Asansol Death : 'কাজ নেই ! অভাব...অবসাদ' মায়ের সঙ্গে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটিয়ে চরম সিদ্ধান্ত ব্যক্তির
তেমন ভরসাযোগ্য চাকরি-বাকরি করতেন না বছর পঞ্চাশের রাজা মুখোপাধ্যায়। গত ৬ মাস ধরে কাজ না থাকায় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে খবর স্থানীয় সূত্রে।

কৌশিক গাঁতাইত, আসানসোল : ভয়ঙ্কর ঘটনা। পারিবারিক অশান্তি । মা-বাবার সঙ্গে তুলকালাম। রোজকার অশান্তি। তারপর সব শেষ। গা শিউরে ওঠা ঘটনা ঘটে গেল আসানসোলের কুলটি থানার কলেজ রোডের রামকৃষ্ণ সরণিতে।
বয়স পঞ্চাশ। তেমন ভরসাযোগ্য চাকরি-বাকরি করতেন না বছর পঞ্চাশের রাজা মুখোপাধ্যায়। গত ৬ মাস ধরে কাজ না থাকায় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে খবর স্থানীয় সূত্রে। জানা গিয়েছে, বেসরকারি সংস্থায় বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষীর দায়িত্ব সামলাতেন। তাই বাড়িতে ছিল না শান্তি। ঘরে ফিরলেই রোজ অশান্তি হত। হয়ত মানসিক ভাবে বিছুটা বিপর্যস্তই ছিলেন রাজা। আর তার রেশই এসে পড়ছিল পরিবারে।
বুধবার রাতে অশান্তি বড় আকার ধারণ করে। অভিযোগ রাজা তাঁর মা-বাবাকে মারধর শুরু করে। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে অশান্তি, ঝগড়া ঝাঁটি সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। সংসারে ছিলেন রাজার মা ও বাবাই। শেষমেষ কার্যত প্রাণে বাঁচতেই বাড়ি থেকে মার খেয়ে বেরিয়ে যান রাজার বাবা দয়াময় মুখোপাধ্যায়। এরপর বৃহস্পতিবার আবার অশান্তি শুরু হয় রাজা ও তার মা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের মধ্যে। অশান্তি বেশি বাড়তেই মাকে গুলি করে দেয় ছেলে। এখানেই শেষ নয়, আরও ভয়ঙ্কর পরিণতি বাকি ছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার পারিবারিক বিবাদের কারনে রাজা তার বাবা দয়াময়কে মারধর করে । প্রাণে বাঁচতে দয়াময় পালিয়ে যান তার মেয়ের বাড়ি পুরুলিয়ার কাশিপুরে । এরপর বৃহস্পতিবার আবার অশান্তি শুরু হয় রাজা ও তার মায়ের মধ্যে । তারপরই প্রথমে গুলি চালান রাজা। এরপর নিজেই ঘরে আগুন লাগিয়ে দেন।
আগুনের খবর পেয়ে ছুটে আসে কুলটি থানার পুলিশ ও দমকল । দমকলের একটি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে । ঘরেই গুলিবিদ্ধ ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় সন্ধ্যার । আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজাকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে । স্থানীয়দের মতে, উপযুক্ত চাকরি না থাকায় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন রাজা। তাই নিয়েই অশান্তি চলত পরিবারে। পরিবারে রাজা তাঁর মা-বাবার সঙ্গেই থাকতেন। মা তো চলেই গেলেন ছেলের ভয়ঙ্কর আক্রোশে। এখন শোকে মুহ্যমান বৃদ্ধ বাবা।























