Cyber Fraud: হাওড়ার মহিলাকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে ২৭ লক্ষ টাকা 'প্রতারণা', কানপুর থেকে গ্রেফতার যুবক
Howrah News: ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত শুরু করে হাওড়া সাইবার ক্রাইম শাখা। টেকনিক্যাল নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুলিশ পৌঁছে যায় উত্তরপ্রদেশের কানপুরে।

সুনীত হালদার, হাওড়া: ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ এর ফাঁদে পড়ে ২৭ লক্ষ টাকা খোয়ালেন হাওড়ার বাসিন্দা এক মহিলা। ধাপে ধাপে তাঁর কাছে প্রতারক টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্তের নেমে কানপুরের যুবককে গ্রেফতার করল হাওড়ার সাইবার ক্রাইম শাখা
শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন থানা এলাকায় সাইবার প্রতারণার অভিযোগ। নিজেকে সিবিআই অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে এক মহিলাকে ৪ দিন ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এ রাখার অভিযোগ উঠেছে। হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে খবর, ফোনে কথা বলে ডিজিট্যাল অ্যারেস্ট করে রাখা হয় ৪ দিন। মুক্তিপণ হিসেবে হাতিয়ে নেওয়া হয় ২৭ লক্ষ টাকা। পুলিশ জানিয়েছে, যে ব্যক্তি ডিজিটাল অ্যারেস্ট করেছিলেন তিনি ওই মহিলাকে কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাঙ্কে একটি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলে। ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ ট্রান্সফারও করে দেন তিনি। চারদিন পর যখন ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর প্রক্রিয়া শেষ হয়, তখনই বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে বোটানিক্যাল গার্ডেন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত শুরু করে হাওড়ার সাইবার ক্রাইম শাখা। ডিসি নর্থ বিশপ সরকার বলেন, ওই মহিলা ১৫ই এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ফোনে কথাবার্তার মাধ্যমে ডিজিটাল এরেস্ট ছিলেন। মুক্তি পেতে তার কাছ থেকে প্রতারকেরা ২৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ।
টেকনিক্যাল নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হাওড়ার সাইবার ক্রাইম শাখার একটি টিম পৌঁছে যায় উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। সেখানকার গোয়ালতোড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বিশাল সিংহ নামে ২৮ বছর বয়সী এক যুবককে। জানা গেছে, বিশালের একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র রয়েছে। দলের অন্য সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ইতিমধ্যেই তদন্তকারীরা তাঁর কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা উদ্ধার করতে পেরেছেন। বাকিটা কোথায় গেছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর লেনদেন খতিয়ে দেখছে সাইবার ক্রাইম শাখা। গ্রেফতারের পর বিশালকে উত্তর প্রদেশ থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে হাওড়ায় এনে বৃহস্পতিবার হাওড়া আদালতে পেশ করা হয়। তাঁকে আট দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই চক্রটি বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এবং একাধিক মানুষকে এভাবেই ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নামে নতুন প্রতারণার ফাঁদে ফেলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।






















