R G Kar Death: ফেটে গিয়েছিল হৃদপিন্ড, ফুসফুস, RG করে লিফটে মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্তে ভয়াবহ তথ্য
অন্ত্রও ফেটে গিয়েছিল, দেহের ভিতর রক্তক্ষরণ হয়েছিল বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা : আর জি কর মেডিক্যালে লিফটে আটকে মৃত্যুর ঘটনায় মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাঁর দেহের ময়নাতদন্তে দেখা গিয়েছে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া গিয়েছে আঘাতের চিহ্ন। দেখা গিয়েছে ব্যক্তির পাঁজরের হাড় সব ভাঙা। ভাঙা ছিল হাতের হাড়ও। পায়ের হাড়ও ভেঙে গিয়েছিল। ফেটে গিয়েছিল হৃদপিন্ড, ফুসফুস । অন্ত্রও ফেটে গিয়েছিল, দেহের ভিতর রক্তক্ষরণ হয়েছিল বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
কেন মৃত্যু হতে পারে বন্ধ লিফটে ?
সম্ভবত ওই ব্যক্তি লিফটে আটকে পড়ায় ভয়ঙ্কর প্যানিক অ্যাটাক হয়েছিল। হয়ত আতঙ্কে ভুগছিলেন। এই ধরনের ঘটনায় কারও শরীরে অসম্ভব অ্যাড্রিনালিন সার্জ হয়। এর ফলে পালস রেট অসম্ভব বেড়ে যেতে পারে। ব্লাড প্রেসার বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকতে পারে। তবে এক্ষেত্রে অক্সিজেনের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা কম। বলছেন চিকিৎসক অর্পণ চক্রবর্তী।
পরিবারের বক্তব্য
মৃতের পরিবার জানিয়েছে, অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার, বাড়িতেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই পড়ে গিয়ে তাঁর ৪ বছরের ছেলের কনুই ভেঙে যায়। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ ছেলেকে নিয়ে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন অরূপ। ট্রমা সেন্টার বিল্ডিংয়ের ২ তলায় ছেলের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। সেই মতো, স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে, লিফটে ৫ তলা থেকে ২ তলায় আসছিলেন তাঁরা। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে, ২ তলায় নামার পরিবর্তে লিফটটা আটকে যায়। অনেকক্ষণ আটকে থাকার পর, লিফট সোজা বেসমেন্টে চলেও আসে। দরজাও খোলে। কিন্তু বেসমেন্টে এই লোহার গ্রিল থাকায় বের হতে পারেননি তাঁরা। এর ফলে কার্যত লিফটে ছটফট করতে করতে মারা যান তিনি।
কেন লিফটের দরজার সামনে গ্রিল ছিল?
কেন লিফটের দরজার সামনে গ্রিল ছিল? হাসপাতালের দাবি বেসমেন্টে হাসপাতালের কিছু মূল্য়বান যন্ত্রপাতি রাখা। তাই লিফটে কেউ এসে যাতে বেসমেন্টে ঢুকতে না পারে, তাই গ্রিল লাগানো। সেটায় তালা দেওয়া। চাবিটা কার কাছে, তাকে পাওয়া গেলে বা গ্রিলটা ভেঙে দিলে ৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হত। সেটা করা যায়নি।
এরপর লিফট আবার চালু হয়ে যায়। ফের আটকে পড়ে গ্রাউন্ড ফ্লোরে। সেখান থেকেই ৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, কোনও লিফটম্য়ান তো ছিলই না। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর, সাহায্য চেয়েও মেলেনি।
























