Vande Mataram : 'রবীন্দ্রনাথকে RSS কোনওদিনই পছন্দ করেনি', বন্দে মাতরম বিতর্কে বিস্ফোরক ব্রাত্য, বললেন, ' বঙ্কিমচন্দ্রকে...'
জাতীয় গান বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে জারি হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম। তারই মধ্যে বিতর্কে ঘি ঢালল রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর একটি মন্তব্য।

কলকাতা : ভোটের আগে বঙ্গ রাজনীতিতে বঙ্কিমচন্দ্র-রবীন্দ্রনাথ নিয়ে ফের 'সংঘাত'! বঙ্কিম-রবি বিভাজনের অভিযোগে পাল্টা কেন্দ্রকে আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেতা, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। দেশজুড়ে বন্দে মাতরমের সার্ধ শতবর্ষ পালন করছে কেন্দ্র। সেই আবহেই জাতীয় গান বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে জারি হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম। তারই মধ্যে বিতর্কে ঘি ঢালল রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর একটি মন্তব্য।
এবার সরাসরি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে খাটো করার অভিযোগ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের বিরুদ্ধে। রবীন্দ্রনাথের প্রতি অনীহা থেকেই নাকি বঙ্কিমচন্দ্রকে বড় করে দেখাতে চাইছে কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা সরকার। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন ব্রাত্য।
'বন্দে মাতরম' রচনার দেড়শো বছর উপলক্ষ্যে স্রষ্টা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্য়ায়কে সম্মান জানাতে নির্দেশ জারি করে সরকারি অনুষ্ঠানে 'বন্দে মাতরম'-এর প্রথম ৬ স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে । সব রাজ্য সরকারকে এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, 'জন গণ মন'-র আগে জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম'-এর সরকারি সংস্করণ গাওয়া বা বাজানো বাধ্যতামূলক । আর এই নির্দেশেই চটেছেন ব্রাত্য বসু। তাঁর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে RSS বা হিন্দু সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলো কোনওদিনই পছন্দ করেনি।'
বন্দে মাতরম নিয়ে বিতর্ক চলছিলই। তারই মধ্যে আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর মন্তব্য। রাজনীতিতে বাকযুদ্ধ চিরকালীন!
এখন মনীষীরাও অজান্তেই তার অঙ্গ হয়ে পড়ছে! ব্রাত্য বলেছেন, ''এঁরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুক্তমনা দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে ছোট করতে চেয়েছিলেন । এবার সরকারি নির্দেশের মাধ্যমে বঙ্কিমচন্দ্রকে বড় করার নামে রবীন্দ্রনাথকে ছোট করা হল', বন্দে মাতরম বিতর্কে অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর।
কেন্দ্রের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে -
- পদ্ম পুরস্কার, নাগরিক সম্বর্ধনা, সরকারি অনুষ্ঠান এবং সরকার আয়োজিত অন্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির আসা এবং যাওয়ার সময় বাজাতে হবে জাতীয় গান।
- অল ইন্ডিয়া রেডিও এবং টেলিভিশনে রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার ঠিক আগে এবং পরে বাজবে এই গান।
- রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের যে কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে রাজ্যপালের আসা ও যাওয়ার সময় জাতীয় গান বাজানো হবে।
- যখন কোনও কুচকাওয়াজে জাতীয় পতাকা আনা হবে়।
- ভারত সরকার বিশেষ আদেশ জারি করলে জাতীয় গান বাজানো হবে।
এই নির্দেশ ও তারপর ব্রাত্য বসুর এই মন্তব্যে ভোটের আগে ফের একবার উস্কে উঠল বঙ্কিম বনাম রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গ। সব মিলিয়ে ২৬-এর নির্বাচনের আগে মনীষীদের নিয়েও তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর।























