Sujan Chakraborty: 'দুজনের অনুপ্রেরণা একজনই', অনুব্রত-পার্থ ইস্যুতে বিস্ফোরক সুজন
Sujan on Partha Anubrata : সৌগত-র 'পার্থ-অনুব্রত ফারাক', বিশ্লেষণ শুনে তোপ দাগলেন সুজন। 'লুঠের কাজ দুজনের সমান, এদের মধ্যে ফারাক কী', বললেন তিনি।

কলকাতাঃ বোলপুরে অনুব্রত-র রাইসমিলে সিবিআই হানার পর ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে একের পর এক বিলাসবহুল গাড়ি। তার এফডি-র প্রায় ১৭ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিআই। ওদিকে এসএসসি দুর্নীতি মামলায় তদন্তে নেমে পার্থ-র বান্ধবীর ফ্ল্যাট থেকে কোটি কোটি টাকা, সোনা, নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। দুজনেই কেন্দ্রীয় তদন্তাকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তবুও পার্থ এবং অনুব্রতকে ভিন্নমত শাসকদের। অনুব্রত মমতাকে পাশে পেলেও একাকী পার্থ। এই ইস্যুতে সৌগত রায় বলেন, 'পার্থ-র ক্ষেত্রে ওর বান্ধবীর ফ্ল্যাট থেকে ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। অনুব্রত-র থেকে সেরকম কোনও টাকা উদ্ধার হয়নি। অনুব্রতর-ও যেটুকু অভিযোগ, সেটা ওর মেয়েকে ঘিরে। কার কী সম্পত্তির হিসেব, সেগুলিতো প্রমাণ-দলিল না দেখে বলা যাবে না।' আর এই প্রতিক্রিয়া শুনেই তোপ দাগলেন এবার সিপিএম-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty)।
সুজন চক্রবর্তী বলেন, সৌগত রায় কখন কী বলছেন, মানে বুঝতে পারছি না। লুঠের কাজ দুজনের সমান। আসলে এদের মধ্যে ফারাক কী। দুজনের গড মাদার একজনই। অনুপ্রেরণা একজনই। একজনের অনুপ্রেরণায় পার্থবাবু একভঙ্গিতে লাফায়। অনুব্রতবাবু আরেক ভঙ্গিতে লুঠ করে বেড়ায়। সব কিছুর পরেও জেনেবুঝে মুখ্যমন্ত্রী আপনি হাতটা অনুব্রত-র মাথায় দিয়ে রেখেছেন, এদিন বলেন সুজন চক্রবর্তী। প্রসঙ্গত, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে দুই দফায় কয়েক কোটি টাকা। উদ্ধার হওয়া টাকার পাশাপাশি জমির অজস্র দলিল, কোম্পানির নথি, সোনা, গয়না বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। প্রকাশ্যে এসেছে বিলাসবহুল গাড়ি।এদিকে গরুপাচার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার অনুব্রত-র থেকে নগত না পেলেও ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ১৭ কোটি টাকা প্রথম দফায় বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিআই। মিলেছে একাধিক জমি, রাইসমিল, বিলাসবহুল গাড়ির হদিস।এদিকে দুজনকে নিয়ে পুরোপুরি ভিন্ন মত তৃণমূলের।উল্লেখ্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে দল ও সরকারের সকল পদ থেকে অপরসারিত করা হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে তৃণমূল থেকে। তবে অনুব্রত-র ক্ষেত্রে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়নি দল। পাশে দাঁড়িয়েছেন মমতা ।
আরও পড়ুন,'তৃণমূলের দুর্নীতির মুকুটে আরও একটি পালক জুড়ল', অনুব্রত-র গাড়িকাণ্ডে কটাক্ষ দিলীপের
পার্থ গ্রেফতারের পর মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় বলেন, ‘দুর্নীতিকে সমর্থন করা নেশাও নয় পেশাও নয়, আমি কোনও অন্যায়কে সমর্থন করি না। সবাই সাধু, একথা বলতে পারব না, না জেনে ভুল করলে ক্ষমা চাইব, একজন মহিলার বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার করেছে, সঠিক সময়ের মধ্যে বিচার হোক, সত্যি যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হোক’, বঙ্গভূষণ ও বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে অনুব্রত গ্রেফতারের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, 'অনুব্রতকে গ্রেফতার করলেন কেন ? কী করেছিল কেষ্ট ? কেষ্টকে জেলে আটকালে কী হবে ? ওদের এজেন্সির কিছু লোক রয়েছে, তাঁদের টাকা দিয়ে পোষে। মাঝরাতে কেন সিবিআই বাড়িতে ঢুকছে ? কেষ্টর বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়েছে সিবিআই।'






















