Sisir Adhikari On TMC: পূর্ব মেদিনীপুরে একদা তিনিই ছিলেন দলের কাণ্ডারী, এবার সেই শিশির অধিকারীই BJP-র মঞ্চে দাঁড়িয়ে বললেন, 'তৃণমূলে যোগ দেওয়া ভুল ছিল, ক্ষমা চাইছি..'
Sisir Adhikari Attacks TMC: দুর্নীতি ইস্য়ুতে নাম না করে বিঁধলেন তৃণমূলকে, বিজেপির মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক বক্তব্য পেশ

ঋত্বিক প্রধান, কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, বিটন চক্রবর্তী, পূর্ব মেদিনীপুর : 'ভুল পথে চলে গিয়েছিলাম, গলবস্ত্র হয়ে ক্ষমা চাইছি' পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের গলবস্ত্র হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা শিশির অধিকারীর। একইসঙ্গে ২৬-এর ভোটে বদলের ডাকও দিলেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। দুর্নীতি ইস্য়ুতে নাম না করে বিঁধলেন তৃণমূলকে। শিশির অধিকারীর এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল।
দু'দশকের বেশি সময় তৃণমূল করেছেন। পূর্ব মেদিনীপুরে একদা তিনিই ছিলেন তৃণমূলের কাণ্ডারী। যদিও ৫ বছর আগেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তাঁর। এবার সেই শিশির অধিকারীই বিজেপির মঞ্চে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইলেন! শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের, ভগবানপুরের ইটাবেড়িয়ায়, বিজেপির যোগদান কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচিতে আমন্ত্রিত ছিলেন বর্ষীয়ান নেতা ও কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী। সেখানেই গলবস্ত্র হয়ে মঞ্চ ছুঁয়ে ক্ষমা চাইলেন তিনি।
কাঁথি প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আমরাই করেছিলাম। আজকে গলবস্ত্র হয়ে আপনাদের কাছে, আমি থাকতে পারব না, আমার দাঁড়াবার শক্তি খুব কমে গেছে ... এই মাটি ছুঁয়ে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। ক্ষমা করে দেবেন। একটা ভুল পথে চলে যাওয়া এবং সেই ভুল পথে আপনাদেরও সঙ্গে নিয়ে গেলাম। আপনাদের কিছু আমরা করতে পারলাম না। চোখ থেকে জল পড়ে যায়। আমি ভুল করেছিলাম। আপনাদের সেই পথে চালিত করেছিলাম। আপনারা ক্ষমা করবেন।
তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, এতদিন হয়তো ছেলে ওকে চাপ দিয়ে ঘাড় ধরে এই ক্ষমা চাইয়েছেন। সবাইতো বলে যে দীর্ঘদিন শিশিরবাবু তৃণমূলে আর ওর ছেলে বিজেপিতে ছিল। এবার নিশ্চয় শুভেন্দু চাপ দিয়েছে। শিশিরবাবুকে কখনই আমার খুব রাজনৈতিক লোক বলে মনে হয়নি। উনি গলবস্ত্র ক্ষমা চাইছেন ছেলের হয়ে দুটো ভোট পাওয়ার জন্য। আমি এর কোনও গুরুত্ব দিই না। ২০০৯ থেকে তৃণমূলের টিকিটে টানা তিনবার জিতে কাঁথির সাংসদ হয়েছিলেন শিশির অধিকারী।
তৃণমূলে থাকাকালীনই কেন্দ্রে UPA সরকারের প্রতিমন্ত্রীও হয়েছিলেন। কিন্তু, ছবিটা বদলায় ২০২১ এ। নন্দীগ্রাম থেকে বিজেপির টিকিটে জিতে, বিধায়ক ও বিরোধী দলনেতা হন ছেলে শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা ভোটের আগে, এগরায় অমিত শাহের সভামঞ্চে দেখা গেছিল শিশির অধিকারীকে। এরপরই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে তাঁর। দুয়ারে আরও এক বিধানসভা ভোট। ২৬ এর বিধানসভা ভোটের আগে সেই শিশির অধিকারীই গলবস্ত্র হয়ে ক্ষমা চাইলেন।
শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে ২০২৬ এ সরকার বদলের ডাক দেন তিনি। কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী বলেন, সরকারটা এনে দেন। '২৬ সালে সরকারটা এনে দেন। আমি বাঁচব, অনেকদিন বাঁচব। টেনে নিয়ে আসব। হড়হড় করে টেনে আনব। কোটি কোটি টাকার সম্পদ লুকিয়ে আছে। শুধু বালি চুরি করে বিক্রি করল। চুরি করে বিক্রি করল। কয়লা চুরি করে বিক্রি করল। জল চুরি করে বিক্রি করছে। কী নেই?'শিশির অধিকারীর সুরে অবশ্য সুর মিলিয়েছেন ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
অন্যদিকে এদিনই শিশির অধিকারীর সভার পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভূপতিনগর। অভিযোগ বিজেপির পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে বিজেপি। আর এই নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও বিজেপির সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।






















