BJP দরজা খুললেই ঘর-খালি তৃণমূলের? অপেক্ষায় এতজন তৃণমূল MP? কাদের কথা বললেন সৌমিত্র খাঁ?
বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-র দাবি, 'কেন্দ্রীয় বিজেপি ও রাজ্য নেতৃত্ব , শুভেন্দু বাবু ও শমীক দা যদি দরজা খুলে দেয়...'

কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, পূর্ণেন্দু সিংহ, কলকাতা : নতুন সরকার শপথ নিতেই একদিকে যেমন একের পর এক প্রকল্প ঘোষিত হচ্ছে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা কড়া করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তারই মধ্য়ে জল্পনা তৈরি হচ্ছে, দ্রুত কি রাজ্য়ের রাজনৈতিক সমীকরণও পাল্টাতে চলেছে? তৃণমূলের মধ্য়েই দুটি গোষ্ঠী তৈরি হতে পারে?
বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-র দাবি, 'কেন্দ্রীয় বিজেপি ও রাজ্য নেতৃত্ব , শুভেন্দু বাবু ও শমীক দা যদি দরজা খুলে দেয়, ২০ জন সাংসদ আসতে প্রস্তুত' । অর্থাৎ বিজেপি দরজা খুললেই, তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ পা বাড়িয়েই আছেন আসার জন্য ।
বুধবার মুখ্য়মন্ত্রীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার-সহ ৬ জন তৃণমূল বিধায়ক। আপাত দৃষ্টিতে দেখলে এর মধ্য়ে কোনও অস্বাভাবিকত্ব নেই। এটাই স্বাভাবিক ! দেশের অন্য়ান্য় রাজ্য়ে উন্নতির জন্য় শাসক-বিরোধী একমঞ্চেই বসে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তা হয়না। তাই এই দৃশ্য় অনেককেই চমকে দিয়েছে।
অন্যদিকে কল্যাণীর সেই প্রশাসনিক সভার পর, বিধানসভায় আসেন শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক করেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর সঙ্গে।
উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ এবং জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বিধানসভার বিভিন্ন কমিটি তৈরি ও আগামী দিনের রোডম্যাপ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। কিন্তু, তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই বৈঠকের মাঝে হঠাৎ করে উপস্থিত হন উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, এবং এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা। বৈঠক থেকে বেরিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন ঋতব্রত।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের পাশে থাকবেন। প্রায় মিনিট পনেরো এখানে ছিলেন দুই তৃণমূল বিধায়ক। এই তো ক'দিন আগেই দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হঠাৎ সাক্ষাৎ রাজ্য় রাজনীতিতে জল্পনা তৈরি হয়। এর আগে, দলীয় বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সামনেই দাবি করেছিলেন, ফলতার পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো তৃণমূল প্রার্থী ও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খানকে বহিষ্কার করা হোক। সেই প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের পুরনো মন্তব্য়ের প্রসঙ্গও টেনে এনেছিলেন তিনি। জাহাঙ্গির খানকে কেন দল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে না? এই প্রশ্ন তুলেছিলেন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহাও। সেইসঙ্গে আরও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় করেছিলেন তিনি। আর তারপর মঙ্গলবার বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সেই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। কিছু কি তাহলে ঘটতে চলেছে?






















