বহিষ্কৃত ঋতব্রত ও সন্দীপনের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন তৃণমূলের এই ২ বিধায়ক, লক্ষ্য কী ?
Seuli Saha : বিধানসভার সই জাল, এই ঘটনা নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বহিষ্কৃত হলেন তৃণমূলের ২ বিধায়ক। তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে MLA হস্টেলে যান শিউলি সাহা ও জাভেদ খান। ঘটনা কী? কী পরিকল্পনা?

কলকাতা : বিধানসভার সই জাল, এই ঘটনা নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। জলঘোলা শুরু তৃণমূলের অন্দরে। সোমবার দুপুরে নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এরপর প্রকাশ্যে আসে সই জাল-কাণ্ড। মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূলের উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে বহিষ্কার করে দল। চিঠি দিয়ে ওই দু’জনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছেন তৃণমূলের সহ-সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বহিষ্কারের পর দুই বিধায়কই ক্ষোভ উগরে দিলেন। এবার এই 'কাটা ঘায়ে মলম দিতে' MLA হস্টেলে শিউলি সাহা ও জাভেদ খান। ২ বহিষ্কৃত বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। শিউলি সাহা জানান, ''দল থেকে বহিষ্কৃত, বিধায়ক পদ থেকে নয়। ওরা কিছু বলেনি, শুধু হায়, হ্যালো করলাম।''
ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে?
সই জাল-কাণ্ড নিয়ে সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা লিখিত ভাবে এই বিষয় নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন স্পিকারকে। তার ভিত্তিতেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কাছে বিষয়টি আসার পরেই তিনি সিআইডি-কে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মেনেই শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোমবার হাজিরা দিতে একটি নোটিশ পাঠায় CID। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা এড়ালে, আজ ফের ৭ মধ্যে পুনরায় হাজিরার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দেয় CID।
আরও পড়ুন - 'প্রতিবাদ করলেই শাস্তি,' বহিষ্কৃত হয়ে দলের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আনলেন সন্দীপন সাহা ?
বহিষ্কৃত হওয়ার পর সন্দীপন সাহা কী জানান?
বহিষ্কৃত হওয়ার পর তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, ''অনৈতিক কাজ দল করছে। আর যারা নৈতিকতার কাজ করল, একটা অনৈতিক বিষয়কে, অনিয়মের বিষয়কে সামনে নিয়ে এল, তাদেরকে যদি দল বহিস্কার বা সাসপেন্ড করে, তারমানে ভাবুন দল অনৈতিকতাকেই সমর্থন করছে। আর যারা নৈতিক কাজ করবে, দল তাদের সঙ্গে থাকবে না। একটা অ্যাটেনডেন্স খাতাতে সই করিয়ে সেটাকে রেজুলেশন-এ পরিবর্তন করে সেটা মাননীয় অধ্যক্ষর কাছে জমা দেওয়া হবে, এটা সম্পর্ণ আইন বহির্ভূত। এরকম বিরল ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আমরা বিধানসভার সদস্য হিসেবে কোথাও আমাদের মনে হয়েছে যে এই অনিয়মের অংশীদারি হতে চাই না বলেই আমরা এই বিষয়টা তুলে ধরেছি। এটা জালিয়াতি, এতে কোনও দ্বিমত নেই। এবং দল কীভাবে চলেছে, আমরা জানিও না, কারণ আমরা লাস্ট বেঞ্চার ছিলাম। দল যেভাবেই চলুক, মানুষ তার যোগ্য জবাব দিয়ে দিয়েছে। যারা সর্বোচ্চ নেতৃত্ব তারা অনৈতিক বিষয়কে নিয়ে এগোবার চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই আমরা করছি, আবারও করব।''
বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কী জানান?
তিনি বললেন, "তৃণমূল পার্টিটা প্রায় উঠে যাওয়ার পথে। উঠে যাবে। থাকবে না। এই দুর্নীতি নিয়ে একটা ফোর্স চলতে পারে না। চলবে না। মিলিয়ে নেবেন। এ পার্টি থাকবে না। পরিকল্পনার তো বিষয় নয়। আমি উলুবেড়িয়ার ভোটারদের কাছে দায়বদ্ধ। স্বাভাবিকভাবে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করব কী করব। দল থাকবে না এটা আমি নিশ্চিত। আমি শুধু কেন, আমাদের দলের অনেক প্রবীণ সাংসদও বলেছেন, দল থাকবে না। ''























