West Bengal Assembly Elections 2026: হচ্ছে না বাম-কংগ্রেস জোট, পশ্চিমবঙ্গে একাই লড়বে হাত শিবির, রাহুলের উপস্থিতিতেই হল সিদ্ধান্ত
CPM-Congress No Alliance: SIR-এর কাজ শেষ হলেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন।

কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে আর বাম-কংগ্রেসের জোট হচ্ছে না। সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম আগেই সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়েছিলেন। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর এবার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল কংগ্রেস হাইকম্যান্ডও। ২৯৪টি আসনে এবার কংগ্রেস একাকীই লড়াই করবে বলে জানানো হয়েছে। (CPM-Congress No Alliance)
SIR-এর কাজ শেষ হলেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নিয়ে চূড়ান্ত তৎপরতা রাজনৈতিক দলগুলির অন্দরে। কিন্তু এবার সিপিএম এবং কংগ্রেস জোট বেঁধে লড়বে কি না, সেই নিয়ে গোড়া থেকেই সন্দেহ দানা বাঁধছিল। দুই পক্ষের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না, আসনের প্রশ্নেও ঐক্যমত্য গড়ে উঠছে না বলে শোনা যাচ্ছেল। (West Bengal Assembly Elections 2026)
সেই আবেহই কংগ্রেস হাইকম্যান্ড জোট না গড়ার কথা জানিয়ে দিল। বিধান ভবনে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের তরফে বলা হয়, "তৃণমূলের সঙ্গে জোট নিয়েও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। সিপিএম এবং অন্য দলের সঙ্গে সমীকরণ নিয়েও উঠে আসছিল দাবিদাওয়া। কংগ্রেস নেতৃত্ব সব পক্ষের কথা শুনেছেন। শেষ পর্যন্ত বোঝা গিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে এবার সাধারাণ মানুষ তো বটেই, দলের কর্মীরাও চান কংগ্রেস একা লড়াই করুক। তাই সামগ্রিক ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এবার পশ্চিমবঙ্গে আমরা ২৯৪টি আসনে একাকীই লড়াইউ করব। বাম বা অন্যদের সঙ্গে জোট করাতে, আমাদের দলের কর্মীদের মনোবল কোনও না কোনও ভাবে ভেঙে যাচ্ছিল।" ওই বৈঠকে রাহুল গাঁধীও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, "২০১৬ সালে আমরা বিরোধী দলের তকমা পেয়েছিলাম। তার পর টানাপোড়েনের পর আজ এতদিন রাজনীতি চলছে। নিজেদের সমীক্ষা অনুসারে একা লড়াটা ঠিক মনে হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসের। তাই একজন কংগ্রেস কর্মী হিসেবে আমার নেতৃত্বের নির্দেশ পালন করে থাকি। আমি তাঁদের সিদ্ধান্তে বলেছি, একা লড়া যাবে মনে হলে, আমিও একাই লড়বে।"
২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জোর টক্কর হতে চলেছে বলে এখন থেকেই প্রমাদ গুনছেন সকলে। কারণ SIR-এর পর এটিই প্রথম নির্বাচন হবে। তৃণমূল এবং বিজেপি একার মতো লড়াই করলেও, অন্য দলগুলি কী অবস্থান নেয়, সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন সকলেই। তৃণমূল এবং কংগ্রেসের মধ্যেও জোট হতে পারে বলে শোনা যায় সম্প্রতি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে আসন ছাড়তে রাজি হননি বলে খবর আসে।
তবে বাম এবং কংগ্রেসের মধ্যে যে সব কিছু ঠিক নেই, গত কয়েক মাস ধরেই সেই ইঙ্গিত মিলছিল। মহম্মদ সেলিম খোদ সেকথা জানান গত সপ্তাহে। জানান, কংগ্রেসের অবস্থান জানতে এক বছর অপেক্ষা করেছিলেন তাঁরা। আশা ছিল, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে উত্তর মিলবে। কিন্তু তেমন কোনও সাড়া মেলেনি। তাই নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের দিকে এগোবেন না। তবে বামফ্রন্টের অন্দরেও জোটের প্রশ্নে বিরোধ বেঁধেছে বলে জানা গিয়েছে। বামফ্রন্টের বৈঠকে ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়ের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই তেতে ওঠে যে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান নরেন। এমনকি হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সেলিমের সাক্ষাতেও আপত্তি ওঠে।আসন ভাগাভাগির প্রস্তাব ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা দেবেন শরিকরা, এমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে। তার পরের দু'দিন সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত আলোচনা হবে বলে ঠিক হয়েছে।























