Kolkata News: চেক-ইন ৩ জনের, গভীর রাতেই চেক-আউট মহিলা-সহ ২ জনের; এবার কসবার হোটেলে যুবকের দেহ উদ্ধার !
Kolkata Hotel Incident: খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে লালবাজার হোমিসাইড শাখা ও কসবা থানার পুলিশ। পুলিশের সায়েন্টিফিক উইংয়ের সদস্যদের পাশাপাশি ডগ স্কোয়াডকে নিয়ে আসা হয়েছে।

পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা : পার্ক স্ট্রিটের পর এবার কসবা। ফের হোটেলেই খুন ? হোটেল কনস্যুলেট থেকে এক যুবকের দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অনলাইনে বুকিং করে হোটেলে উঠেছিলেন তিনজন। হোটেলের ৪ তলার ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন তাঁরা। এক মহিলা-সহ ২জন হোটেল থেকে বেরিয়ে গেলেও একজন বেরোননি। এরপরই যুবকের দেহ উদ্ধার হয়।
বিস্তারিত...
কসবা থানা এলাকার রাজডাঙার হোটেল। হোটেল কনস্যুলেট। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে লালবাজার হোমিসাইড শাখা ও কসবা থানার পুলিশ। পুলিশের সায়েন্টিফিক উইংয়ের সদস্যদের পাশাপাশি ডগ স্কোয়াডকে নিয়ে আসা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে মোট ৩ জন এই হোটেলে চেক-ইন করেছিলেন। তারমধ্যে দু'জন গতকালই গভীর রাতে চেক-আউট করে বেরিয়ে যান। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, আজ হোটেলের কর্মীরা যখন ওই ঘরে যান তাঁরা দেখতে পান, ওই ঘরে ব্যক্তির দেহ পড়ে রয়েছে। মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। অনুমান করা হচ্ছে, তাঁকে খুন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাকি দু'জনের খোঁজ শুরু হয়েছে। যে ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়েছে, তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। একটা আধার কার্ড নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেটা ওই ব্যক্তিরই কি না তা পুলিশ নিশ্চিত হতে চাইছে। সিসি টিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
এর আগে অক্টোবরের শেষ দিকে পার্ক স্ট্রিটে হোটেল থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছিল। কী ঘটেছিল ? লুঠপাটের হাত থেকে বাঁচতে ধস্তাধস্তির মধ্যেই গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। তার পর বক্স খাটে দেহ ঢুকিয়ে রেখে ওড়িশায় চম্পট। পার্ক স্ট্রিটের হোটেলে যুবক খুনের কিনারা করে ফেলে পুলিশ। ধৃতদের কলকাতায় এনে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় কলকাতা পুলিশ। লালবাজারের গোয়েন্দাদের দাবি, গাইড পরিচয় দিয়ে ধৃত শক্তিকান্ত ও সন্তোষ বেহেরার সঙ্গে আলাপ জমান রাহুল লাল। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে, ২ জনকে হোটেলে নিয়ে যান। বাইরে থেকে খাবার ও মদ আনা হয়। মদ খাওয়ার মধ্যেই ছুরি বের করে তাদের কাছ থেকে লুঠপাতের চেষ্টা করেন রাহুল। কিন্তু, বাঁচার জন্য পাল্টা ওই দু'জন বাধা দিতে গেলে খুন হয়ে যান রাহুলই !
২২ তারিখ খুনের ঘটনাটি ঘটে পার্ক স্ট্রিটের আল বুর্জ ইন্টারন্য়াশনাল হোটেলে। পরের দিন হোটেলের ঘরে বক্সখাটের মধ্যে উদ্ধার হয়, পিকনির গার্ডেনের বাসিন্দা বছর ২৫-এর রাহুল লালের দেহ। ঘটনার ৭ দিন পর, ওড়িশার কটক থেকে গ্রেফতার করা হয় শক্তিকান্ত বেহরা ও সন্তোষ বেহরা নামে ২ অভিযুক্তকে।
ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, ব্যবসার জন্য ফুল কিনতে ওড়িশার ঢেঙ্কানল থেকে কলকাতায় আসেন শক্তিকান্ত ও সন্তোষ। কেনাকাটার পর ২২ তারিখ তাঁরা ঘুরতে আসে ভিক্টোরিয়ায়। বিকেলে সেখানে তাঁদের সঙ্গে গাইড পরিচয় দিয়ে আলাপ জমান রাহুল। হোটেলে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান পার্ক স্ট্রিটে। সেখানে লুঠপাটের চেষ্টা করার সময়, উল্টে তাঁরই মৃত্য়ু হয়। ২৩ তারিখ সকালে ট্রেন ধরে ওড়িশা পালিয়ে যান সন্তোষ ও শক্তিকান্ত। ধরা পড়েন ২৯ তারিখ।






















