এক্সপ্লোর

ABP Ananda Sera Bangali 2025: সেরা বাঙালি ২০২৫, সেরার সেরা, বর্ষসেরা... কারা পেলেন কোন সম্মান

Sera Bangali 2025: সেরা বাঙালি ২০২৫। কে হলেন বর্ষসেরা? কে পেলেন সেরার সেরা সম্মান? লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট সম্মানই বা এল কার হাতে?

ABP Ananda Sera Bangali 2025: দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শীর্ষ স্থান হোক কিংবা আন্তর্জাতিক স্তরের সেরার তালিকা, বাঙালিদের খুঁজে পাওয়া যাবে সর্বত্র। সেই বাঙালিদেরই প্রতি বছর সম্মান প্রদান করে এবিপি আনন্দ। কুর্নিশ জানানো হয় তাঁদের কীর্তিকে। এবছর আয়োজিত হয়েছিল 'সেরা বাঙালি' অনুষ্ঠান। আর সেখানেই কাদের সম্মানিত করা হল, কোন ক্ষেত্রে কারা হলেন সেরা বাঙালি, চলুন দেখে নেওয়া যাক। 

সেরা বাঙালি বর্ষসেরা সম্মান ২০২৫ রিচা ঘোষ 

২০২৫ সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলির মধ্যে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জয় নিঃসন্দেহে অন্যতম। প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। তবে এই জয়কে শুধুমাত্র মহিলাদের ক্রিকেট বলে কৃতিত্ব খাটো করা উচিত নয়। এই জয় ভারতের জয়। দেশের এই সম্মান এসেছে 'দেশ কি বেটিদের' হাত ধরে। 'ক্রিকেট ইজ এভরিওয়ানস গেম', আক্ষরিক অর্থেই তা প্রমাণ করে দিয়েছেন এই মেয়েরা। প্রথম বাঙালি মেয়ে হিসেবে বিশ্বকাপ উঠেছে শিলিগুড়ির ২২ বছরের মেয়ে রিচা ঘোষের হাতে। তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে সেরা বাঙালি বর্ষসেরা সম্মান। আগামী দিনে কি অধিনায়ক হতে চান রিচা? আপামর বাঙালির এই প্রশ্নের জবাবে হাতে হাসি মুখে রিচা বলছেন, 'ছোট থেকে স্বপ্ন দেখেছি ক্যাপ্টেন হয়ে ভারতকে অনেক ট্রফি জেতাব। ভাল খেলে যাচ্ছি। দেখা যাক...' 

সেরা বাঙালি সম্মান ২০২৫ পুষ্পরাগ রায় চৌধুরী 

চেয়েছিলেন সেনা অফিসার হতে। অথচ কী থেকে কী হয়ে গেল। বন্ধুর সঙ্গে ফটোশ্যুটে গিয়ে তাঁর উপর নজর পড়ে পরিচালক প্রভাত রায়ের। তরুণ তুর্কি তখনও ভাবছেন, একটাই ছবিতে কাজ করবেন। তারপর কলেজ শেষে সিডিএস পরীক্ষা দিয়ে সোজা সেনাবাহিনীতে যোগ। তবে তাঁর জীবনে গল্পটা হয়ে গিয়েছিল একদম অন্যরকম। তিনি অভিনেতা টোটা রায় চৌধুরী। তাঁর 'ভালনাম' পুষ্পরাগের সঙ্গে পরিচয় নেই অনেকেরই। তবে টোটা- র অভিনয়, অ্যাকশন স্কিল, ফিটনেস, নাচ - সবেরই অসংখ্য গুণমুগ্ধ রয়েছেন। টলিউড থেকে বলিউড, ধারাবাহিক থেকে ওটিটি, সবেতেই টোটা এখন পরিচিত নাম। তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ। 'শুভ মহরৎ', 'চোখের বালি' থেকে শুরু করে বিটাউনের 'ইন্দু সরকার', 'হেলিকপ্টার ইলা', ওটিটি- র 'স্পেশ্যাল অপস', কর্ণ জোহরের বিগ ব্যানারের 'রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি'... তালিকা বড় লম্বা। কয়েকদিনের তালিমে টোটা যেভাবে কত্থক শিখে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন, তা ভাষায় বলে বোঝান বেশ মুশকিল। আর টোটা অভিনীত সমস্ত চরিত্রের মধ্যে নতুন সংযোজন 'ফেলুদা'। স্ক্রিনে আসলে আজকাল শুধুই মুগ্ধ করছেন অভিনেতা। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাঁর ফ্যান-ফলোয়ার্স। 

তিন দশক ধরে চলছে গানের 'ঝড়', বদলেছে বাংলা গানের ভূগোল 

সেভাবে বন্ধু ছিল না তাঁর। নিজের কথা বলতেই তাই গান লেখা শুরু। বাংলাতেও যে হার্ড মেটালিক রক হয়, হতে পারে, ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেতে পারে, তিন দশক ধরে তা বোঝাচ্ছেন তিনি। বাবা সুরকার, মা লিখতেন গান, ছোট্ট থেকেই এই শিল্পীর সবটুকু জুড়ে রয়েছে গান। চার বছর বয়সে জেদ করে মা-বাবার সঙ্গে মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি। অন্ধকার থাকায় নীচে দর্শকদের দেখতে পাচ্ছিলেন না। বার বার কিনারে গিয়ে দর্শকদের দেখছিলেন। উপভোগ করছিলেন সেটা। চার বছর বয়সের ওই অভ্যাস আজও তাঁর রয়েছে। স্টেজের ধারে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেই সঙ্গীত পরিবেশ করেন তিনি। বিশ্বাস করেন রক মিউজিক আসলে পরিণত সঙ্গীত। এর আলাদা একটা আদর্শন রয়েছে। তিনি রূপম ইসলাম। তাঁর গানে প্রেম, ক্ষোভ, প্রতিবাদ, বিপ্লব, সামাজিক সমস্যা, নাগরিক জীবনের যন্ত্রণা - উঠে এসেছে সবই। নিজেকে রকস্টার নয়, রক সঙ্গীতের শ্রমিক বলেই ভাবেন রূপম। প্রথমে ভেবেছিলেন কেউ শুনবে না তাঁর গান। তবে আজ তিনি মঞ্চে এলে দর্শকদের মধ্যে থেকে ভেসে আসে গর্জন। তাঁর গানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন প্রচুর মানুষ। 

'জিন' নিয়ে গবেষণা, তিন বঙ্গ সন্তান বাস্তব করে দেখিয়েছেন জিনতত্ত্বে নোবেল জয়ী জেমস ওয়াটসনের উক্তি 'জেনেটিক্স ইজ দ্য সায়েন্স অফ হোপ' 

প্রাণবন্ত কিশোরী উদিতী। জিনগত মারাত্মক অসুখে আক্রান্ত। যাবতীয় প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলছে। বিকল হচ্ছে একের পর এক স্নায়ুকোষ। তাঁকে বাঁচাতেই বিজ্ঞানের হাত ধরে লড়াই শুরু করলেন 'থ্রি মাস্কেটিয়ার্স'। কিশোরীর জন্য ময়দানে নেমে তিন বিজ্ঞানী অসাধ্য সাধন করেছেন। বাঙালির জিনগত গবেষণা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন এই তিনজন। চেষ্টা করছিলেন ত্রুটিপূর্ণ জিন সংশোধনের। দুর্ভাগ্য যে ক্রিনিকাল ট্রায়ালের আগে থমকে যায় উদিতীর জীবন। তবে থামেননি এই তিনজন। এককালে এ দেশে জিনগত সমস্যার যে চিকিৎসা ছিল কল্পনাতীত, আজ তা সাফল্যের মুখ দেখেছে এই তিন বাঙালি বিজ্ঞানীর হাত ধরেই। আজও চলছে তাঁদের লড়াই। তিন যোদ্ধার মেধা আর পরিশ্রম আজ নতুন দিশা দেখাচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞানে। আশার আলো দেখছেন হাজার হাজার মানুষ। যে তিনজনের জন্য এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে, তাঁরা হলেন শৌভিক মাইতি, দেবজ্যোতি চক্রবর্তী, অর্কশুভ্র ঘোষ - এবছরের সেরা বাঙালি। 

রাজনীতি সর্বস্ব রাজ্যে শাসকের রক্তচক্ষুর সামনে মেরুদণ্ড সোজা রেখেছেন এই শিক্ষক 

ক্ষমতার চোখে চোখ রেখে তিনি বুঝিয়েছেন শিরদাঁড়া কাকে বলে। শাসক চাপ দিয়েছিল পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার। নাহ্‌, মোটেই হার মানেননি তিনি। একসময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ছিলেন তিনি। পরে হয়েছেন সেখানকার শিক্ষা প্রশাসক। নিয়মে ফাঁকি বরদাস্ত করেন না কোনও মতেই। কখনও তিনি বড্ড কড়া। ছাত্র বিক্ষোভের সামনে নত না হয়ে ৫ ঘণ্টা বসে থেকেছেন গাড়িতে। কখনও আবার তিনি মায়ের মতোই স্নেহশীল। তিনি মানেন, লোভ থাকলেই ভয় হয়। আর ভয় থাকলেই সারেন্ডার করে মানুষ। ভয় যেমন ছোঁয়াচে, সাহসও তেমন ছোঁয়াচে। তিনি শান্তা দত্ত দে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নড়বড়ে সময়ে হাল ধরে দক্ষতা দেখিয়েছেন। বারবার এসেছেন সংবাদ শিরোনামে। মেরুদণ্ড সোজা রাখার বিষয়টি তাঁর থেকে শিক্ষণীয়। বাইরে শক্ত, অন্তরে নরম, যুক্তির কাছে মাথা নোয়ান শতবার, ধমকের কাছে একবারও নয়। এবছরের সেরা বাঙালি সম্মান পেয়েছেন শান্তা দত্ত দে। 

জীবনের কোনও বাধাই হার মানাতে পারেনি তাঁকে, ঝড়কে চোখ রাঙান তিনিই 

দুর্ঘটনায় ডান পা হারিয়েছিলেন। পেট চালাতে ইটভাটায় কাজ করেছেন হুইল চেয়ারে বসে। এক পায়ে ভ্যান চালান। প্রতিকূলতার সমুদ্র পাড়ি দিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তবে এসব তো কিছুই নয়। এই যুবক তাক লাগিয়েছেন একটানা ১২ ঘণ্টা সাঁতার কেটে। রাজ্য ফেন্সিং প্রতিযোগিতায় জিতেছেন সোনা। একটি পা না থাকা, হুইল চেয়ারের জীবন বিন্দুমাত্র দমাতে পারেনি তাঁকে। তিনি ২৭ বছরের আহমেদ গাজি। এবছরের সেরা বাঙালি সম্মান পেয়েছেন তিনি। আজও ইটভাটায় খেটেই তারপর প্রতিযোগিতায় যান মিনাখাঁর বাসিন্দা আহমেদ। ছোট থেকেই অভাব দেখেছেন। তবে একরোখা যুবকের জীবনের জেদ কমেনি। হতাশায় ডুবে না গিয়ে খেলাধুলোকে বেছে নিয়েছিলেন সঙ্গী হিসেবে। দুর্ঘটনার পর ভাবেননি বেঁচে থাকবেন, কিছু করবেন। আজ বলেন, মনে আনন্দ নিয়ে বেঁচে আছেন তিনি। খেলার দুনিয়ায় তিনি সব্যসাচী। ওয়েস্ট বেঙ্গল প্যারা স্টেট গেমস ২০২৫- এ ফেন্সিংয়ে পেয়েছেন সোনা। চলতি বছরে সুইমিং ফ্রি স্টাইল এবং ব্যাক স্ট্রোকেও রাজ্য স্তরে জিতেছেন জোড়া সোনা। কেরলের ন্যাশনাল ড্রাগন বোট চ্যাম্পিয়নশিপেও পেয়েছেন জোড়া সোনা। ২০২০ সালের ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং- এ দখল করেছিলেন ষষ্ঠ স্থানে। 

রিল নয় রিয়েল হিরো, ডু অর ডাই সিচুয়েশন, হয় মারো নয় মরো, মৃত্যুকে চাক্ষুষ দেখেছেন তিনি 

রাজ্য পুলিশের অফিসার রতন কুমার রায়। সামনে দেখে চলছে গুলিবৃষ্টি। উল্টোদিকে এই পুলিশ অফিসার। ভয়ডরের লেশমাত্র নেই। পিছিয়ে যাননি একটুও। বরং দুষ্টের দমন করেছেন। ২০২৩ সালের ২৯ অগস্ট। থানায় খবর আসে গয়নার দোকানে ডাকাত পড়েছে। খবর পেয়েই ছোটেন ঘটনাস্থলে। তাঁকে দেখেই গুলি ছুড়তে শুরু করেন দুষ্কৃতীরা। প্রায় ৫০০ মিটার ধাওয়া করে ধরাশায়ী করেন দুই ডাকাতকে। তারপর আরও কিছুদূর গিয়ে পাকড়াও করেন বাকি ২ জনকেও। এই পুলিশ অফিসার ভোজনরসিক। সিক্স প্যাক নেই তাঁর। তবে আছে অদম্য মনের জোর। সাংঘাতিক সাহস। আর ভাল কাজ করার ইচ্ছে। তাই দিয়েই ডাকাতদলকে ধরাশায়ী করেছিলেন বাবার পেশায় আসা পুলিশ অফিসার রতন কুমার রায়। 

মুঠো মুঠো পেনকিলার খেয়ে অংশ নিয়েছিলেন প্রতিযোগিতায়, জিতলেন সোনা, রুপো 

নেপালে এশিয়ান পাওয়ার লিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার ২ মাস আগে কাঁধে মারাত্মক চোট পান। অপারেশনের পরামর্শ দেন চিকিৎসক। কিন্তু অস্ত্রোপচার হলে আর ওয়েট লিফটিং করা হবে না। তাই ভরসা কিছু ওষুধ, আর অদম্য মনের জোর। জেদ নিয়েই গেলেন চ্যাম্পিয়নশিপে। তারপর এল জয়। জলপাইগুড়ির মেয়ে গর্বিত করল দেশকে। অভাব দেখেছেন সংসারে। বিয়ে ভেঙেছে। বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছিলেন না একসময়। তবে মা থেকেছেন পাশে, সবসময়। জিমে ভর্তি হন। হাতে লাগে মারাত্মক চোট। ডাক্তার বলেন, প্র্যাকটিসে ঠিক হবে, ওষুধে নয়। এরপর থেকেই শুরু ভারোত্তোলন। আর কোনও ঝড় আটকাতে পারেনি তাঁকে। আর্থিক প্রতিকূলতা এসেছে। তবে হার মানেনি মা-মেয়ে কেউই। সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছেন 'এভাবেও ফিরে আসা যায়'। তিনি গীতাঞ্জলি সাহা, এবারের এরা বাঙালি। রাজ্য, জাতীয়, আন্তর্জাতিক সব স্তরেই তিনি জিতেছেন একাধিক পদক। সংগ্রহে রয়েছে সোনার মেডেলও। 

বিভূতিভূষণের চাঁদের পাহাড় দেখে এসেছেন এই বঙ্গ তনয়, ১১ বছরের প্রতীক্ষা সফল হয়েছে 

সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি এখন পরিচিত মুখ। বাস্তবের 'শঙ্কর' তিনি। সাইকেলে চড়ে গিয়েছেন 'চাঁদের পাহাড়ে'। দেখে এসেছেন 'অগ্নিদেবের শয্যা'। মধ্য আফ্রিকার দুর্গমতা আটকাতে পারেনি জ্যোতিষ্ক বিশ্বাসকে। অভিযাত্রী তিনি। চিরকাল ভাবেন 'শঙ্কর' একজন স্বাবলম্বী চরিত্র। করিমপুরের যুবক কার্যত অসাধ্য সাধন করেছেন। ছোট থেকেই অভিযান বড় পছন্দ তাঁর। আর সাইকেল চালানো তাঁর নেশা। পকেটে তেমন রেস্তো নেই। তবে আছে মনোবল, আর সাইকেল। বাবা জ্যোতিষ্ককে বুঝিয়েছিলেন, অভিযানকেই লাইফস্টাইল বানিয়ে ফেল। অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করেছেন তিনি। চাঁদিফাটা রোদ, জলের অভাব, বন্য পশুর আনাগোনা - নাহ্‌ কিচ্ছু আটকাতে পারেনি তাঁকে। পৌঁছে গিয়েছেন চাঁদের পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মার্গারিটা পিকে। বিভূতিভূষণ চট্টোপাধ্যায়ের 'চাঁদের পাহাড়' উপন্যাস প্রকাশ্যে ৮৮ বছর পর চাঁদের পাহাড় ছুঁয়ে এসেছেন জ্যোতিষ্ক বিশ্বাস। স্বপ্নপূরণ করেছেন করিমপুরের এই বাঙালি। এবারের সেরা বাঙালি তিনি। 

ধূমকেতুর বুকে জলের হদিশ করবে এক যন্ত্র, নির্মাতা এক বাঙালি বিজ্ঞানী 

মফস্বলের ছেলে। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই স্যারদের থেকে শুনতেন তাবড় বিজ্ঞানীদের গল্প। অভাবে সঙ্গে লড়াই করেও স্বপ্নে ওই বাচ্চা ছেলে পৌঁছে যেতেন মহাকাশে। হুগলির কোন্নগরের নবগ্রাম থেকে নাসা, জার্নি বড় লম্বা। তবে তিনি পেরেছেন। তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে আলাপ করেছেন স্বয়ং স্টিফেন হকিং। আজও সব কথার পর হেসে বলেন, 'স্বপ্ন এমন এক জিনিস, যা দেখতে পয়সা লাগে না।' বিশাল ব্রিহ্মাণ্ডে জলের খোঁজ করতে জুতোর বাক্সের সাইজে তৈরি করেছেন এক যন্ত্র। তিনি গৌতম চট্টোপাধ্যায়। এবছরের সেরা বাঙালি, লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট সম্মান পেয়েছেন তিনি। পৃথিবীর বাইরে জীবনের খোঁজে চলছে তাঁর গবেষণা। ছোট দেখা স্বপ্নের অনেক কিছুই পূরণ করেছেন এই বাঙালি বিজ্ঞানী। ধূমকেতুদের রহস্যময় জগতে পাড়ি দিয়েছেন তিনি। সবাইকে উপদেশ দেন 'নম্বরের পিছনে ছুটো না। যা পড়ছ তা বোঝার চেষ্টা করো। তাতেই আসবে সাফল্য।' 

হাতে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, গলায় ঝুলছে স্টেথোস্কোপ, শাড়ির ভাঁজে রিভলভার, ৫ মাসের সন্তানকে রেখে দেশের টানেই নেমেছিলেন ব্যাটেল ফিল্ডে 

পদ্মা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের সেরা সেরা বাঙালি সম্মান পেয়েছেন তিনি। ভারতের প্রথম মহিলা এয়ার মার্শাল, উত্তর মেরুতে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানকারী প্রথম ভারতীয় মহিলা, শত শত সাফল্য রয়েছে তাঁর জীবনে। দেশ তাঁর জীবনে আজও সবথেকে আগে। কখনও বসেছেন যুদ্ধবিমানে কো-পাইলটের সিটে, কখনও পায়ে হেঁটে যুদ্ধক্ষেত্রে। ১৯৭১- এর ভারত-পাক যুদ্ধ, ১৯৯৯- এর কার্গিল, পদ্মা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় অদম্য, দুঃসাহসী, দুর্ভেদ্য। ফৌজে গিয়েছিলেন মেয়ে, পরিবারকে একঘরে হতে হয়েছিল। তবে কোনও কিছুতেই হার মানেননি তিনি। সাহসিকতার জন্য পেয়েছেন একের পর এক মেডেল, প্রথম মহিলা এয়ার কমডো তিনি। জন্ম তিরুপতিতে। বেড়ে ওঠা দিল্লিতে। স্বামীর সঙ্গে আলাপও এয়ার ফোর্সের হাসপাতালেই। উইং কমান্ডার সতীনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় পা ভেঙে ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। গিটার হাতে দরাজ গলায় গাইছিলেন রবীন্দ্র সঙ্গীত। আর এই বাংলা গান, রবীন্দ্র সঙ্গীত বড় প্রিয় পদ্মাদেবীর। রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে যুক্ত থেকে এখনও দেশের জন্য, সমাজের জন্যই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। 

আরও পড়ুন
Sponsored Links by Taboola

সেরা শিরোনাম

Annapurna Yojana: ‘ফূর্তি করার জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নয়’, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র টাকা ফেরত দিতে হবে কাদের? জানালেন দিলীপ
‘ফূর্তি করার জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নয়’, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র টাকা ফেরত দিতে হবে কাদের? জানালেন দিলীপ
West Bengal News Today Live Updates: ৮৮ কিলোমিটার বেগে ঝড়, মাত্র ২ মিনিটে তছনছ কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত, মৃত ৭
৮৮ কিলোমিটার বেগে ঝড়, মাত্র ২ মিনিটে তছনছ কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত, মৃত ৭
Birbhum News: বীরভূমের বালি ব্যবসায়ীর বাড়িতে টাকার পাহাড়, উদ্ধার ৫০ লক্ষ টাকা, ৫০০ গ্রামের বেশি সোনা
বীরভূমের বালি ব্যবসায়ীর বাড়িতে টাকার পাহাড়, উদ্ধার ৫০ লক্ষ টাকা, ৫০০ গ্রামের বেশি সোনা
North 24 Pargana News: তৃণমূল নেতার ভাইয়ের জমির নীচে পোঁতা প্রচুর অস্ত্র, আগে বাড়িতে মিলেছিল ২৭ লক্ষ টাকা, ৬৬০ রাউন্ড গুলি
তৃণমূল নেতার ভাইয়ের জমির নীচে পোঁতা প্রচুর অস্ত্র, আগে বাড়িতে মিলেছিল ২৭ লক্ষ টাকা, ৬৬০ রাউন্ড গুলি

ভিডিও

Sange Suman পর্ব ২ (২৮.০৫.২৬): মাটির নীচে ২ কোটি ২৪ লক্ষ, বাদুড়িয়ায় উদ্ধার তৃণমূল নেতার গুপ্তধন!
Ghantakhanek Sange Suman পর্ব ১ (২৮.০৫.২৬): ভরাডুবির জেরে এবার সরাসরি 'মমতা-হঠাও'য়ের দাবি উঠল তৃণমূলে
Sohini Sengupta Exclusive: 'আমি নায়িকা হয়েছিলাম বলে শিবুর হল পেতে সমস্যা হয়েছে', সোজাসাপ্টা সোহিনী সেনগুপ্ত
ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন পর্ব ২(২৭.০৫.২৬)। চলে গেলেন 'ভূতের ভবিষ্যৎ'-এর স্রষ্টা, প্রয়াত অনীক দত্ত
ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন পর্ব১ (২৭.০৫.২৬)। কেন পদত্যাগ? এবিপি আনন্দর স্টুডিওয় তৃণমূলের ২ বিদ্রোহী নেতা

ফটো গ্যালারি

ব্যক্তিগত কর্নার

সেরা প্রতিবেদন
সেরা রিল
Plastic Currency Notes: ফের টাকার চেহারা বদল? কাগজ নয়, এবার প্লাস্টিকের নোট ছাপার ভাবনা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের
ফের টাকার চেহারা বদল? কাগজ নয়, এবার প্লাস্টিকের নোট ছাপার ভাবনা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের
Ritabrata Banerjee: বিরোধীর কথা বলা গণতন্ত্রের জন্য জরুরি, দুর্ভাগ্যজনক যে আগে বিরোধীরা ডাক পেতেন না: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
বিরোধীর কথা বলা গণতন্ত্রের জন্য জরুরি, দুর্ভাগ্যজনক যে আগে বিরোধীরা ডাক পেতেন না: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
Weather Update : কাল থেকে থেকে শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে প্রবল ঝড় বৃষ্টির পূর্বাভাস, কোন কোন জেলায় সতর্কতা?
আবহাওয়ার বিরাট বদল ! কাল থেকে থেকে শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে প্রবল ঝড় বৃষ্টির পূর্বাভাস, কোন কোন জেলায়?
Suvendu Adhikari: 'জলদি জলদি ভাগো, নাহলে এই সরকার যা করার করবে', বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
'জলদি জলদি ভাগো, নাহলে এই সরকার যা করার করবে', বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
Padma Shri: পদ্মশ্রী সম্মান নেওয়ার আগে মাটিতে শুয়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম, চেয়ার ছেড়ে উঠে এলেন মোদি
পদ্মশ্রী সম্মান নেওয়ার আগে মাটিতে শুয়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম, চেয়ার ছেড়ে উঠে এলেন মোদি
Padma Awards: পদ্মশ্রী পেলেন হরমনপ্রীত কৌর, প্রাপকের তালিকায় নাম থাকলেও কেন এলেন না রোহিত?
পদ্মশ্রী পেলেন হরমনপ্রীত কৌর, প্রাপকের তালিকায় নাম থাকলেও কেন এলেন না রোহিত?
8th Pay Commission : বেশি বেতন বাড়বে না ? অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় আপডেট
বেশি বেতন বাড়বে না ? অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় আপডেট
CM Suvendu Adhikari:'স্কুলের পড়ুয়াদের কেন নিম্নমানের ড্রেস, জুতো ? কোন সংস্থাকে বরাত.. ', নজর মুখ্যমন্ত্রীর
'স্কুলের পড়ুয়াদের কেন নিম্নমানের ড্রেস, জুতো ? কোন সংস্থাকে বরাত.. ', নজর মুখ্যমন্ত্রীর
Embed widget