TMC News: ‘দিদি এবং অভিষেকদা অন্ধের মতো…’, তৃণমূলের হারের কারণ খোলসা করলেন ঋজু দত্ত, কাঠগড়ায় তুললেন IPAC-কেও
Riju Dutta Exclusive: তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হয়েই দলের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন ঋজু দত্ত। এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দাবি করলেন।

কলকাতা: নির্বাচনে হেরে গিয়েছে তৃণমূল। বিজেপি-র প্রশংসা করতে নেমে এসেছে সাসপেনশনের খাঁড়া। সেই আবহেই ফের তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হলেন, দলের নিলম্বিত মুখপাত্র ঋজু দত্ত। কী কারণে এমন ভরাডুবি হল তৃণমূলের, তার সম্ভাব্য কারণ খোলসা করলেন তিনি। আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুললেন, তেমনইমমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও মুখ খুললেন। (Riju Dutta Exclusive)
২০২৬ সালের নির্বাচনে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। ২০২৪ সালে যেখানে ২০০-র বেশি আসনে জয়ী হয়েছিল তারা, এবার প্রাপ্ত আসন তিন সংখ্যার ঘরেও পৌঁছতে পারেনি। এই ফলাফলের জন্য অনেকেই তৃণমূল নেতৃত্বের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করছেন। সেই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনটি কারণ চিহ্নিত করেন ঋজু। (TMC News)
আরও পড়ুন: ঋজু দত্তকে সাসপেন্ড করল তৃণমূল, দলকে তাঁর বার্তা, ‘কথা দিচ্ছি—আবার দেখা হবে’
তৃণমূলের পরাজয়ের কারণ খোলসা করতে গিয়ে ঋজু বলেন, "তিনটে কারণ, প্রথম আইপ্যাক। গত ছ’মাস ধরে তৃণমূল একটা রাজনৈতিক দল, তাকে চালিয়েছে ব্যবসায়িক সংস্থা আইপ্যাক। দিদি এবং অভিষেকদা অন্ধের মতো তাদের বিশ্বাস করেছে। তারা আমাদের থেকেও টাকা নিয়েছে, তারা বিজেপির সঙ্গেও সেটিং করেছে, পুরো দলটাকে ভোগে পাঠিয়ে দিয়েছে। পুরো দলটাকে শেষ করে দিয়েছে।"
দ্বিতীয় কারণ খোলসা করে ঋজু বলেন, "কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, জেলা পরিষদ, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ, এরা যা অত্যাচার করেছে, সাধারণ মানুষের থেকে যা তোলাবাজি করেছে, এটা তার ফল।"
আরও পড়ুন: ক্ষমতায় এসে কলকাতায় মাছ উৎসব বিজেপি-র, ‘বাঙালির মাছ-ভাত বন্ধ করে দিয়েছিলেন মমতা’, বললেন তাপস রায়
যে মহিলাদের এতদিন তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক মনে করা হতো, তাতে ধস নামা দলের পরাজয়ের তৃতীয় কারণ বলে মত ঋজুর। তাঁর কথায়, "আর সর্বোপরি কারণ মহিলা সম্মান। আমরা ভাবতাম ১৫০০ টাকা করে দিচ্ছি, বাংলার সব মা-বোনেরা দিদিকে ভোট দেবে। আপনি ১৫০০ টাকা দিয়ে বাংলার মহিলাদের সম্মান কিনতে পারেন না। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, নীচু স্তরের…এই ব্লক সভাপতি এবং তার নীচের স্তরের তৃণমূলের নেতাদের হাতে বাংলার হিন্দু মহিলারা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অত্যাচারিত।"
এক দিন আগেই তৃণমূল সাসপেন্ড করেছে ঋজুকে। ছ'বছরের জন্য তাঁর উপর সাসপেনশন বহাল থাকবে। ভোট পরবর্তী অশান্তির আবহে বিজেপি-র প্রশংসা করে দলের বিরাগভাজন হন ঋজু। এর পরই গতকাল সাসপেন্ড করা হয় তাঁকে। সেই নিয়ে গতকালই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। 'ফের দেখা হবে' বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ঋজু এবার কী করবেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে এবার দলীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন তিনি।






















