Durga Puja 2025: বর্ধমান রাজবাড়ির পুজোয় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নেই! হবে না ডাণ্ডিয়া নৃত্য, কিন্তু কেন?
Burswan Rajbati: রাজবাড়িতে মা দুর্গা পটে আঁকা। তাতেই হয় পুজো। প্রতি ১২ বছর অন্তর অঙ্গরাগ করা হয় পটে।

কমলকৃষ্ণ দে, পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান রাজবাড়িতে আজও হয় পটে আঁকা দুর্গার পুজো। প্রতিপদে ঘট স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয় বর্ধমান রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। পুজো চলে দশ দিন ধরে। রাজবাড়িতে মা দুর্গা পটে আঁকা। তাতেই হয় পুজো। প্রতি ১২ বছর অন্তর অঙ্গরাগ করা হয় পটে।
শোনা যায়, পটেশ্বরী দুর্গাপুজো শুরু করেন বর্ধমানের মহারাজ মহাতাব চাঁদ। পুজো শুরু হয় আজ থেকে প্রায় ৩৫০ বছর আগে। দেবী দুর্গা এখানে শালকাঠের কাঠামোর উপর প্রতিষ্ঠিত। কাঠের কাঠামোর উপর নানান রং দিয়ে নিপুণ তুলির টানে তৈরি হয় দশভুজার একচালার পটের মূর্তি।
এখানে একমাত্র গণেশ ছাড়া দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিকের মুখের ছবি এমন ভাবে আঁকা আছে যেখানে শুধুমাত্র একটি করে চোখ দেখা যায়। শুধু তাই নয়, মা দুর্গার বাহন সিংহকে দেখতে অনেকটা ঘোড়ার মত। কিন্তু দেবীর অঙ্গরাগের পর মা দুর্গার রূপের কোনও পরিবর্তন হয় না। ৩৫০ বছর ধরে রূপ একই রয়েছে দেবীর।
রাজার আমলের রীতিনীতি মেনেই লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরে মহালয়ার পরের দিন অর্থাৎ প্রতিপদ থেকে দুর্গাপুজো শুরু হয় আজও। চলে ১০ দিন ধরে। এখানে বলি প্রথা ছিল। তবে মহিষ বা ছাগ বলি হতো না। হতো সুপারি বলি। এখন অবশ্য কোনও বলি হয় না।
রাজাদের কুলদেবতা লক্ষী নারায়ণ জিউ মন্দিরের পাশে ছিল দুর্গা দালান। দুর্গা দালান ভেঙে যাওয়ায় পর বর্তমানে লক্ষী নারায়ণ জিউ মন্দিরে পূজিত হন মা পটেশ্বরী। নবমীর দিন পটেশ্বরীর সামনে নবকুমারী পুজো হয়। ১০ দিন ধরে গুজরাতি সম্প্রদায়ের মানুষজন এসে নাটমন্দিরে ডাণ্ডিয়া নৃত্য প্রদর্শন করেন। যা দেখতে ভিড় হয় বহু মানুষের। সেই রীতি এখনও চালু আছে।
পুজোর ভোগ প্রসাদেও আছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য। অন্যান্য ভোগের পাশাপাশি পুজোর ভোগে দেওয়া হয় ছোলা, হালুয়া, পুরী। রাজ পরিবারের প্রথা অনুযায়ী রাজ পরিবারের মহিলারা সবার সামনে আসতেন না। রাজবাড়ি থেকে গোপন রাস্তা দিয়ে তাঁরা মন্দিরে প্রবেশ করতেন এবং মন্দিরের দোতলায় দর্শনির মাধ্যমে পুজো ও নানান অনুষ্ঠান দেখতেন। মন্দিরে থাকা মানুষজন এই রাজ পরিবারের মহিলাদের দেখতে পেতেন না। যদিও তা এখন অতীত।
বর্ধমান মহারাজের আমলে ধুমধাম করে পটেশ্বরী দুর্গাপুজো হতো বর্ধমান রাজবাড়িতে। রাজ আমলে দুর্গাপুজোর জৌলুস ছিল আলাদা। পুজোর সময় ঝারবাতির আলোর ঝলমলানি দেখা যেত রাজবাড়িতে। পুজো উপলক্ষে হতো বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। হতো যাত্রাপালা।
দামোদর নদীর ওপার থেকেও অনেক মানুষজন পায়ে হেঁটে, গরুর গাড়িতে করে আসতেন এই মন্দিরে পুজো দেখতে।জাঁকজমকপূর্ণ ভাবেই হতো পুজো। তবে জৌলুস কমলেও পুজোর আচার রীতিনীতিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। এখনও আগের মতই পুরানো রীতি মেনেই রাজপরিবারে পুজো হয় দেবী পটেশ্বরীর।
তবে নামেই রাজবাড়ি। রাজবাড়ির বেশিরভাগ অংশই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ও বর্ধমান মহিলা কলেজকে দান করে দিয়েছে রাজ পরিবার। রাজাদের কুলদেবতা লক্ষী নারায়ণ জিউ মন্দিরের আজ ভগ্নদশা। ছত্রে ছত্রে মলিন দশা। দেওয়ালে বেশিরভাগ জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ২ সেপ্টেম্বর ভেঙে পড়েছে লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরের নাট মন্দিরের একাংশ। তাই পুজো হলেও এবার সাধারণের জন্য প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে লক্ষীনারায়ন জিউ মন্দিরে। এমনকী এবছর চিরাচরিত ডান্ডিয়া নাচও হবে বর্ধমানের সোনার কালীবাড়ি মন্দিরে।






















