Mani Shankar Mukherjee Demise : 'ঠান্ডা ঘরে যেন না রাখা হয়', শেষ ইচ্ছার কথা লিখে গেছেন সাহিত্যিক শংকর
Shankar Passes Away : সাহিত্যিকের প্রয়াণের পর তাঁর শেষ ইচ্ছা থেকে শুরু করে বিগত কিছুদিন ধরে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির কথা এবিপি আনন্দর প্রতিনিধিকে জানান শংকর-কন্যা তনয়া মুখোপাধ্যায়।

কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : সাহিত্যিক শংকরের জীবনাবসান । কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এদিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়। বেলা ১২.৪৫-এ প্রয়াত হন তিনি। সাহিত্যিকের প্রয়াণের পর তাঁর শেষ ইচ্ছা থেকে শুরু করে বিগত কিছুদিন ধরে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির কথা এবিপি আনন্দর প্রতিনিধিকে জানান শংকর-কন্যা তনয়া মুখোপাধ্যায়।
এবিপি আনন্দ : কী হয়েছিল যার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হল ? এমনিতেই ৯২ বছর বয়স।
তনয়া মুখোপাধ্যায় : উনি পড়ে গিয়েছিলেন। বাড়িতে পড়ে গিয়েছিলেন। ৩১ তারিখে এখানে ভর্তি হন। ১ তারিখে অপারেশন হয়। যেটা সফল হয়েছিল। বাড়ি চলে গিয়েছিলেন ১৫ তারিখে। তারপর হেঁটে বেরিয়েও ছিলেন। তারপর একের পর এক জটিলতা শুরু হয়। বয়সজনিত কো-মর্বিডিটি শুরু হয়েছিল।
এবিপি আনন্দ : তারপর তো আবার ভর্তি হলেন ?
তনয়া মুখোপাধ্যায় : হ্যাঁ। দু'-তিনবার বাড়ি নিয়ে গিয়েছি। ২৩ তারিখে সরস্বতী পুজো ছিল। তার পরের দিন ভর্তি হয়েছিলেন। তারপর আবার সপ্তাহখানেক থেকে আবার বাড়িতে ছিলেন। ৪ তারিখ ভর্তি হয়ে আর বাড়ি যাননি।
এবিপি আনন্দ : শেষদিকে কী পরিস্থিতি হয়েছিল যাতে এই অবস্থা হল ?
তনয়া মুখোপাধ্যায় : এজ-রিলেটেড কো-মর্বিডিটি একটার পর একটা হতে থাকে। তারপর আর কিছু করা যায়নি।
এবিপি আনন্দ : ওঁর কোনও শেষ ইচ্ছা ?
তনয়া মুখোপাধ্যায় : জাস্ট বলেছিলেন, ওঁকে যাতে ঠান্ডা ঘরে না রাখা হয়। উইল হ্যাভ টু ডু দ্য ক্রিমেশন ইমিডিয়েটলি। অপেক্ষা করা যাবে না।
এবিপি আনন্দ : মৌখিকভাবে বলে গিয়েছিলেন ?
তনয়া মুখোপাধ্যায় : না, লিখে গিয়েছেন।
এবিপি আনন্দ : কী লিখেছেন ?
তনয়া মুখোপাধ্যায় : যে ওঁকে যেন ঠান্ডা ঘরে না রাখা হয়। উনি ৩০ ডিসেম্বর অবধি লিখেছেন।
এবিপি আনন্দ : হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীনও লিখেছেন শুনলাম...
তনয়া মুখোপাধ্যায় : হ্যাঁ খাতা পেন চেয়েছিলেন। দিয়ে গিয়েছিলাম। লিখেছেন। কিন্তু, কী লিখেছেন সেটা দেখতে হবে। লাস্টের দিকে কথা বলতে পারতেন না । চোখের চাউনি দিয়ে যা বলতেন।
এবিপি আনন্দ : এরপর পরিকল্পনা কী ?
তনয়া মুখোপাধ্যায় : এখান থেকে বাড়ি যাওয়া হবে। তারপর ওখান থেকে কেওড়াতলা।
কার্যত বাংলা সাহিত্যের একটা যুগের অবসান হল। অসংখ্য উপন্যাসের লেখক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। একের পর এক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ পাঠক-পাঠিকাদের উপহার দিয়েছেন সাহিত্যিক শংকর। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্য কর্মগুলি হল- 'চৌরঙ্গী', 'কত অজানারে', 'যেখানে যেমন', 'সম্রাট ও সুন্দরী', 'চরণ ছুঁয়ে যাই', 'জনঅরণ্য', 'সীমাবদ্ধ'।























