Partha Chatterjee attacks TMC: নির্বাচনে ভরাডুবি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের
Partha Chatterjee: 'সাধারণ মানুষ, নেতাদের কান্না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কানে পৌঁছয়নি', দাবি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের।

কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের অন্দরেই উঠছে না না প্রশ্ন। শিউলি সাহার মতো অনেক নেতা, নেত্রীরাই আইপ্যাকের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, এবার সেই তালিকায় যোগ হল আরও এক নাম।
নির্বাচনে ভরাডুবি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee)। তাঁর মতে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব ছিল। তিনি এবিপি আনন্দকে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, 'মাটিতে পা না রাখা, মাটির ঘ্রাণ, ঘাসের ঘ্রাণ, ঘাসফুল চিহ্ন, তাকে রোলার চালিয়ে ঘাসকে মেরে ফেলা। সবচেয়ে বড় কথা প্রশ্ন ছিল বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।'
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি মমতা-ম্যাজিক তো কাজ করেইনি, উপরন্তু আইপ্যাকের ওপর বাড়তি নির্ভরতাও দলকে ডুবিয়েছে। 'নির্বাচন তো অনেকটা ম্যাথামেটিক্সের মতোই। আমাদের দলের একটাই ম্যাথামেটিক্স ছিল, সেটা হলেন মমতা। সেই ম্যাজিকটা কাজ করেনি। বাংলাজুড়ে যে নেতারা, কর্মীরা তৃণমূলকে বড় করল, প্রতিষ্ঠিত করল, তাঁদের মতামতকে মূল্য দেওয়া হয়নি। আইপ্যাক না ছাইপ্যাক যে জোগাড় করেছে, তারা বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা ডোবাতে জানে এবং ভালভাবে ডুবিয়ে দিয়েছে। কংগ্রেসকে পাঞ্জাবে ডুবিয়েছে। এখানে তো আইপ্যাক এসেইছে বিভাজনের রাজনীতি করতে। একে অপরকে বিশ্বাস করতে পারছি না। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে অবিশ্বাসের ছোয়া তৈরি করেছিল আইপ্যাক। সংগঠনটাকেই তো তুলে দিয়েছে, সংগঠন, ব্লক, ব্লক সভাপতি, এই জায়গায় সব আইপ্যাকের লোকজনরা যেত।' দাবি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের।
তিনি আরও যোগ করেন, যে নির্বাচন কমিশনকে দল আক্রমণই করেছে, তবে নিজেদের বিষয়গুলি তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পাশাপাশি বাড়তি ঔদ্ধত্যের দিকেও আঙুল তোলেন বর্ষীয়াণ নেতা। 'নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ না করে, কী করে আমাদের বিষয়গুলি তুলে ধরা যায়, সেই ব্যবস্থা আমরা করিনি। কখনও বলেছি বয়কট, দেখে নিচ্ছি, এইভাবে নিজের ওপর অতি বিশ্বাস... চল্লিশের নীচে একটি ছেলে গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে বলছে আমি দেখে নেব। তুই, তুকারী করা, এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়, মানুষ এটা ভালোভাবে মেনে নেয়নি।' মত পার্থর।
দলের ভরাডুবির জন্য কিন্তু নতুনদের দিকেই আঙুল তুলেন পার্থ যোগ করেন, 'আইপ্যাকের প্রস্তাব মানে তো ভাইপোর প্রস্তাব, নাহলে ৭৪জন বিধায়ককে বসিয়ে দেওয়ার কোনও মানে হয় না। আমি তো নাটক ভালবাসি, ছোটবেলায় আমি একটা নাটক করতাম ঝিঝি পোকার কান্না। সাধারণ কর্মীদের কান্না, নেতাদের কান্না, মনে হয় আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছয়নি। ডুবিয়েছে নতুন কালচারের নেতা। আইপ্যাক, আর তার সঙ্গে ছাইপ্যাক, এই দুই মিলিয়েই ডুবিয়েছে। সওকতকে নিজের কেন্দ্র বদল করে ভাঙড়ে কেন নিয়ে যাওয়া হল। মানে কোনও কিছুই স্থায়ী নয়, কেবল নিজে পারমানেন্ট। এটা কখনও হয়!', দাবি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের।
এই ব্য়র্থতার দায় কি অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের? প্রশ্নের জবাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, 'ব্যর্থতা তো বটেই। এটা একটা শিক্ষণীয় বিষয় যে আমি পারিনি, আর এদিকে আমাকে আগলে রাখার জন্য লিডার চেষ্টা করছেন। আমি পড়ছি কাগজে যে হাত তুলে দাঁড়িয়ে যান... কেন? ২১১ থেকে ৮০ করেছে বলে? দায় তো নিশ্চয়ই এক নম্বরের সেনাপতির। তবে শুধু সেনাপতির দায় দেব না, তার সঙ্গে আইপ্যাক সংস্থা এবং নেত্রীর দুর্বলতার।'























