্পতিবার, ঝাড়খণ্ডের বাড়িতে ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় আলাউদ্দিনের। তাই নিয়েই আপাতত রণক্ষেত্র বেলডাঙা।






















