Launch Sinks : হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীতে ট্রলারের ধাক্কায় ডুবল লঞ্চ
৫ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যেই লঞ্চটি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। সেই সময় লঞ্চে চালক-সহ মোট পাঁচজন ছিলেন।

গৌতম মণ্ডল , নামখানা: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠান শেষে কলকাতা থেকে ফেরার পথে বড়সড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ল একটি লঞ্চ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীতে মাছ ধরার ট্রলারের ধাক্কায় ডুবে যায় ‘এম.ভি মা অজন্তা’ নামে একটি লঞ্চ। ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ নামখানা থানার খাটুয়ার ঘেরি ঘাট সংলগ্ন এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার ডকঘাট থেকে গোসাবার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল লঞ্চটি। নামখানা মৎস্য বন্দর পেরিয়ে ভগবতপুরের দিকে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ‘এফবি করুণাময়ী’ নামে একটি মৎস্যজীবী ট্রলার সজোরে ধাক্কা মারে লঞ্চটিকে। সংঘর্ষের জেরে লঞ্চের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই জল ঢুকতে শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যেই লঞ্চটি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। সেই সময় লঞ্চে চালক-সহ মোট পাঁচজন ছিলেন। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। তবে স্থানীয় একটি ট্যুরিস্ট লঞ্চ এবং নদীতে থাকা মৎস্যজীবীদের দ্রুত তৎপরতায় লঞ্চে থাকা সকলকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানাচ্ছেন , আচমকা ট্রলারের ধাক্কায় লঞ্চটি নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করলে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে উপস্থিত মৎস্যজীবী এবং একটি পর্যটকবাহী লঞ্চের কর্মীদের তৎপরতায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লঞ্চে থাকা পাঁচজনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা এড়ানো গিয়েছে।
কী বলছে পুলিশ ?
খবর পেয়ে নামখানা থানার পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। কী কারণে এই সংঘর্ষ ঘটল, নৌযান চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, কিংবা অন্য কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়া লঞ্চটিকে উদ্ধারের কাজও শুরু হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ দলের সাহায্যে ডুবন্ত লঞ্চটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি না ঘটলেও নদীপথে যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ব্যস্ত জলপথে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে আরও কড়া নজরদারি এবং নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করা জরুরি।























