Housewife Mysterious Death: 'বাবা একটা কথা বলছি...' মারা যাওয়ার আগে ফোনে বাবাকে কী বলেছিলেন নারকেলডাঙার ওই গৃহবধূ
Kolkata News: শ্বেতার বাপের বাড়ির লোকেরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, শ্বেতার স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সেই নিয়ে শ্বেতা প্রতিবাদ করাতেও তাঁর উপর অত্যাচার চালানো হয়।

আবির দত্ত, কলকাতা : নারকেলডাঙায় রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে এক গৃহবধূর। মৃতার নাম শ্বেতাপ্রসাদ সাউ। মৃতার পরিবার বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। শ্বেতার বাপের বাড়ির সদস্যদের অভিযোগ, শ্বেতা পরপর ২ বার দুই কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার জন্যই পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। পুত্র সন্তানের জন্ম দিতে না পারায় অনেকদিন ধরেই অত্যাচার চলত শ্বেতার উপর। এই গোটা ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও শ্বেতার সঙ্গে তাঁর বাবার ফোনে কথা হয়েছিল। সেই অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে এসেছে ইতিমধ্যেই।
যে অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে শোনা গিয়েছে, ওই গৃহবধূ তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলছেন। কাঁদতে কাঁদতে গৃহবধূকে বলতে শোনা গিয়েছে, 'বাবা আমি একটা বলছি। আমায় আলাদা করো। নাহলে আমি ফাঁসি লাগিয়ে নেব। সত্যিই লাগিয়ে নেব। আমার মন শান্ত নেই। ডিপ্রেসন এবং অ্যাংজাইটিতে ভুগছি। অনেকদিন ধরে বলতে চাইছি সবাইকে, কিন্তু বলতে পারছি না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। মাথায় কষ্ট হচ্ছে। অত ওষুধ খাওয়ার পরেও মাঝে মাঝে আমার ঘুম আসে না।'
গৃহবধূর শ্বশুর কিশোরীলাল সাউ বলছেন, ' শুধু স্বামী-স্ত্রী'র মধ্যেই ঝগড়া ছিল। কোনওদিন শাশুড়িকে বলতে পারবে না, চারটে ননদ ছিল তাঁদের বলতে পারবে না। ওর বাবাও বলতে পারবে না। ওর বাবাকে ডাকুন, আমার সামনে বলে দিক যে কোনওদিন কথাটা উঠেছে যে ২টো মেয়ে আছে বলে আমরা ওকে কোনওদিন কিছু বলেছে। দুটো মেয়ে আমাদের কাছে লক্ষ্মী। আমরা ওদের আটকেছি। একজনকে দিকে। আরেকজনকে ওদিকে। ওর বাবা এসেছিল। ফোন করে জিজ্ঞেস করলেন আমি কোথায়? বললাম আমি ভিতরে আছি। দেখুন ওরা আবার ঝগড়া করছে। এরপর আমরা অন্য একটা ঘরে বসেছিলাম। আমি আর ওর বাবা অন্য ঘরে বসেছিলাম। আমার স্ত্রীকে বললাম যাও ওদের দু'জনকেই ডেকে নিয়ে এস।'
শ্বেতার বাপের বাড়ির লোকেরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, শ্বেতার স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সেই নিয়ে শ্বেতা প্রতিবাদ করাতেও তাঁর উপর অত্যাচার চালানো হয়। অভিযোগ, শ্বেতা পরপর ২ বার কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় নাকি আবার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শ্বেতার স্বামী। এমনই গুরুতর অভিযোগ করেছেন শ্বেতার বাপের বাড়ির দিকের এক আত্মীয়। পরবর্তীতে দুই বাড়ির কথাবার্তা হওয়ার মাধ্যমে সাময়িক মধ্যস্থতা করা হয়েছিল।






















