West Bengal Politics : 'বাংলার মানুষকে পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই...', মমতার উদ্দেশে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য 'বিদ্রোহী গোষ্ঠীর' মুখ্য সচেতকের
TMC News : একসঙ্গে কেন এতজন বিধায়ক বিদ্রোহ করলেন, তার কারণও জানিয়ে দিলেন বিদ্রোহী বিধায়করা।

কলকাতা : একযোগে ৫৮ জন বিধায়কের বিদ্রোহ। বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে বিধায়কদের সই সম্বলিত চিঠি জমা পড়ার পর বিরোধী দলনেতার চেয়ারে বসলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরও খুলে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে তৃণমূলে যে টানাপোড়েন চলছিল, তা এককথায় অন্য মোড় নিল। কিন্তু, এই পরিস্থিতি কেন হল ? একসঙ্গে কেন এতজন বিধায়ক বিদ্রোহ করলেন, তার কারণও জানিয়ে দিলেন বিদ্রোহী বিধায়করা। অধ্যক্ষের কাছে চিঠি জমা দেওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠক করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা।
সেখানেই মুখ্য সচেতক হিসাবে মনোনীত হওয়া রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, "আমরা এখানে যারা আছি সকলেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী মানি, শ্রদ্ধা করি। এই নিয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই। আজ আমাদের এই জায়গায় আসতে হল কেন ? আমাদের নেত্রী আমাদের দুইবার ডেকেছেন। আমরা সমস্ত বিধায়ক সেখানে গেছি। কিন্তু সঠিকভাবে আমাদের পরিষদীয় দলনেতা...সেখান থেকে যে প্রসেসে করতে হয়, সেখানে ব্যর্থ হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস আজ বাজারে হাস্যকৌতূক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে তৃণমূল একটা বৃহত্তম রাজনৈতিক দল, সে দল পরিষদীয় রীতিনীতি জানে না। কীভাবে পরিষদীয় দলনেতা করতে হয়, সেখানে ব্যর্থ হয়েছে যখন তখন আমরা তৃণমূলের বিধায়করা এগিয়ে এসে তৃণমূলের মুখ রক্ষা করার জন্য বিধানসভার পরিষদীয় দলের সমস্ত রীতিনীতিকে মান্যতা দিয়ে, পরিষদীয় দলনেতা সহ যে দফতরগুলো বণ্টন করা হয়, আমরা স্পিকার-সহ বিধানসভার সচিবালয়কে জমা দিয়েছি। ওঁরা সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমাদের আবেদন, আমাদের পরিষদীয় দলকে স্বীকৃতি দিয়ে উনি আমাদের অ্যাডভাইসার হিসাবে পরিচালনা করুন। ওঁকে আমরা নেত্রী হিসাবে মান্যতা দেব পরিষ্কার বাংলার মানুষের কাছে জানিয়ে দিতে চাই।"
অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে নির্বাচিত ৫৮ জন বিধায়কের এটা টিম আজ পর্যন্ত । আপাতত এইজন্য, কারণ আরও দুইজন আছেন। যারা এই মুহূর্তে এখানে নেই। রাজ্যের বাইরে আছেন। তাঁরা তাঁদের বক্তব্য জানিয়ে দেবেন। ৬০ হবে। সেই দুইজনের সম্মতি যেহেতু আছে, তাই আমি ৬০ বললাম। আমাদের পরিষদীয় দল এই জব ডিস্ট্রিবিউসন যে করেছে সেই অনুযায়ী চিফ হুইপ হিসাবে আমরা চিঠিও দিয়েছি, রঘুনাথগঞ্জের জনপ্রিয় বিধায়ক আখরুজ্জামান। তিনি মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব পালন করবেন। ডেপুটি লিডার হিসাবে আমরা চারজনকে ঠিক করেছি। সেই ভূমিকা পালন করবেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বহুবারের বিধায়ক ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক জাভেদ খান, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা। আমরা ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন করা চিঠি রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষকে আজ দিয়েছিলাম। সিংহভাগ বিধায়কই সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।"























