Bengal SIR: " ECI অত্যাচার করল বাবার উপরে.."! মালদায় BLO-র মৃত্যুতে অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দিল সন্তান
Bengal SIR Malda BLO Death : মালদায় SIR 'চাপে' BLO-র মৃত্যুর অভিযোগ, কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পরিবারের

অভিজিৎ চৌধুরী ও রুমা পাল, মালদা: এবার মালদার সুজাপুরে BLO-র মৃত্যু। মৃতের পরিবারের দাবি, বুধবার SIR-এ ৪৪ জনের ফর্ম ফেরত আসে। তার মধ্যে BLO আনিকুল আলমের নিজের নামও ছিল। এরপরই অসুস্থ বোধ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। এনিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
শুনানি পর্ব শেষ। চলছে নথি পরীক্ষার কাজ। এরমধ্য়েই একদিকে SIR-এর কাজের চাপ। অন্যদিকে, নিজের ফর্ম ফেরত আসার চিন্তায় BLO-র মৃত্যুর অভিযোগ উঠল মালদার সুজাপুরে। মৃত BLO আনিকুল আলমের ছেলে মেহবুব আলম বলেন, এগুলো একধরনের ECI আমাদের অত্য়াচার করল বাবার উপরে। আমি এটাই চাইব আমার বাবা মারা গেছে। ...চাইব যেন এরকম আর কোনও মা-বাবা না মারা যায়। মালদার সুজাপুর বিধানসভার ১৪৪ নম্বর বুথ। এখানকার BLO ছিলেন কালিয়াচক হাইস্কুলের ভূগোলের শিক্ষক আনিকুল আলম।মৃতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, বুধবার SIR-এ ৪৪ জনের ফর্ম ফেরত আসে। তার মধ্যে BLO আনিকুল আলমের নিজের নামও ছিল। পরিবারের অভিযোগ, এরপরই অসুস্থ বোধ করেন তিনি।তারপরও সুজাপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করিয়ে SIR-এর কাজে BDO অফিসে যান। রাতে ফিরে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হয় BLO আনিকুল আলমের।
মৃত BLO আনিকুল আলমের ছেলে মেহবুব আলম বলেন,একদিকে মায়ের প্রেসার। একদিকে স্কুলের প্রেসার। একদিকে সকুলে হাজিরার প্রেসার, এদিকে আবার BLO-র কাজের প্রেসার। সমস্ত প্রেসার নিয়ে আমার বাবা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমার বাবার কার্ডিয়াক অ্য়াটার্ক হয়। নোটিস পর্যন্তও আমার বাবার এসেছিল। নোটিসেও নাম ছিল আমার বাবার। আমারও ছিল। আমার মায়েরও ছিল। মৃত BLO-র প্রতিবেশী মহম্মদ আবু বক্কর বলেন,হঠাৎ কালকে ৪৪ জনের নাম ফেরত আসে। তারমধ্যে ওঁর নাম ছিল। হঠাৎ নাম আসাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই টেনশন নিতে নিতে রাতে অসুস্থ হয়। কী কারণে মৃত্যু? প্রশ্নে তিনি বলেন, এই যে SIR-এর চাপ, তিনি BLO ছিল। লোকের নাম বাদ পড়ে যাবে তার একটা টেনশন। পাড়ার লোককে কী জবাব দেবে? নিজেরও নাম চলে এসেছে। এটাও একটা টেনশন। এইজন্যই মারা গেছে। এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে BLO অধিকার রক্ষা মঞ্চ।
BLO অধিকার রক্ষা মঞ্চ সদস্য় স্বাতী বিশ্বাস বলেন, নির্বাচন কমিশনের অমানবিক চাপ তো তাঁর ওপর ছিলই। নির্বাচন কমিশনের অমানবিক চাপ সহ্য় করতে না পেরে গতকাল তিনি মারা গেছেন। তিনি একজন হাইস্কুল শিক্ষক। আর কত প্রাণ নির্বাচন কমিশনের অমানবিক অত্য়াচারে যাবে? SIR আবহে একের পর এক মৃত্যু নিয়ে প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়।যেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন SIR পর্বে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের একাংশ।শুধু তাই নয়, নজিরবিহীনভাবে সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রেক্ষাপটে ফের এক BLO-র মৃত্যু ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। তার আগে SIR-এর চাপে BLO-র মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।























