Tapas Roy: 'আমি মানিকতলা বাজারে মাছ কাটব, পাশে আঁশ ছাড়াবে অভিষেক', বিস্ফোরক বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়
Jukti Tokko: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি প্রসঙ্গেও তাপস রায় বলেছেন, 'যে বাড়িতে দুধের ডিপোয় চাকরি করত কারও পিসি তাঁর ২৪টা সম্পত্তি, ৩৫টা প্লট কেন হবে?'

ভোটের পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতাদের অনেকেই। ৪ মে তৃণমূলের ধরাশায়ী হওয়ার জন্যেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সরাসরি দায়ী করেছেন অনেকে। এবার যুক্তি তক্কো অনুষ্ঠানে এসে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়ও।
অভিষেক বন্দ্যোধ্যায় সম্পর্কে তাপস রায় বলেছেন, '৪ তারিখের পরে ওই কার্বাইডে পাকা ছোকরা বলেছিল অমিত শাহজিকে নাকি দেখে নেবে। ফচকেমি, ফাজলামির একটা সীমা থাকে। এগুলো বলতাম না, বাধ্য হচ্ছি। ইদানীংকালে যেসব শব্দ মমতা এবং অভিষেক ব্যবহার করল, এটা বাংলার সংস্কৃতি? এঁচোড়ে পক্ক। আমায় বলেছিল মানিকতলায় মাছ কাটাবে। আমি মানিকতলায় মাছ কাটব। কিন্তু যাঁরা বড় মাছ কাটেন, তাঁদের পাশে একজন ছোকরা থাকে আঁশ ছাড়ানো জন্য। আমার পাশে আঁশ ছাড়াবে অভিষেক। আমি মানিকতলা বাজারে মাছ কাটব, কোনও লজ্জা নেই। তাঁদের থেকেই তো মাছ কিনে খাই। ঔদ্ধত্যটা ভাবুন একবার। আমি ওর পিসির সমবয়সী। রাজনীতিটাও ওর পিসির থেকে ৫-৬ মাস আগেই শুরু করেছি। এমনকী রাজ্যের নেতাও আগে হয়েছিলাম, ওর পিসি তখন জেলার নেতা। এই যে কথা, শব্দ, অহঙ্কার তৃণমূলীদের হয়েছিল, মমতা অভিষেক থেকে শুরু করে নন্টে ফন্টেদের, এটা মানুষ সহ্য করতে পারল না। তছনছ করে দিল। চূর্ণবিচূর্ণ করে দিল। অবশ্যম্ভাবী ছিল, ভবিতব্য ছিল।'
বাংলাদেশি স্লোগান দেওয়া যাবে না, বিল এনে আইন করে বন্ধ করতে হবে : তাপস রায়
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি প্রসঙ্গেও তাপস রায় বলেছেন, 'যে বাড়িতে দুধের ডিপোয় চাকরি করত কারও পিসি তাঁর ২৪টা সম্পত্তি, ৩৫টা প্লট কেন হবে? ব্যানার্জি পরিবারের কেন হবে বলুন তো? নিজে তো গর্বের সঙ্গে বলতেন কষ্ট করেছেন, কষ্ট করে বড় হওয়া তো সত্যিই গর্বের। কিন্তু দুধের ডিপো থেকে... কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না, না সরকারের প্রতি, না পরিবারের প্রতি, না কর্মীদের প্রতি। লুটে খাও বাংলাটাকে। আর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভাটাকে... নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, ওটা কি বিউটি পার্লার নাকি? কী ভেবেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? অরাজনৈতিক... আবার বাংলার অস্মিতা, ঝরে ঝরে পড়ছে, যেমন মুখের ভাষা, তেমন অঙ্গভঙ্গি। এগুলো বাংলার মানুষ নেয়নি, গ্রহণ করেনি, বরদাস্ত করেনি। অতগুলো গাড়ি কেন থাকবে অভিষেকের সামনে পিছনে? ও কে? তারপর ওই সমস্ত ভাষা, ঔদ্ধত্য, এগুলো সহ্য করা যায় না। সাধারণ মানুষ বলছে আমরা স্বাধীন হলাম। এখন সময়ের অপেক্ষা তৃণমূল পার্টিটা কবে উঠে যাবে। নিজেরাই ভেঙেচুরে যাবে কদিন বাদে। অভিষেক বেরোতে পারছে না কেন? বিরাট সিকিউরিটির বহর নেই বলে?'
তাপস রায় আরও বলেছেন, 'সিআইডিতে একটা কেস পেন্ডিং আছে। নন্দীগ্রামের পা ভাঙার কেসটা। আমায় সিআইডি-র একজন উচ্চ পদস্থ অফিসার বলেছেন, আপনারা কেসটা শুরু করুন না। বুঝতে পারবেন পা ভাঙাটা ঠিক ছিল না বেঠিক ছিল। তাই ম্যানিফেস্টোর দিন অমিত শাহজি যখন জিজ্ঞেস করলেন, দিদি এবার কী করবেন, কোথায় ব্যান্ডেজ বাঁধবেন, আমি চটজলদি উত্তর দিয়ে বলেছিলাম শরীরে আর জায়গা নেই, মাথা হয়ে গেছে, পা হয়ে গেছে, হাত হয়ে গেছে। আর কিন্তু ব্যান্ডেজ বাঁধার জায়গা মমতার নেই। তাই করতে পারল না। নন্দীগ্রামের ওই কেসটা কিচ্ছু হয়নি। যে ড্রাইভারের সাক্ষ্য নিতে সিআইডি বারবার ডেকেছিল, তাঁকে পাঠানো হয়নি।'
























