Murshidabad News : চেয়ার তুলে টেবিলে আছাড় ! আসবাবপত্র ভাঙচুর ! SIR-এ হয়রানির অভিযোগে বিধায়কের উপস্থিতিতেই বিডিও অফিসে তাণ্ডব
TMC News : এদিন শুনানি চলাকালীন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিডিও অফিসে হাজির হন তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম।

রাজীব চৌধুরী, ফরাক্কা : ফরাক্কা বিডিও অফিসে SIR শুনানি চলাকালীন ভাঙচুর চালালেন তৃণমূল বিধায়কের অনুগামীরা। বিধায়ক মণিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে চলল তাণ্ডব। বিডিও সেই মুহূর্তে ঘরে না থাকলেও, সরকারি কর্মীরা ভিতরে বসে থাকা অবস্থায় BDO-র ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে বেরিয়ে গেলেন তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের অনুগামীরা। এই গোটা পর্ব মিটে যাওয়ার পর সেখানে এল পুলিশ। এমনকী, ভাঙচুর চালানো হল ERO-র ঘরেও। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিডিও।
বিডিওর ঘরের দিকে দল বেঁধে ধেয়ে যাচ্ছেন খোদ তৃণমূল বিধায়ক। বিডিও-র ঘরে ঢুকে পড়লেন বিধায়কের অনুগামীরা। এরপরই চেয়ার তুলে টেবিলে আছাড় ! আসবাবপত্র ভাঙচুর ! মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা বিডিও অফিসে বুধবার দেখা গেল এই ছবিই। যার জেরে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল SIR-এর শুনানি।
এদিন শুনানি চলাকালীন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিডিও অফিসে হাজির হন তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম। বিডিও অফিসের বাইরে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। ভিতরে তখন চলছিল SIR-এর শুনানি। আর এর ঠিক পরই একেবারে বিডিওর ঘরের দিকে ধেয়ে যান তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের অনুগামীরা। স্লোগান দিতে দিতে মূল দরজা দিয়ে ঢুকে পৌঁছে যান বিডিও, ERO-র ঘরে। ধাক্কা মেরে খোলা হয় চেম্বারের দরজা। চলে ব্যাপক ভাঙচুর। আর গোটা ঘটনা ঘটে ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে। বিক্ষোভকারী তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, SIR-এর নামে হয়রানি করা হচ্ছে। চরম এই বিশৃঙ্খলার জেরে বন্ধ হয়ে যায় শুনানির প্রক্রিয়া। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, BDO অফিসে তৃণমূল বিধায়কের নেতৃত্বে একদল কর্মী সমর্থক ঢুকে ভাঙচুর চালাল, পুলিশ কেন বাধা দিল না ?
এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "তৃণমূলের তাণ্ডব তো সর্বত্র চলেছে। তৃণমূলের তাণ্ডবের উদ্দেশ্য় কী? চুরি। ভোট চুরি। কয়লা চুরি, বালি চুরি, ফাইল চুরি, ফাইল ছিনতাই, এখন ওখানে ভোট ছিনতাই করার জন্য় পৌঁছে গেছে। এটাই তো তৃণমূল।" প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিচারিতা এটাই। যেখানে বিডিও সবকিছু দেবে, সেখানে বিডিও, এসডিও-দেরকে মানা করে দেয় যে তোমরা দিও না। অর্থাৎ দেখাবে এটা যে দেখো এই সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরাই প্রতিবাদ করছি।"
পাল্টা সাফাই দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক। মণিরুল ইসলাম বলেন, "রামের যখন নাম শুনছে, তখন বলছে আপনার কিছু লাগবে না। আর রহিমের যখন নাম শুনছে, তখন চোদ্দ গুস্টির ওর খতিয়ান চাইছে। এই দ্বিচারিতা নির্বাচন কমিশনের মানছি না, মানব না।" ভাঙচুরের সময় ফরাক্কার বিডিও তাঁর চেম্বারে ছিলেন না। তবে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর চেম্বারে ভাঙচুর করা হয়েছে। এই নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।





















