Bangla Pokkho: গ্রেফতার 'বাংলা পক্ষ'র গর্গ চট্টোপাধ্যায়, কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে?
Garga Chatterjee Arrested: গ্রেফতার 'বাংলা পক্ষ'র গর্গ চট্টোপাধ্যায়। গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল।

কলকাতা: গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল। নির্বাচনের আগে তাঁর বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক মন্তব্যের অভিযোগ।
ইভিএম নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ ছিল। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার গর্গ চট্টোপাধ্যায়। আগামী কাল আদালতে পেশ করা হবে গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে। (Garga Chatterjee Arrested)
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ। গর্গর গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, "ডিও নর্থ অভিযোগ করেছিলেন যে নির্বাচনের সময় EVM বিকৃতি নিয়ে পোস্ট করেছিলেন। EVM বিকৃতি হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন। ওঁর পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়, বিভ্রান্তি ছড়ায়। রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানান আন্দোলন করতে। সেই নিয়ে চারিদিকে গুজব ছড়ায়। এর বিরুদ্ধে ডিও মামলা করেছিলেন। সেই মতো মামলা হয়েছিল। নোটিস দিয়ে দু'বার ডাকা হয়। ওঁকে দু'বারই আসেননি। তার পরই গ্রেফতার করা হয়।" (Bangla Pokkho)
কলকাতা থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে গর্গকে। গর্গর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা ছিল। সেই নিয়ে প্রশ্ন করলে কমিশনার বলেন, "পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা ছিল। বার বার ওঁর তরফে পোস্ট আসছিল, যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নানা কথা বলছিলেন। এতে ভেদাভেদ তৈরি হচ্ছিল। ওই মামলাতেও ওঁকে অ্যাটাচ করা হবে।" মামলা হয়েছিল ময়দান থানায়। এর পর সাইবার শাখা থেকে নোটিস পাঠানো হয়।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে EVM নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন গর্গ। রাতে দেখেশুনে সিল করে রাখার পরও, 'ভোটগণনার সময় EVM খারাপ হচ্ছে কেন', প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। "বেলার দিকে নির্বাচন কমিশনের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে" বলেও মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁকে। ভোট দিয়ে বেরনোর আগে ভাল করে ভিভিপ্যাট দেখে নিতেও পরামর্শ দিয়েছিলেন গর্গ। তবে তাঁর কোন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অভিযোগ দায়ের হয়, তা জানা যায়নি এখনও পর্যন্ত।
নির্বাচনের আগে কমিশনের বিরুদ্ধে শোভাযাত্রায় অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ তোলে 'বাংলা পক্ষ'। তাদের দাবি ছিল, পয়লা বৈশাখে শোভাযাত্রা বের করতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু তাদের অনুমতি দেয়নি কমিশন। অনুমতি না দিয়ে কমিশন 'বাঙালির গৌরব এবং সংস্কৃতির' উপর আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করে তারা। যদিও কমিশন জানায়, আদর্শ আচরণ বিধি কার্যকর থাকায় অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বাঙালি অস্মিতাকে সামনে রেখে তৈরি 'বাংলা পক্ষ'র প্রধান গর্গ। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের অধিকার রক্ষা, বাঙালি সংস্কৃতির প্রসার নিয়েই মূলত কাজ করে ওই সংস্থা। ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর সংস্থাটির যাত্রা শুরু হয়। মূলত হিন্দি ভাষা ও হিন্দি বলয়ের সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরোধিতা করে তারা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরকারি কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার, চাকরিতে বাঙালি যুবক-যুবতীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি তুলেছিল তারা।
আরও পড়ুন: চন্দ্রনাথ রথ খুনে এবার তদন্তে CBI, রাজ ও ভিকিকে ‘সুপারি’ দিল কে?
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থাতেও বাংলা ভাষার উপর জোর দেওয়ার কথা বলে 'বাংলা পক্ষ'। পশ্চিমবঙ্গের বোর্ড নির্বিশেষে সমস্ত স্কুলে আবশ্যিক হিসেবে বাংলা ভাষাকে রাখতে হবে বলে দাবি তোলে কারা। সেই মতো শিক্ষা দফতরে ডেপুটেশনও জমা দেওয়া হয়। 'হিন্দি আগ্রাসনে'র বিরোধী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন গর্ব। যদিও তাঁর এই অবস্থানের বিরোধিতাও করেছেন অনেকে। তিনি তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বলেও ওঠে অভিযোগ। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সোশ্য়াল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে চর্চা ছিল তুঙ্গে।






















