Mango Farming: ফ্রুট ব্যাগিং-এই লক্ষ্মীলাভ! বিশেষ এই পদ্ধতিতেই মজেছেন মালদার আম চাষীরা!
Malda News: দ্বিগুণ দাম পেতে আবারও ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে ভরসা করছেন আমচাষীরা

- মালদায় আম চাষে আধুনিক ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ছে।
- এই পদ্ধতিতে চাষ করা আম বাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।
- ফ্রুট ব্যাগিং আমের ওজন বাড়ায়, রোগ ও কীটনাশক থেকে রক্ষা করে।
- কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র কৃষকদের এই পদ্ধতিতে চাষ করতে উৎসাহিত করছে।
অভিজিৎ চৌধুরী, মালদা: গরম মানেই, বাঙালির পাতে আম তো থাকতেই হবে। এই ফলের অবশ্য বাঙালি অবাঙালি নেই, প্রায় প্রত্যেকেই ভালবাসেন এই ফল খেতে। আর এবার, নয়া আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করে হাতেনাতে খুব ভাল ফল পেলেন আম চাষী! বিশেষ ফ্রুট ব্যাগিং ব্যবহার করে বাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে আম! তাই দ্বিগুণ দাম পেতে আবারও ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে ভরসা করছেন আমচাষীরা। জেলার বিখ্যাত ফজলি, হিমসাগর, আশ্বিনা, লক্ষণ ভোগ, ল্যাংড়া ইত্যাদি বিখ্যাত আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে আম বললেও অনেক সময় দাম পাওয়া যায় না বাজারে। সাধারণত জেলার বাজারে ও ভিন রাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় আম। এক্সপোর্ট কোয়ালিটির না হওয়ায় বিদেশে রপ্তানি হয়না জেলার আম। তাই আমের গুণাগুণ ও স্বাদ সমস্ত দিক ঠিক রাখতে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করছেন জেলার চাষীরা।
ফ্রুট ব্যাগিংয়ে খরচ কম, লাভ হচ্ছে বেশি
আম ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহারকারী এক আম চাষী অনুপ প্রসাদ সাউ বলেন, "গতবছর পরীক্ষামূলকভাবে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের তরফে ভাল আম ফলাতে বিশেষ ফ্রুট ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল। সেই ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহারের ফলে সত্যি খুব সুন্দর ও ভাল আম হয়েছিল। বাজারে দাম ও দ্বিগুণ পেয়েছিলাম। এই ফ্রুট ব্যাগিং এর ফলে এক্সপোর্ট কোয়ালিটির আম হয়। গতবারই কিছু জেলার এক নামি এক্সপোর্ট কোম্পানির মাধ্যমে এই আম লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছিল। তাই বেশি লাভের আশায় আবার ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে ব্যবহার করছেন। শুধু তাই নয় এর ফলে পরিচর্যার খাটনি ও কীটনাশক স্প্রের ব্যবহার কমেছে।'
কীভাবে কাজ করে এই ফ্রুট ব্যাগিং?
ইতিমধ্যে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে আম গাছগুলোতে বিশেষ এই ফ্রুট ব্যাগ লাগিয়ে পরিচর্যা করা হচ্ছে। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান কৃষি বিজ্ঞানী দূষ্য়ান্ত কুমার রাঘব বলছেন, 'গত বছরই এই পদ্ধতি মালদা জেলায় চালু হয়েছে। জেলার আম চাষীদের আগ্রহ বাড়াতে প্রতিবছরই কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র ও বিভিন্ন জায়গায় আমবাগানে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করলে আমের ওজন বাড়ে এবং দ্বিগুণ দাম পাওয়া যাবে। এছাড়াও কোনও ওষুধ, স্প্রে ছাড়াই কীটপতঙ্গ সহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা করা যায়। ২০ থেকে ২৫ গ্রাম বা মার্বেল সাইজ এর আম হওয়ার পর ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করা প্রয়োজন। এক মাস থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত ব্যাগিং অবস্থায় রাখতে হবে আমকে। বাজারে দুই থেকে আড়াই টাকা দামে এই ফ্রুট ব্যাগ পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে বহু ব্যবসায়ী ও আমচাষীরা এই পদ্ধতিতে চাষ করছেন।' গত বছর মালদা জেলার বিভিন্ন ব্লক এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতি অবলম্বনের জন্য চাষীদের ফ্রুট ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে মালদার ইংরেজবাজার ফুলবাড়িয়া ও অমৃতি এলাকায় প্রায় ৩০০ টি আম গাছে এই ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করেছেন আমচাষী অনুপ। এই বছরও বাজার থেকে ৩ টাকা থেকে ৬ টাকা দামে কিনে এনে আবারও দ্বিগুণ লাভের আশায় বুক বেঁধেছেন মালদার এই আমচাষী, অনুপ।
আরও পড়ুন: Tollywood News: রাইমার সম্পর্কে 'কাঁটা' তাঁরই বোন! সবটা মিটিয়ে দিতে পারবে 'ফুলপিসি'?
Before You Go
West Bengal Assembly: বিধানসভায় পাস হয়ে গেল OBC সংরক্ষণ সংশোধনী বিল | OBC Bill | ABP Ananda






















