Supreme Court: ‘কিছু অন্তত দিন’! DA নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট, রাজ্য বলল, ‘১০০ দিনের টাকাও পাই না, সব নিজেদের করতে হচ্ছে’
DA Case: মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে DA মামলার শুনানি শুরু হয়েছে।

কলকাতা: রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা দেওয়া নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত (DA Case)। সেই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন DA আদৌ মৌলিক অধিকার কিনা, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠল। পাশাপাশি, রাজ্যের সরকারি কর্মীদের কিছু টাকা হলেও দেওয়া হোক বলে মন্তব্য করল শীর্ষ আদালত। পাল্টা রাজ্য জানাল, ১০০ দিনের কাজের টাকাও দিচ্ছে না কেন্দ্র। সবটাই রাজ্যকে নিজের কোষাগার থেকে দিতে হচ্ছে। (Supreme Court)
মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে DA মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। সেখানে মধ্যাহ্ন বিরতির পর রাজ্য সরকারের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলে, "ওঁরা তো আপনাদেরই কর্মী! কোথাও পালিয়ে যাচ্ছেন না। রাজ্য সরকারকে বলুন, কিছু টাকা হলেও দিন।" এর পাল্টা, সংবিধানকে উদ্ধৃত করেন রাজ্য সরকারের আইনজীবী। তিনি বলেন, "২৫ শতাংশ DA দেওয়ার যে অন্তর্বর্তী নির্দেশ, তা সাংবিধানিক এক্তিয়ারভুক্ত।" (DA Case)
গত ১৬ মে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া DA-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে বলে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। ছয় সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল তার জন্য। গত ২৭ জুন সেই সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। তবে এখনও বকেয়া DA দিতে পারেনি রাজ্য। বরং আরও ছ'মাস সময় চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় তারা। জানায়, যে ২৫ শতাংশ হারে DA মিটিয়ে দিতে বলা হয়, তা আদালতে জমা রাখতে রাজি তারা। সেই নিয়েই শুনানি চলছে।
আদালত এদিন অন্তত কিছু টাকা মিটিয়ে দেওয়ার কথা বললে, রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, "বাজারদরের ভিত্তিতে DA দিতেই হবে, এমন কোথাও বলা নেই। ট্রাইবুনালের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে এধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী নির্দেশে যে টাকা দেওয়ার কথা বলা রয়েছে, তার জন্য ধার করতে হবে রাজ্য সরকারকে। RBI থেকে টাকা ধার করতে হবে, তার জন্য বিল পাস করাতে হবে বিধানসভায়।" রাজ্যের তরফে আদালতে বলা হয়, "এভাবে টাকা দিতে পারি না আমরা। ১০০ দিনের টাকাও পাই না আমরা। সেই টাকাও আমাদের নিজেদের দিতে হচ্ছে। বাজারদরের কথা বলে এভাবে রাজ্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যায় না।"
রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া DA নিয়ে সকাল থেকেই সওয়াল জবাব চলছে। সেখানে DA আদৌ মৌলিক অধিকার কিনা, তা নিয়ে বিস্তর তর্ক চলে। বিচারপতি সঞ্জয় করোল বলেন, "কলকাতা হাইকোর্ট মহার্ঘভাতাকে মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে বলেছিল। এ বিষয়ে আপনাদের কী মত? আমরাও বিবেচনা করে দেখেছি। এই পর্যবেক্ষণ নিয়ে আমাদের মনেও সন্দেহ আছে।" যদিও রাজ্য সাফ জানিয়েছে, DA কোনও মৌলিক বা আইনি অধিকার নয়। রাজ্য সরকারই DA-র হার নির্ধারণ করতে পারে।
কলকাতা হাইকোর্ট এর আগে যে রায় দিয়েছিল, তাতে DA মৌলিক অধিকার হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছিল। কিন্তু এদিন আদালত জানায়, এমন কিছু পাওয়া যাচ্ছে না, যার আওতায় DA-কে মৌলিক অধিকার বলা যেতে পারে। এতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের আইনজীবী, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, 'পাসিং রেফারেন্স' হিসেবেই কলকাতা হাইকোর্ট ওই মন্তব্য করেছিল। মৌলিক অধিকার নয়, বরং DA পাওয়া সরকারি কর্মীদের আইনি অধিকার।
কিন্তু রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা স্পষ্ট জানান, রাজ্য সরকার DA দেয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় হারে DA দিতে হবে বলে দাবি তোলা হচ্ছে। এমন কোনও আইনে বলা নেই যে, কেন্দ্রের হারে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের DA দিতে হবে। বরং নিজেদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা, মূল্যবৃদ্ধি, সব কিছু দেখে রাজ্য DA-র হার ঠিক করে। রাজ্য সরকারই DA-র হার ঠিক করবে। এটা তাদের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে। কেন্দ্রের হারে DA দিতে হবে বলে রাজ্যকে বাধ্য করতে পারেন না রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা।
দেশেক বহু রাজ্যেই কেন্দ্রীর হারে DA দেওয়া হয় না বলে এদিন রাজ্যের তরফে সওয়াল করতে গিয়ে দাবি করেন বর্ষায়ীন আইনজীবী সিব্বলও। তিনি বলেন, "রাজ্যের নিরিখে DA-র হার আলাদা। ১৩টি এমন রাজ্য রয়েছে দেশে, যারা কেন্দ্রের সমান DA- দেয় না, নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী DA-র হার নির্ধারণ করে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সাধ্য মতো DA দিচ্ছে।"






















