Weather Update : অপেক্ষার অবসান! আগামী ২ সপ্তাহে তুমুল বৃষ্টি, ঝড়, বজ্রপাত, দুর্যোগের সতর্কতা কোথায় কোথায়?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই মৌসুমি বায়ু আরও এগোতে পারে বঙ্গোপসাগর ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে।

অবশেষে কেরলে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। ৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে কেরলে বর্ষা ঢোকার পর এখন নজর পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই মৌসুমি বায়ু আরও এগোতে পারে বঙ্গোপসাগর ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে। আর তার প্রভাব পড়তে চলেছে বাংলাতেও।
বর্তমানে উত্তরবঙ্গ সংলগ্ন বিহার এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর আন্দামান সাগরের উপর থাকা একটি উচ্চচাপ ঘূর্ণাবর্ত ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই দুই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির জেরেই আগামী দু’সপ্তাহে বাংলার আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
দক্ষিণবঙ্গে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
৫ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত থেকে মোটামুটি বিস্তৃত বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী—
- ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে
- বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে একাধিক জেলায়
- পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি থাকতে পারে
যদিও বৃষ্টি হবে, তবুও দক্ষিণবঙ্গে সামগ্রিক বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস।
উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
উত্তরবঙ্গে আগামী দু’সপ্তাহেই বর্ষার আবহ আরও বেশি সক্রিয় থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে দ্বিতীয় সপ্তাহে, অর্থাৎ ১২ জুন থেকে ১৮ জুনের মধ্যে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বর্ষণের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ধস ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ঝড়-বৃষ্টির দাপট আগেই দেখেছে বাংলা
গত সপ্তাহেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব দেখা গিয়েছে। ২৯ মে কলকাতার আলিপুরে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার এবং দমদমে ৭৪ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া রেকর্ড হয়েছে।
একইসঙ্গে মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়া ও ঝাড়গ্রামে প্রবল দমকা হাওয়া বয়ে যায়। উত্তরবঙ্গের কালিম্পং জেলাতেও ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
বর্ষা কতদূর এগোল?
৪ জুন পর্যন্ত মৌসুমি বায়ু কেরল, লাক্ষাদ্বীপ, কর্নাটকের কিছু অংশ, তামিলনাড়ু এবং বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেছে। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে গোয়া, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের আরও কিছু অংশে বর্ষা এগিয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে নতুন করে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সেটি সক্রিয় হলে জুনের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলায় বর্ষা আরও জোরালো হতে পারে।
গরম থেকে স্বস্তি মিলবে?
দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা এখনও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বজ্রবৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের কারণে মাঝে মধ্যে গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলবে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকবে বলে পূর্বাভাস। সব মিলিয়ে, জুনের প্রথমার্ধে বাংলার আবহাওয়ায় বর্ষার স্পষ্ট ছাপ পড়তে চলেছে। যদিও টানা ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি, তবুও বজ্রবৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং উত্তরবঙ্গে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা আগামী কয়েকদিনে আবহাওয়াকে বেশ সক্রিয় রাখবে।





















