Nepal Update: তখন স্কুলে ক্লাস নিচ্ছিলেন , হঠাৎই খবর আসে, নেপালে প্রিন্সিপালের বুদ্ধিতে বেঁচে গেল অসংখ্য় পড়ুয়া
Nepal Update Death Toll Update: নেপাল বিপর্যয়ের ৮ দিন পার। মৃতের সংখ্য়া ছাড়াল ১২৫০, এখনও নিখোঁজ বহু মানুষ।

সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, নেপাল: নেপাল বিপর্যয়ের ৮ দিন পার। মৃতের সংখ্য়া ছাড়াল ১২৫০, এখনও নিখোঁজ বহু মানুষ। নিখোঁজ আত্মীয়দের খোঁজে নেপালে এসে পৌঁছেছেন পরিবারের সদস্যরা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। তার মধ্যেই ভেসে আসছে স্বজনহারার কান্না, দীর্ঘশ্বাস। আর এহেন পরিস্থিতির মধ্যেই নেপালে প্রিন্সিপালের বুদ্ধিতে বেঁচে গেল অসংখ্য় পড়ুয়া।
আরও পড়ুন, কলকাতা পুরভোটে BJP-র সঙ্গে NCPI-এর আসন সমঝোতার স্বপ্ন ভেঙে কি চুরমার ? একলা চলার পক্ষে সওয়াল শমীকের
নুয়াকোট জেলার দেবীঘাট গ্রাম, যেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ পরিবার ছিলেন। গত ২৬ অগাস্ট যখন এই বিপর্যয় আসে, তখন একলহমায় প্রত্যেকের বাড়ি ঘর শেষ হয়ে যায়। এবং তারপর থেকে এই পরিবারগুলির অস্থায়ী ঠিকানা হয়েছে, ১০-১৫ কিমি দূরে একটি সেকেন্ডারি স্কুলে। প্রচুর ত্রাণ এখানে জমা হয়েছে, যারা গ্রামের বাসিন্দারা, প্রত্যেকদিন রেশন দেওয়া হচ্ছে, যাদের বাড়ি ঘর কিছুটা ভেঙেছে, কিন্তু বাড়ির ভিতরে কোনও আর রসদ নেই। তাঁদেরকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। মুড়ি প্যাকেট, চাল, চাউমিন দেওয়া হচ্ছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, 'পুরো গ্রাম ভেসে চলে গেছে। আমার পরিবারে ৭ জন ছিলেন। ঘরে তিন জন ছিলেন, বাকিরা সেই সময় বাইরে ছিলেন। শ্বশুর শাশুড়ি এবং আমি ছিলাম। বাড়ি ঘর সব ভেসে যায়।'
ত্রাণশিবিরের স্বেচ্ছাসেবক বলেন, এই এলাকার সমস্ত মানুষকে এখানে রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্য়ে রেশন বিলি করা হচ্ছে।'এই ত্রাণ শিবিরেই সদ্য়োজাত সন্তানকে নিয়ে রয়েছেন দেবিঘাটের বাসিন্দা এই মহিলা।ঘটনার সময়ে হাসপাতালে যাওয়ায় কোনওমতে রক্ষা পেয়েছেন তিনি ও তাঁর সন্তান। নেপাল দেবিঘাট গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা বলেন, হাসপাতালে গেছিল বাচ্চাটাকে ইঞ্জেকশন দিতে। তখনই হড়পা বান চলে এল। তারপর ও বাচ্চাটাকে নিয়ে পালিয়ে গেল। তাই বাঁচতে পেরেছে। ওখানে তিনদিন আটকে পড়েছিল। আমাদের সব চলে গেছে, আর কী ঠিক থাকবে।' নুয়াকোটের ত্রিভুবন ত্রিশূলি সেকেন্ডারি স্কুল। যার প্রিন্সিপাল রাজেন্দ্র দাওয়াদি-র উপস্থিত বুদ্ধি ও সিদ্ধান্তে এযাত্রায় বেঁচে যায় অসংখ্য় তরতাজা প্রাণ। তাঁর সাহসিকতার জন্য় আজ জীবিত স্কুলের প্রায় ১ হাজার ৬০০ পড়ুয়া।
স্কুলের প্রিন্সিপালের দাবি, ২৬ অগাস্ট হড়পা বান আসার ১৫ মিনিট আগে সতর্কবার্তা পেতেই গোটা স্কুল খালি করে পাহাড়ে পালিয়ে যান তাঁরা।ত্রিভুবন ত্রিশূলি সেকেন্ডারি স্কুলের প্রিন্সিপাল রাজেন্দ্র দাওয়াদি বলেন, আমি যখন খবর পেলাম প্রবল জলোচ্ছ্বাসের, আমার পুরো টিম তারপর বিল্ডিংটা ফাঁকা করে দিই। তারপর আমরা পালিয়ে গেছিলাম। আমাদের এক কর্মী এসে চিৎকার করে বলল হড়পা বান আসছে। ২, ৩ জন এসে বলল। আমার মনে হল যদি খবরটা মিথ্য়ে হয়, একদিনের পড়াশোনা নষ্ট হবে। আর যদি সত্য়ি হয়, এতগুলো প্রাণ যাবে। তারপর আমরা ব্য়বস্থা নিলাম।'ভয়ঙ্কর সেই দিন, তখন স্কুলে ক্লাস নিচ্ছিলেন মাস্টারমশাই। হঠাৎই তাঁর কাছে খবর আসে, ত্রিশূলী নদী দিয়ে নেমে আসা মৃত্যুদূত গ্রাম মুছতে মুছতে এগিয়ে আসছে।প্রচণ্ড গতিতে, রুদ্ররূপ নিয়ে, একমুহূর্ত আর দেরি করেননি তিনি, স্কুল থেকে পড়ুয়াদের বের করেন, নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়ার ব্য়বস্থা করেন।
Before You Go
RG Kar: 'পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল, ও গ্রেফতার হয়েছে; এটা তো হওয়ারই ছিল', সোমনাথের গ্রেফতারির পর রত্না দেবনাথ





















