Madhyamik Result 2025: জন্ডিসে অকালমৃত্যু, মাধ্যমিকে নজরকাড়া ফল দেখা হল না থৈবীর ; ছবি নিয়ে বুকফাটা কান্না পরিবারের !
Asansol News: পরীক্ষা শেষ হতেই শুরু হল আরেক যুদ্ধ। জীবন-যুদ্ধ । ধরা পড়ল মারাত্মক জন্ডিসে আক্রান্ত থৈবী। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় হায়দরাবাদ।

কৌশিক গাঁতাইত, আসানসোল : 'মনের জোর ছিল প্রচণ্ড বেশি।' অসুস্থতা নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু, নিজের সাফল্য দেখে যেতে পারল না আসানসোলের থৈবী মুখোপাধ্যায়। অসুস্থতা নিয়ে পরীক্ষা দিয়েও আসানসোল উমারানি গড়াই মহিলা কল্যাণ স্কুলের এবারের টপার থৈবী মুখোপাধ্যায় । মার্কশিট এসে পৌঁছেছে কিন্তু পৌঁছায়নি থৈবী । মাত্র সতেরো দিন আগে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে ইহলোক ত্যাগ করে ছোট্ট মেয়েটা । যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন পরিবার থেকে স্কুলের শিক্ষিকারা । স্বপ্ন বাস্তবায়িত হল, কিন্তু থৈবী দেখতে পেল না। পেটে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে পরীক্ষা দিয়েও বাংলায় 99, অঙ্কে 98, প্রকৃতি বিজ্ঞানে 97, জীবন বিজ্ঞানে 98, ইতিহাসে 95 এবং ভূগোলে 95 নম্বর তোলে ।
পরীক্ষা শেষ হতেই শুরু হল আরেক যুদ্ধ। জীবন-যুদ্ধ । ধরা পড়ল মারাত্মক জন্ডিসে আক্রান্ত থৈবী। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় হায়দরাবাদ। সেখানেও চিকিৎসায় খুব একটা সাড়া মিলল না। উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় অন্যত্র। সেখানে পঁচিশ দিনের কঠিন লড়াই। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ । মেয়ে চলে যাওয়ার পর বাড়ি ছেড়ে বীরভূম শ্বশুরবাড়ি চলে যান পেশায় হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী অর্থাৎ থৈবীর মা পিউ মুখোপাধ্যায়।
আদরের নাতনির ছবি আঁকড়ে অঝোরে কেঁদে চলেছেন দাদু-ঠাকুমা। দাদু বাসন্তীদাস মুখোপাধ্যায়ের আক্ষেপ, সব বিষয়ে সেরা থৈবীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও সফল হওয়া গেল না । রেজাল্ট জানার পর তিনি বলেন, "আনন্দ খুবই হত। ওই অপেক্ষাতেই ছিলাম। কিন্তু, তার আগেই ভগবান এরকম করে দিল। জানি না, তিনি আছেন, না নেই ! পরীক্ষার পর জন্ডিসটা ধরা পড়ল। পরীক্ষা দেওয়ার পর আমি বলতাম, কেমন হল ? দাদু হয়ে একটু ফুঁ দিয়ে আশীর্বাদ করতাম। বলত, ভাল হয়েছে। হেঁসে হেঁসেই কথা বলত। কিন্তু, সে যে ছেড়ে চলে যাবে জানি না। ও সবকিছুই করতে ভালবাসত। আর্ট, গান। অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে পরীক্ষা দিল। তারপর জন্ডিস ধরা পড়ল। জন্ডিসের পর ডাক্তাররা বললেন, একবার ওকে হয় কলকাতা, নয় হায়দ্রাবাদ নিয়ে চলে যান। হায়দ্রাবাদ গেল। সেখানে প্রথমে ক্যাজুয়ালি নিয়েছিল। বলল, ভাইরাস কালচার করেছি। এটা ভয়ের কিছু নয়। আপনি ফিরে যান। ওকে খাওয়ান। ওর ইমিউনিটি কমে গেছে। অন্য এক জায়গায় ছিল এক সপ্তাহ। ছেলে বলল, বমি করছে। বললাম, কখন খেয়েছে। বলল, ২টোর সময়। বমি হয় সাড়ে ৫টায়। আমি বললাম, কিছু ডাইজেস্ট হয়েছে। এই করতে করতে চলে গেল এক সপ্তাহ। ওরা দেখল, বিলুরুবিন অনেক বেড়ে গেছে। ওরা অন্য কোনও হাসপাতালে রেফার করল। সেখানে দুদিন ঠিক ছিল। তিন দিনের দিন ডায়ালিসিস দিয়েছিল।"
আসানসোল উমারানি গড়াই মহিলা কল্যাণ স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পাপড়ি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "থৈবী আমাদের কাছে খুব প্রিয় ছিল, স্নেহের ছিল। আমরা জানতাম, ও সুস্থ অবস্থায় পরীক্ষা দিলে আরও অনেক ভাল করত। কিন্তু, ওই অবস্থাতেও যে ৬৭৪ করতে পেরেছে, সেটা ও বলেই পেরেছে । বলতে কোনও দ্বিধা নেই, ওর জায়গায় অন্য কেউ ওই জায়গায় থাকলে কতটা করতে পারত। কারণ, ওর মনের জোর ছিল প্রচণ্ড বেশি। ও জানত, ওকে ভাল রেজাল্ট করতে হবে শিক্ষিকাদের জন্য, বাবা-মার জন্য। ও সে চেষ্টাটা করে গেছে। পরীক্ষা দিতে দিতে ও ৩ ঘণ্টা পুরো টানা লিখতে পারছিল না।"






















