Kali Puja 2025: রাজকন্যার প্রেমে পূজারি, কালী মন্দিরে 'নরবলি'-র নির্দেশ মহারাজার ! কিন্তু 'বলি'র ঠিক আগের মুহূর্তে যা হয়েছিল পূর্ব বর্ধমানে..
Kali Puja 2025 Purba Bardhaman Kali Temple: রাজকন্যার প্রেমে পড়েছিলেন পূজারি, চোখের দেখা দেখতে রাজবাড়ি পর্যন্ত বানিয়েছিলেন সুরঙ্গ পথ..

কমলকৃষ্ণ দে, পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমানের এই কালী মন্দির ঘিরে আছে রাজকন্যা ও পূজারীর প্রেম কাহিনী।জানেন বর্ধমানের এই কালী মন্দির কোথায়?একসময় এই মন্দিরে নরবলিও দেওয়া হত। পূর্ব বর্ধমানের এই কালীপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনন্য প্রেম কাহিনী। এক রাজকন্যা ও এক পূজারীর প্রেমের গল্প। এক সময় এই মন্দিরে দেওয়া হত নরবলিও। কথিত আছে, এই মন্দিরেই রাজার কন্যা 'বিদ্যা' ও পূজারি 'সুন্দর' এর প্রাণ রক্ষা করেছিলেন স্বয়ং মা কালী।
পূর্ব বর্ধমানের তেজগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত বিদ্যাসুন্দর কালীবাড়ি।বর্ধমানের রাজা এই মন্দিরে মাঝে মাঝে পুজো দিতে আসতেন।শোনা যায়,রাজা তেজচাঁদের আমলে দামোদরের তীরবর্তী তেজগঞ্জ ছিল ঘন জঙ্গলে ঘেরা। ডাকাতের অত্যাচারে কেউ যাতায়াত করতে পারত না এই এলাকা দিয়ে। যারা অন্যায় অত্যাচার করত রাজা তাদের এই মন্দিরে নিয়ে এসে নরবলি দিতেন দেবীর সামনে। আগে এই কালী মন্দিরের নাম ছিল 'দক্ষিণ মশানী' কালী। সেই সময় মন্দিরের পূজারী ছিলেন 'সুন্দর'।এই মন্দিরে রাজকন্যা 'বিদ্যা'-র হাতে গাঁথা মালা প্রতিদিন নিয়ে যেতেন মালিনী মাসি।একদিন সেই মালা দেখে পূজারি মালিনি মাসির কাছে জানতে চান, এমন সুন্দর মালা কে গেঁথেছেন। মালিনি মাসির কাছে তিনি জানতে পারেন ওই মালা গেঁথেছেন রাজকন্যা 'বিদ্যা'। তিনি মালিনী মাসিকে তাঁর সঙ্গে রাজকুমারী ' বিদ্যা'-র দেখা করিয়ে দেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু মালিনি মাসি জানান তা সম্ভব নয়, রাজা তার অনুমতি দেবেন না। মালিনী মাসি রাজবাড়ীতে ফিরে গিয়ে পূজারি সুন্দরের কথা জানান বিদ্যাকে। বিদ্যাও সুন্দরের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
কথিত আছে, বিদ্যাকে দেখার জন্য পূজারি এই মন্দির থেকে রাজবাড়ি পর্যন্ত সুরঙ্গ পথ তৈরি করেছিলেন। সেই সুরঙ্গ পথ দিয়েই 'বিদ্যা'-র সঙ্গে দেখা করতে যেতেন 'সুন্দর'। গোপনে শুরু হয় তাঁদের প্রেম। কিন্তু, এই প্রেম কাহিনি বেশিদিন গোপন থাকেনি। প্রেমের কথা রাজার কানে পৌঁছায়। 'বিদ্যা' ও 'সুন্দর'-কে দক্ষিণ মশানী মন্দিরে 'নরবলি' দেওয়ার নির্দেশ দেন মহারাজা। রাজার নির্দেশ মতো তাদের বলি দেওয়ার জন্য নিয়ে আসা হয় দক্ষিন মশানি মন্দিরে।বলি দেওয়ার সময় তাঁদের রক্ষা করেন মা কালী। কিন্তু বলি ঠিক আগের মুহূর্তে 'বিদ্যা' ও 'সুন্দর' মা কালীকে স্মরণ করার জন্য সময় চেয়ে অনুরোধ করেন। শোনা যায় তারপরই কাপালিক জ্ঞান হারান। আর সেই সময়েই 'বিদ্যা' ও 'সুন্দর' নিরুদ্দেশ হয়ে যান। তারপর থেকেই তাদের আর কোন খোঁজ মেলেনি।এই ঘটনার পর 'বিদ্যা' ও 'সুন্দর' -এর অনন্য প্রেম কাহিনী কে স্মরণীয় করে রাখতেই 'দক্ষিন মশানী' মন্দির থেকে এই মন্দিরের নাম হয় 'বিদ্যাসুন্দর' কালীবাড়ি।নরবলি বন্ধের পর ছাগ বলির প্রথার চালু থাকলেও এবছর থেকে ছাগ বলির পরিবর্তে ছাঁচি কুমড়ো বলি দেওয়া হবে বলে জানান বর্তমান এক সেবায়েত। তবে নিয়ম মেনে মায়ের নিত্য ভোগে দেওয়া হয় মাছ। এছাড়াও প্রতিদিন হয় চিঁড়ে ভোগ।






















