North 24 Parganas News: মাটিতে ফেলে বেল্ট দিয়ে মার, শোরুমে চুরির অভিযোগে ৪ নাবালকের প্রতি নির্দয় আচরণ, পলাতক বিজেপি নেতা
Dalkhola News: উত্তর ২৪ পরগনার ডালখোলা থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে।

সুদীপ চক্রবর্তী, ডালখোলা: চুরির অভিযোগে চার নাবালককে বেধড়ক মারধর। নাবালকদের প্রতি বর্বরোচিত আচরণের ভিডিও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। গাড়ির শোরুমে চুরি করার অভিযোগ ওই চার নাবালকের বিরুদ্ধে। এর পরই তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মাটিতে ফেলে এক কিশোরকে বেল্ট দিয়ে মারধর করতে দেখাও যাচ্ছে ভিডিও-তে। বিজেপি নেতা অর্জুন সরকার মারধর করেন বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই খোঁজ মিলছে না তাঁর। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। (Dalkhola News)
উত্তর ২৪ পরগনার ডালখোলা থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। যে ভিডিওটি সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছে এক কিশোর। তার আর্তনাদ কানে তুলছে না আশেপাশের কেউই। সেই অবস্থাতেই বরং চামড়ার বেল্ট ভাঁজ করে ওই কিশোরকে মারধর করা হচ্ছে। কোনও প্রশ্ন করা যাবে না বলে, রীতিমতো শাসানোও হচ্ছে তাকে। (North 24 Parganas News)
চারিদিকে মানুষের জটলার মাঝে কিশোরকে ফেলে মারধর করা হয়। ধূসর টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি একনাগাড়ে মারধর করে যান। এক জন বাধা দিতে গেলেও, তাকে সরিয়ে দেন ওই যুবক। মারধরকারী যুবক বিজেপি নেতা অর্জুন বলে জানা যাচ্ছে। তবে সেখানেই শেষ নয়। পাশাপাশি চার কিশোরকে বসিয়ে রাখা, জামা তুলে পিঠেও বেল্ট দিয়ে আঘাত করা হয়। চারিদিকে বহু মানুষ জমায়েত করলেও, কেউ প্রতিবাদ জানাননি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধের ঘটনা এটি। রাত ১০টা পর্যন্ত ওই চার নাবালকের উপর নৃশংস অত্যাচার চলে। কিন্তু এমন কী ঘটল, যাতে সর্বসমক্ষে চার নাবালককে মারধর করলেন বিজেপি নেতা? নিগৃহীত নাবালকদের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, ক্যাটেরিংয়ের কাজের লোভ দেখিয়ে গতকাল বিকেলে ওই চারজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর চুরির বদনাম দেওয়া হয় সকলকে।
এক নাবালকের মা বলেন, "বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মারা যায় বাচ্চাগুলিকে। অর্জুনের সাজা হওয়া দরকার। বিচার চাই আমরা। এভাবে প্রাণে মেরে ফেলবে? কী দোষ করেছে আমার ছেলে? চুরি করেছে প্রমাণ কই? দেখাও ভিডিও? সবাই খেলে। মিথ্যে বলে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়েছিল।"
ওই চার নাবালক পরিবারের সঙ্গে কথা বসতে চাইলেও, কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। বিজেপি নেতা অর্জুনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, ফোন বন্ধ রেখেছেন তিনি। ডালখোলা শহর এবং অন্য কোথাও তাঁর খোঁজ মেলেনি এখনও পর্যন্ত। অর্জুনের সঙ্গে থাকা তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের কেন গ্রেফতার করা হল না, উঠছে সেই প্রশ্নও। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দেরিতে জমা পড়ে। ভিডিও খুঁটিয়ে দেখে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে।























