Jahangir Khan: ভোটের আগেই জাহাঙ্গিরের 'পিঠটান', কেন বহিষ্কার করছে না দল? প্রশ্নের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও
Falta Fresh Poll: 'পুষ্পা ঝুকেগা নেহি' বলা ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এখন ভোটের আগেই কার্যত পালিয়েছেন। ৪ মে রাজ্যে পালাবদলের পরেই ফলতার 'পুষ্পা' পগারপার।

কলকাতা : ২১ মে ফলতায় বিধানসভা নির্বাচন। গত ২৯ এপ্রিল ভোট হয়েছিল এই কেন্দ্রে। তবে একাধিক কারচুপির অভিযোগ আসায় বাতিল হয় নির্বাচন। নতুন করে ২১ মে ভোট হতে চলেছে ফলতায়। ২৯ এপ্রিল ভোটের সময় সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন জাহাঙ্গির খান। কিন্তু এবার অর্থাৎ ২১ মে ভোটের ঠিক আগে আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাহাঙ্গির। আর তাই নিয়ে এবার তৃণমূলের অন্দরেই উঠছে প্রচুর প্রশ্ন। এমন পদক্ষেপের পরেও কেন জাহাঙ্গিরকে বহিষ্কার করছে না দল? এই প্রশ্নই সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে করছেন তৃণমূলের বিধায়কদের একাংশ। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স মাধ্যমে পোস্ট করে বলেছেন এই সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গিরের ব্যক্তিগত। তবে সেসব ধোপে টিকছে না। উল্টে তৃণমূলের অভ্যন্তরে জাহাঙ্গিরকে নিয়ে উষ্মা বাড়ছে। জাহাঙ্গিরকে নিয়ে দলের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও হাজার প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
'পুষ্পা ঝুকেগা নেহি' বলা ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এখন ভোটের আগেই কার্যত পালিয়েছেন। ৪ মে রাজ্যে পালাবদলের পরেই ফলতার 'পুষ্পা' পগারপার। একসময় যিনি ছিলেন ফলতার সর্বেসর্বা, ভোটের আগে তিনিই পিঠটান দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে জাহাঙ্গির খানের এ হেন সিদ্ধান্তের পরেও কেন তাঁকে বহিষ্কার করছে না তৃণমূল, কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ দলেরই বিধায়কদের অনেকে। মঙ্গলবার তৃণমূলের বৈঠকেই জাহাঙ্গির খানকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা-র মতো তৃণমূল বিধায়করা।
আর বুধবার উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলেছেন, 'জাহাঙ্গিরের মতো প্রিভিলেজড একজন লোক যখন পার্টিকে পিছন থেকে ছুরি মারল তখন তাঁকে বহিষ্কার করতে সমস্যা কোথায়, আমরা বুঝতে পারছি না।' ঋতব্রত আরও বলেছেন, 'দূর থেকে দেখে মনে হতো কোন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আমি পার্লামেন্টে থাকার সময়ে কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরও এত লটবহর দেখিনি, এমন মেজাজ ছিল তাঁর। জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে আলাপ না থাকলেও... হাবে, ভাবে, ধারে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদেরও ছাপিয়ে যাওয়ার মতো তাঁর হাবভাব। সব মিলিয়ে মনে হতো জাহাঙ্গির খান মানে একটা বিরাট ব্যাপার। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। জাহাঙ্গিরই শেষ কথা।'
'পুষ্পা শুকিয়ে পুষ্প ঝরে পড়ায়...', জাহাঙ্গিরকে নিয়ে বিস্ফোরক ঋতব্রত
অন্যদিকে, বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ জাহাঙ্গির প্রসঙ্গে বলছেন, 'পুষ্পা, সে তো ঝুঁকে গা নেহি। পুষ্পা ভয় পাবে কেন? তবে এটা ডায়মন্ড হারবার মডেলের অন্তর্গত। মাননীয় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল ভোটে সেখানে জিতেছিলেন। নিশ্চয় তিনি বিচার বিশ্লেষণ করছেন। এ ব্যাপারটা উনি বলতে পারবেন।'
জাহাঙ্গিরের দাপট, তাঁকে প্রশ্রয় দেওয়া নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তৃণমূলেরই অন্দরে। রাজ্য়ে পালাবদল হতেই ফলতা বিধানসভার নতুন করে নির্বাচনের প্রচারে নেই অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়! আর সেইসঙ্গে, লড়াইয়ের আগেই হাওয়া জাহাঙ্গিরও। কিন্তু, তারপরও জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে কোনও ব্য়বস্থা নেয়নি তৃণমূল, কেন? প্রশ্ন উঠছে তৃণমূলের অন্দরেই।
























