Chaos in Jadavpur University | ক্যাম্পাসে ঢুকেছিল বহিরাগতরা! দাবি যাদবপুরের প্রত্যক্ষদর্শী পড়ুয়ার
কোন এক্তিয়ারে সাধারণ সভা? এই প্রশ্ন ঘিরেই উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার রাতে থেকে দফায় দফায় ছড়াল উত্তেজনা। দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে তৈরি হল সংঘর্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্র সংগঠন সূত্রে খবর, ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করেই এই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয় বেশ কয়েকজন। আহতদের হাসপাতালে দেখতে যান বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। RSS-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপির অভিযোগ, সাধারণ সভার নামে ডেকে পরিকল্পিত ভাবে এসএফআই এবং ডিএসও-ডিএসএফ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের আরও দাবি, আক্রমণ করা হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সভাপতি নিখিল রায়ের উপরেও। ABVP-এর সদস্যদের উদ্দেশে জাতি বিদ্বেষমূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, ফেটসুর অভিযোগ, বহিরাগত নিয়ে এসে হামলা চালিয়েছে এবিভিপি। একই সুর SFI-এরও, হামলা চালানো, আগুন লাগানোর চেষ্টা-সহ ABVP-এর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছে তারা। এদিন গভীর রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গিয়েছিলেন বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, "ছাত্রভোট হয়নি, তা হলে কোনও এক্তিয়ারে জিবি মিটিং ডাকা হল?"
পাশাপাশি, নিখিল দাসের উপর আক্রমণের ঘটনায় এবিভিপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী বলেন, "এরা দলিত প্রেমের কথা বলে দলিত শিক্ষার্থীদের উপর আক্রমণ চালিয়েছে। যাদবপুরে আমরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করব। আজ থেকেই কফিনের শেষ পেরেক পোঁতার কাজ শুরু হল।" অন্যদিকে SFI-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে-র দাবি, "বিজেপির গুন্ডারা নৃশংস ভাবে আক্রমণ চালিয়েছে। অরবিন্দ ভবনে আগুন লাগানোর চেষ্টা হয়েছে। এটা আসলেই যাদবপুরের ভিতরের মুক্তমনা পরিবেশকে নষ্ট ও আক্রমণের চেষ্টা করা হল।"
এবার যাদবপুরকাণ্ডে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হল অভিযোগ। ABVP-এর সমর্থক অরিত্র সরকার এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভারতীয় ন্যয় সংহিতার বেশ কয়েকটি আইন ও SC/ST আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উত্তাপ ছড়িয়েছে বেলা গড়াতেই
বেলা গড়াতেই উত্তাপ বাড়ল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভেঙে দেওয়া হল পুলিশের ব্যারিকেড। আটকে দেওয়া হল স্কুলবাস। বৃহস্পতিবার দুপুরে যাদবপুরে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শনে বসে পড়লেন ছাত্র সংগঠনের সদস্যেরা। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এবিভিপি-এর ছাত্রদের মিছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেট পর্যন্ত পৌঁছয়। সেখানেও তৈরি হয় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের সব গেট বন্ধ করে দিলে বাইরে থেকে বোতল, ডিম, পাথর ছুড়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। একাংশ আবার যাদবপুরের ঐতিহ্যবাহী লোহার প্রতীকের উপর পা দিয়ে উঠে গেট টপকানোর চেষ্টা করে। যার জেরে ভেঙে সেই এমব্লেমের একটি অংশও। এই ঘটনায় ক্ষোভ উগড়ে দিতে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-পড়ুয়াদের।





















