Earthquake : ফের দুটি বিরাট ভূমিকম্প ! ভুটানের পরই ৮.২ মাত্রার ধাক্কা এই এলাকায়, জারি সুনামি সতর্কতা
ভূমিকম্পের জেরে ফিলিপিনস ও ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলিও।

রবিবার রাতে কেঁপে উঠেছিল ভুটান। তার অভিঘাতে কেঁপে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। কম্পন অনুভূত হয় কলকাতা শহরেও। ফিলিপিনসের দক্ষিণাঞ্চলের মিন্ডানাও উপকূল সোমবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা। ভূমিকম্পের জেরে ফিলিপিনস ও ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলিও।
জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (GFZ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৮.২ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। প্রথমে কম্পনের মাত্রা ৭.৩ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৮.২ করা হয়। মার্কিন সুনামি ওয়ার্নিং সিস্টেম ভূমিকম্পের পরই সুনামির সম্ভাবনার সতর্কতা জারি করে। পাশাপাশি প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, এই কম্পনের ফলে আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।
ফিলিপিনসের আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফিভলক্স (Phivolcs) ভূমিকম্পের মাত্রা ৭.০ বলে জানিয়েছে। সংস্থার তরফে এক মিটারেরও বেশি উচ্চতার সুনামি ঢেউয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রথম কম্পনের পর কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সাগরে অস্বাভাবিক ঢেউ থাকবে। এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর না মিললেও ভূমিকম্পে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সারাঙ্গানি প্রদেশের আলাবেল শহরের পুলিশ প্রধান বেঞ্জি আনচেটা জানান, পতাকা উত্তোলনের সময় আচমকাই প্রবল কম্পন শুরু হয়। ভূমিকম্পের জেরে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের ভবনে ফাটল দেখা দেয়। আতঙ্কে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি। সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “এটাই আমাদের অনুভব করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।”
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলের মানাডো শহরেও ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, ফিলিপিনস ও ইন্দোনেশিয়া ‘প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার’-এর অন্তর্গত অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলটি পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। বর্তমানে দুই দেশের প্রশাসন উপকূলবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুনামি সতর্কতা জারি থাকায় সাধারণ মানুষকে সমুদ্র উপকূল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভুটানে ভূমিকম্প
রবিবার রাতে ভূমিকম্প অনুভূত হয় কলকাতাতেও। তীব্র কম্পন অনুভূত হল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। ভুটানের ভূমিকম্পের জেরেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা যায় পরে। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ভুটান বলে জানা গিয়েছে। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৫.৭। তার দেরেই কম্পন অনুভূত হল কলকাতায়। বেশ খানিক ক্ষণ ধরে কম্পন অনুভব করেন অনেকে। কম্পন অনুভূত হয় শিলিগুড়ি, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারেও। রাত ১১টা বেজে ৬ মিনিটে কম্পন অনুভূত হয়।






















