Medinipur Medical News : সত্যিই কি প্রসূতি-মৃত্যুর দিন মেদিনীপুর মেডিক্যাল থেকে ৪০ কিমি দূরে অপারেশন করতে গিয়েছিলেন ডা. দিলীপকুমার পাল?
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে সুপার সহ ১২ জনকে সাসপেন্ড করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এরমধ্য়ে ৬ জন সিনিয়র চিকিৎসক ।

মেদিনীপুর মেডিক্যালে প্রসূতির মৃত্যুতে কাঠগড়ায় 'পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্য়াল'-এর তৈরি এই স্যালাইন। রাজ্যজুড়ে শোরগোল। অথচ মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এক প্রসূতির মৃত্যু ও ৩ জনের সঙ্কটজনক পরিস্থিতির জন্য় চিকিৎসকদেরই দায়ী করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১২ জন চিকিৎসককে করা হল সাসপেন্ড !
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে সুপার সহ ১২ জনকে সাসপেন্ড করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এরমধ্য়ে ৬ জন সিনিয়র চিকিৎসক । ৬ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি বা জুনিয়র চিকিৎসক। এই চিকিৎসকদের ভূমিকা যে সিআইডি-ও তদন্ত করে দেখবে তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী। শুধু তাই নয়, ওই ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন ১ জন সিনিয়র ডাক্তার, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মেদিনীপুর মেডিক্যালে ডিউটিতে থাকাকালীন অপারেশন করতে গিয়েছিলেন সেখান থেকে বহুদূরের হাসপাতালে। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র চিকিৎসক দিলীপ কুমার পালের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি ঠিক কী করেছেন ? মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যসচিবের দাবি, চিকিৎসক দিলীপকুমার পাল সেদিনই আরও ৩টি জায়গায় অপারেশন করেছেন।মেদিনীপুর মেডিক্যালে যে সময় তাঁর ডিউটিতে থাকার কথা, সে সময় তিনি চলে গিয়েছিলেন প্রাইভেটে ৩ টে অপারেশন করতে। মেদিনীপুর থেকে ডেবরা, বালিচক প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে । সেখানে গিয়ে অপারেশন করেন চিকিৎসক দিলীপকুমার পাল। নায়ারণস্বরূপ নিগম দাবি করেন, সেই হাসপাতালের রেজিস্টারে তাঁর নাম পাওয়া গেছে। অর্থাৎ যে সময় তাঁর মেদিনীপুর মেডিক্যালে থাকার কথা, সে-সময় তিনি চলে গিয়েছিলেন ৪০ কিমি দূরে অন্য একটি হাসপাতালে।
মুখ্য়মন্ত্রী এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর চিকিৎসক দিলীপকুমার পাল যে নার্সিংহোমে অপারেশন করতে গেছিলেন বলে অভিযোগ, দুপুরে সেখানে পৌঁছয় CID। নার্সিংহোম সূত্রে দাবি, CID তাঁদের রেজিস্টার নিয়ে গেছে। যদিও, বিরোধী দলনেতা থেকে সিনিয়র চিকিৎসক, সবার একটাই দাবি, নিম্নমানের রিঙ্গার ল্য়াকটেট ব্য়বহারের ফলেই রোগী মৃত্য়ুর অভিযোগ উঠেছে। আর তা থেকে নজর ঘোরাতেই মরিয়া চেষ্টা করছেন মুখ্য়মন্ত্রী।
এই অভিযোগে, তাঁকেও সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, একসঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি জায়গায় কাজ করা যাবে না। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী সরব হন, হাসপাতালে ওটি-র সামনে পর্যন্ত সিসিটিভি না-লাগাতে দেওয়া নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ,' অপারেশন থিয়েটারের গেটের আগে সিসিটিভি লাগাতে দেওয়া হয় না। কেন হয় না? ভিতরেও থাকা উচিত বলে মনে করি। যদি কোনও অবহেলার ঘটনা থাকে, সিস্টেম থাকা উচিত, যাতে ট্রেস করা যায়। '






















