Purba Medinipur: তৃণমূলের পঞ্চায়েত ভোট ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের, কেন?
High Court:তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ দিয়ে ৬ সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি

সৌভিক মজুমদার ও বিটন চক্রবর্তী, কলকাতা: পঞ্চায়েত ভোট- বোর্ড গঠন ঘিরে টানাপড়েন। তারপরে তৃণমূলের দখলে গিয়েছিল বোর্ড। অগাস্টে হওয়া সেই পঞ্চায়েত বোর্ড ভেঙে দিল হাইকোর্ট। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের ঘটনা। বিচারপতি অমৃতা সিন্হা পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারে তৃণমূলের পঞ্চায়েত ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বুধবার। তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ দিয়ে ৬ সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিলেন তিনি।
চলতি বছরেরব ১১ অগাস্ট বোর্ড গঠনের দিনই বিরোধী শিবিরের এক জয়ী সদস্যকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। যার জেরে আসনের নিরিখে পিছিয়ে থেকেও পঞ্চায়েত দখল করেছিল শাসকদল। আসন জয়ের নিরিখে তৃণমূলের থেকে বিরোধীরা এগিয়ে থাকলেও, বিরোধী শিবিরের পঞ্চায়েত প্রধানের পদপ্রার্থীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। যার জেরে পিছিয়ে থেকেও বোর্ড গঠন করে তৃণমূল। বুধবার নন্দকুমারের সেই শীতলপুর পশ্চিম গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের বোর্ড ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরগরম পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতি।
কোন আসনে কে জয়ী?
নন্দকুমারের শীতলপুর পশ্চিম গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ২৩টি আসন রয়েছে। তার মধ্যে পঞ্চায়েত প্রধানের পদটি OBC-র জন্য সংরক্ষিত। ওই ভোটে তৃণমূল ১১টি আসনে জয়লাভ করে। সিপিএমের হাতে আসে ৫টি আসন। বিজেপির দখলেও এসেছে ৫টি আসন। অন্যদিকে ২টি আসনে জয়ী হয়েছিলেন নির্দল প্রার্থী। ফলে মোট আসনের নিরিখে বিরোধীরা সব মিলিয়ে তৃণমূলের থেকে একটি আসনে এগিয়ে ছিল।
তৃণমূল শিবিরে OBC-র জয়ী প্রার্থী ছিলেন হাসিনা বিবি। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে ছিলেন সিপিএমের জয়ী সদস্য আব্দুল জব্বর। গত ১১ অগাস্ট পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের দিনই, পঞ্চায়েত অফিস থেকে সিপিএমের জয়ী সদস্যকে একটি পুরনো মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই ঘটনায় তুমুল শোরগোল হয়েছিল এলাকায়।
এক বিরোধী সদস্যকে গ্রেফতারের জেরে এই পঞ্চায়েতে শাসক-বিরোধী দুই শিবিরের আসন সংখ্যাই ১১ হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে প্রধান হন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য হাসিনা বিবি। গ্রাম পঞ্চায়েত যায় তৃণমূলের দখলে।
আদালতে বিরোধীরা:
এরপর আদালতের দ্বারস্থ হয় বিরোধীরা। এদিন সেই মামলার শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, ৫ জুলাই সিপিএমের জয়ী পঞ্চায়েত সদস্য আব্দুল জব্বরের বিরুদ্ধে নন্দকুমার থানায় মামলা করা হয়। কিন্তু ভোট পর্বে তাঁর কোনও অপরাধ খুঁজে পায়নি পুলিশ। এরপর ১১ অগাস্ট বোর্ড গঠনের দিনই পঞ্চায়েত অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয় আব্দুল জব্বরকে।
২ পক্ষের বক্তব্য শুনে এদিন তৃণমূলের হাতে থাকা শীতলপুর পশ্চিম গ্রাম পঞ্চায়েত বোর্ড ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি অমৃতা সিন্হা। পাশাপাশি ৬ সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্রধান নির্বাচন করে বোর্ড গঠন এবং সেদিন সকল সদস্যের উপস্থিতি সুনিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচনে উপস্থিতি আটকাতেই এই গ্রেফতার করা হয়েছে।
এবার নতুন পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচনের দিনের দিকে তাকিয়ে শাসক-বিরোধী উভয়পক্ষই।
আরও পড়ুন: সপ্তমীর হোমাগ্নি টানা জ্বলে দশমী পর্যন্ত! জৌলুস কমলেও রয়েছে নিষ্ঠা






















