Jadavpur University: যাদবপুরে ABVP-র তাণ্ডব, নেতা-মন্ত্রীদের উল্টো সুর অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের
State Minister Swapan Dasgupta On JU ABVP SFI Clash

কলকাতা: যাদবপুরে তান্ডবের ঘটনায়, সমালোচনায় সরব হয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। নেতা-মন্ত্রীদের একেবারে উল্টোসুর শোনা গিয়েছে অর্থমন্ত্রীর গলায়। রাজ্যের বদনাম, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবিও নষ্ট হচ্ছে, এখানের উন্নতি সবাই চায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীককে অসম্মান করা হয়েছে, যাদবপুর কাণ্ডের পর এইভাবেই প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডবের ৩৭ ঘণ্টা পার, প্রবল সমালোচনার মুখে থানায় অভিযোগ দায়ের উপাচার্যের
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এই ধরণের মারপিঠটা দুর্ভাগ্যজনক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালের ছবিটাও নষ্ট হচ্ছে, বলে দাবি জানিয়েছেন তিনি। ..যাদবপুরের (বিশ্ববিদ্যালয়) যাতে উন্নতি হয়, যাদবপুর যাতে আরও স্বীকৃতি পায় সারা ভারতবর্ষে, এটা আমরা সবাই চাই। তাই এই ধরণের রিলগুলি লোকে ছড়াচ্ছে, উত্তেজিত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা কী সব যেন বলছে, অনেকটা একটু কমিক ব্যাপার আছে। ..কিন্তু সবথেকে আমার খারাপ লেগেছে, যাদবপুরের প্রতীকটা কীভাবে ধ্বংস হয়ে গেল….ধ্বংস হয়তো হয়নি, আবার রিপিয়ার করা যাবে। কিন্তু যাদবপুরের প্রতীকটাকে অসম্মান করা হয়েছে, সেটার কোনও সন্দেহ নেই।’
বৃহস্পতিবার এবিভিপি-র বিক্ষোভের সময় ভেঙে ফেলা হয়েছিল নন্দলাল বসুর নকশা করা এমব্লেম। চারদিকে বয়ে গেছে নিন্দার ঝড়। শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ফের লাগানো হল সেই প্রতীক। বৃহস্পতিবার লজ্জায় মাথা হেঁট হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের। তাণ্ডবের সময় ভেঙে পড়েছিল নন্দলাল বসুর নকশা করা ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম। ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মান।শুক্রবার কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ফের আগের জায়গায় চার নম্বর গেটে বসানো হল এই প্রতীক।
নন্দলাল বসু, তিনি শুধু শান্তিনিকেতনের কলা ভবনের একজন প্রবাদপ্রতিম অধ্যক্ষই ছিলেন না, আধুনিক ভারতের শিল্প-কলার পথিকৃৎ বলেও পরিচিত। তাঁর তত্ত্বাবধানে এবং তাঁর ছাত্রছাত্রীদের সাহায্যে ভারতের মূল সংবিধানের পাতার নকশা ও চিত্রকর্ম করা হয়েছিল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর অনুরোধে ভারতরত্ন ও পদ্মশ্রী পদকের প্রতীকের নকশা করেছিলেন নন্দলাল বসুই। মহাত্মা গান্ধীর ১৯৩০ সালের ডান্ডি অভিযানের বিখ্যাত সাদা-কালো লিনোকাট প্রিন্ট তৈরি হয়েছিল তাঁরই হাতে। যাঁর হাতের ছোঁয়ায় মর্যাদা পেয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রতীকও।
১৯৫৫ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। তার আগে ছিল, জাতীয় শিক্ষা পরিষদ। সেই সময় শান্তিনিকেতনের কলা ভবনের প্রাক্তন অধ্যক্ষ নন্দলাল বসু এই এমব্লেমটির নক্সা তৈরি করেছিলেন। সেই এমব্লেমই বৃহস্পতিবার ABVP-এর আন্দোলনের ঠেলায় ভূলণ্ঠিত হয়।যে প্রতীকের গভীর অর্থ রয়েছে। মাঝে তিন অগ্নিশিখা ও চারদিকে পদ্মের নকশা। সার্বিক বিকাশ, আবেগ ও কল্পনার লালনপালন এবং আধ্যাত্মিক নির্মাণের প্রতীক হল প্রদীপের তিন শিখা। আর প্রদীপকে ঘিরে থাকা পদ্মের পাপড়িগুলো ললিতকলা ও সংস্কৃতির প্রতীক। কিন্তু বিক্ষোভের ঠ্যালায় সেই এমব্লেমই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, আর তা মাড়িয়ে চলে যান অনেকে।
Before You Go
Flood Situation in Bengal | নেই নৌকা, নেই ডোঙা! এদিকে চোখের সামনে শুধু জল আর জল...





















